কলকাতা: ফের চলন্ত ট্রেনে আগুন, তীব্র আতঙ্কে যাত্রীরা। উত্তরপ্রদেশের বিজনৌরে শহিদ এক্সপ্রেসের স্লিপার কোচে আগুন। চলন্ত ট্রেনে আগুনের জেরে যাত্রীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক । যাত্রীদের তৎপরতায় ট্রেন থামান চালক, নীচে নামেন যাত্রীরা । স্থানীয় দমকলের একাধিক ইঞ্জিন পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে । প্রায় এক ঘণ্টা পর ফের ট্রেন ছাড়ে, অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানা যায়নি।
কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?
রিপোর্ট অনুযায়ী, শুক্রবার রাত প্রায় ১১টা নাগাদ শহিদ এক্সপ্রেসের স্লিপার কোচ এস-৬ থেকে ধোঁয়া বের হতে শুরু করে। সেই সময় ট্রেনটি উত্তরপ্রদেশের নাগিনা এলাকার কাছ দিয়ে যাচ্ছিল। কোচের ভিতরে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়তেই যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ট্রেন থামানো হয় এবং নিরাপত্তার স্বার্থে যাত্রীদের কোচ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়।
প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, কোচের চার্জিং পয়েন্টের কাছে শর্ট সার্কিটের কারণে আগুন লেগে থাকতে পারে। যদিও আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন রেল আধিকারিকরা।
ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রেল পুলিশ, স্থানীয় পুলিশ এবং দমকলের কর্মীরা। ট্রেনে থাকা অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রের সাহায্যে আগুন নেভানোর কাজ শুরু হয়। প্রায় আধ ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর কোচের বৈদ্যুতিক তার এবং চার্জিং পয়েন্ট পরীক্ষা করা হয়।
রেলকর্মীদের প্রাথমিক পরীক্ষা ও মেরামতির পর রাত প্রায় ১১টা ৫০ মিনিট নাগাদ ট্রেনটিকে মোরাদাবাদের উদ্দেশে রওনা করানো হয় বলে রিপোর্টে জানানো হয়েছে। এই ঘটনার জেরে প্রায় আধ ঘণ্টা রেল চলাচল ব্যাহত হয়। তার প্রভাব পড়ে অন্য ট্রেনের যাতায়াতেও।
নাগিনা জিআরপি-র তরফে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় সমস্ত যাত্রী নিরাপদ রয়েছেন। তবে কয়েকটি ব্যাগ পুড়ে যাওয়ায় যাত্রীদের ব্যক্তিগত সামগ্রীর ক্ষতি হয়েছে। চার্জিং পয়েন্টের কাছে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লেগেছিল কি না, তা তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে। সময়মতো যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার ফলে বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
