উত্তরাখণ্ড, যোশীমঠ : বদ্রীনাথ থেকে দেরাদুন আসার পথে যোশীমঠের কাছে ভেঙে পড়েছে একটি হেলিকপ্টার। এই দুর্ঘটনায় ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাহাড়ের পাশে রয়েছে JP Power House । এর কাছেই ভেঙে পড়েছে Trans Bharat Aviation - এর হেলিকপ্টারটি। জানা গিয়েছে, হেলিকপ্টারে থাকা পাইলট- সহ বাকি ৫ যাত্রীদের সকলেরই মৃত্যু হয়েছে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায়। শুক্রবার দুপুরে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। হেলিকপ্টারটি বদ্রীনাথ থেকে ওড়ার ৬৬ মিনিটের মধ্যে ভেঙে পড়ে যোশীপঠের কাছে।
শুক্রবার ১ টা ১৪ মিনিটে বদ্রীনাথ হেলিপ্যাড থেকে উড়েছিল এই হেলিকপ্টার। দেরাদুনের সহস্ত্রধারা হেলিপোর্টে অবতরণ করার কথা ছিল ওই হেলিকপ্টারের। যোশীমঠ উপত্যকার উপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় হেলিকপ্টারের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না ওই হেলিকপ্টারের। দুটো ট্র্যাকিং সিস্টেমই সিগন্যাল পাঠানো বন্ধ করে দেয়। এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যাবতীয় রেডিও যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর ২টো ২০ মিনিট নাগাদ স্থানীয় বাসিন্দারা প্রবল জোরে বিকট একটি শব্দ পান। আওয়াজের পাশাপাশি প্রচুর ধোঁয়া দেখতে পান তাঁরা। JP Power House- এর কাছে পাহাড়ের মধ্যে ভেঙে পড়েছিল ওই হেলিকপ্টারটি। জানা গিয়েছে, এই দুর্ঘটনাস্থল Hathi Parvat এলাকার একদম পিছনেই অবস্থিত।
কালীপুজোয় বাজি ফাটানো যাবে রাত ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে, আর কী কী নির্দেশিকা, ছট পুজোতেও বিশেষ নিয়ম
এই হেলিকপ্টার ভেঙে পড়ার ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে মোট ছয় জনের। হেলিকপ্টারের পাইলট হিমাংশু সবরওয়াল, যিনি দিল্লির বাসিন্দা, তিনি ছাড়াও আরও ৫ জন যাত্রী ছিলেন হেলিকপ্টারে। সকলেরই মৃত্যু হয়েছে। জানা গিয়েছে, এই ৫ যাত্রীদের সকলেই বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা। অরুণ সালুঙ্কে, শঙ্কর গৌড়া, সুধীর কে, এইচ এস নটরাজ, প্রতাপ নিঙ্গারাজু - এই ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাঁরা সকলেই বেঙ্গালুরুর বাসিন্দা। এঁদের মধ্যে অরুণ সালুঙ্কে ছিলেন বেঙ্গালুরু পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের অফিসার। অনুমান, অতিরিক্ত উচ্চতার বিপজ্জনক ভূখণ্ড এবং আবহাওয়াজনিত বেশ কিছু সমস্যার কারণেই এই হেলিকপ্টার ভেঙে পড়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে দুর্ঘটনার আসল কারণ নিশ্চিতভাবে জানার জন্য।
বদ্রীনাথের হেলিপ্যাড থেকে দেরাদুনের উদ্দেশে হেলিকপ্টার ওড়ার আগে সেলফিও তুলেছিলেন এক যাত্রী। ৪১ বছর বয়সী প্রতাপ বাচ্চিহাল্লি নিঙ্গারাজু একটি সেলফি ভিডিও রেকর্ড করেছিলেন যেখানে তাঁকে দেখা গিয়েছে হাসিমুখে। ফিরতি সফর শুরুর আগে বেশ আনন্দেই ছিলেন তিনি। তখন কে জানত যে ফেরার পথে এমন মৃত্যুফাঁদ অপেক্ষা করছে সকলের জন্য।
