ভাঙড়: ভোটের দামামা বাজতেই শুরু নেতাদের দল বদলের হিড়িক। কেউ তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে, কেউ বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে আবার কেউ তৃণমূল-বিজেপি ছেড়ে অন্যান্য পার্টিতে যোগদান করছে। এই বদলের কারণ নাকি দলের প্রতি ক্ষোভ, অভিমান, আবার কাজ করেও টিকিট না পাওয়া। এই অবস্থায় ভাঙড়ের রাজনীতিতেও দেখা দিল বড়সড় মোড়। তৃণমূল ছেড়ে আইএসএফে (ISF) যোগদান করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক আরাবুল ইসলাম।
ফুরফুরায় আইএসএফ দফতরে গিয়ে যোগদান করলেন আরাবুল ইসলাম। ১৬ মার্চ ফুরফুরায় পীরজাদা হোসেন সিদ্দিকির সামনে তৃণমূল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন সাসপেন্ডেড হওয়া তৃণমূল নেতা আরাবুল। সেই কথা মতো জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ তিনি তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে আইএসএফ-এ (ISF) যোগ দিলেন।
উল্লেখ্য, ভাঙড়ে তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা মানেই আরাবুল। কিন্তু বহু কারণের জন্য অনেকদিন ধরেই দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল তাঁর। দল থেকে বহিস্কৃতও হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বঙ্গের ভোট ঘোষণার পর তৃণমূল ছাড়লেন সাসপেন্ডেড তৃৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলাম। তারপর তিনি জানিয়েছিলেন, ''আজ থেকে আমি তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করলাম, নতুন জীবন শুরু করছি। বহিষ্কার তো আগেও করেছে দল। এখন দল আরাবুল ইসলামকে চেনে না। ৫ বার আমার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ৩ বার দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।'' দল ছাড়ার সিদ্ধান্তের পিছনে অভিমান ও ক্ষোভের কথাও জানিয়েছেন আরাবুল ইসলাম।
এদিকে, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের হয়ে টিকিট পেয়েছেন শওকত মোল্লা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, শওকতকে তৃণমূল বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে যান আরাবুল ইসলাম। সেই অভিমান থেকেই তিনি দলত্যাগ করেন। তবে, আরাবুলের ISF- এ যোগদান কিন্তু রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। ভাঙড়ে তৃণমূলের শওকতের বিপরীতে আইএসএফ-এর হয়ে যে আরাবুল ভোটে লড়তে পারেন সে বিষয়ে জল্পনা তুঙ্গে।
এবছর পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন হবে দুই দফায়। প্রথম দফায় রয়েছে ১৫২টি আসন, ভোট হবে ২৩ এপ্রিল। দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি আসন, ভোট হবে ২৯ এপ্রিল। ভোটগণনা হবে ৪ মে ।
প্রথম দফা (২৩ এপ্রিল) - ১৫২টি আসন। কোচবিহার, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি, বীরভূম, মালদা, মুর্শিদাবাদ, দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রামে ভোট গ্রহণ করা হবে।
দ্বিতীয় দফা (২৯ এপ্রিল) - ১৪২টি আসন। নদিয়া, কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব বর্ধমানে ভোট গ্রহণ করা হবে।
