কলকাতা: প্রায় একমাস পরেই ভোট, মতুয়াদের বার্তা প্রধানমন্ত্রী। মতুয়া ধর্মমেলায় আসা ভক্তদের শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্ট। তিনি ওই পোস্টে লিখেছেন, মতুয়া ধর্মমেলায় আগত সমস্ত ভক্ত এবং অংশগ্রহণকারীদের জানাই, আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন। এই বিশেষ তিথি পূর্ণ ব্রক্ষ্ম শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরজির জয়ন্তির সঙ্গে যুক্ত। আমি তাঁকে সশ্রদ্ধ প্রণাম নিবেদন করছি। তাঁর আদর্শ এবং শিক্ষা, আজও অগণিত মানুষকে, শক্তি ও আশার আলো দিয়ে চলেছে।...এটি আমাদের দেশের সামাজিক কাঠামোকে, উল্লেখযোগ্যভাবে সমৃদ্ধ করেছে। গত একদশকে, আমাদের সরকার মতুয়া সরকারের কল্যাণ, ক্ষমতায়ন এবং মর্যাদার প্রতি সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ থেকে, কাজ করে চলেছে।'
আরও পড়ুন, আমলা বদলের প্রতিবাদে রাজ্যসভা থেকে ওয়াকআউট তৃণমূলের
উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়ার একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রে মতুয়া ভোট বড় ফ্য়াক্টর। প্রথম ধাপে, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর বনগাঁর মতুয়া বাড়ির সদস্য় এবং বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের মুখে শোনা গেছে আশ্বাসের সুর।কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী ও বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর বলেন, কার নাম বাদ যাবে কী হবে সেটা আমরা বলতে পারব না, সেটা আমাদের বলারও কথা নয়। তবে এইটুকু নিশ্চয়তা দিতে পারি কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে, ২০২৪ সালের ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত যাঁরা এসেছে, তাদের কাউকে ভারতবর্ষ থেকে বাইরে পাঠানো হবে না। এই প্রেক্ষাপটে অনেকে আবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন, SIR-আবহে মতুয়ারা যখন দুশ্চিন্তায়, তখন এই শান্তনু ঠাকুরই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন। শান্তনু ঠাকুর বলেন, ৫০ লক্ষ রোহিঙ্গা মুসলমান, বাংলাদেশি মুসলমান, পাকিস্তানি মুসলমান যদি বাদ যায়, তার মধ্যে এক লাখ যদি আমাদের সমাজের মানুষকে যদি একটু স্টপ থাকতে হয়? ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হয় তাহলে কোনটা লাভ? ' এখন তাঁর আশ্বাস নিয়ে পাল্টা কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল।
রাজ্যে প্রায় ২ কোটি ৮৭ লক্ষ মানুষ নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ের। যার সিংহভাগই মতুয়া।বাংলার অন্তত ৮০টি বিধানসভা কেন্দ্রে মতুয়া ভোট বড় ফ্য়াক্টর।তাই সেই ভোটব্যাঙ্কের দিকে নজর থাকে সব দলের। একুশে এরাজ্য়ে বিধানসভা ভোটের সময় বাংলাদেশের ওড়াকান্দিতে মতুয়া ধর্মমতের প্রবক্তা হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মভিটেতে যান নরেন্দ্র মোদি। ওই বছর বিধানসভা ভোটের ফলাফলে দেখা যায়,মতুয়া অধ্যুষিত বনগাঁ ও রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত, ১৪টা বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ১২টিতে জয়ী হয় বিজেপি। ২০২৪-এর লোকসভা ভোটেও রানাঘাট ও বনগাঁ ধরে রাখে বিজেপি।কিন্তু SIR পর্বে যখন খসড়া তালিকায় বহু মতুয়ার নাম বাদ গেছে বলে অভিযোগ, তখন তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে মতুয়া ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতে চাইছে শাসক-বিরোধী সব পক্ষই।
