কলকাতা: দিল্লিতে ছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। সেখান থেকেই বৃহস্পতিবার আচমকা পদত্যাগের খবর। সংবাদসংস্থা পিটিআইকে পশ্চিমবঙ্গের 'প্রাক্তন' রাজ্যপাল বলেন, 'হ্যাঁ, আমি পদত্যাগ করেছি। আমি সাড়ে তিন বছর ধরে বাংলার রাজ্যপাল ছিলাম; আমার জন্য এটাই যথেষ্ট।' সূত্রের খবর, বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটে ফ্লাইটে দিল্লি যান তিনি। সেখানেই রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগ পত্র পাঠিয়েছেন তিনি।                             

Continues below advertisement

তবে তিনি তার আকস্মিক পদত্যাগের কারণ এবং কোনও রাজনৈতিক চাপের কারণে তার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কিনা তা প্রকাশ করেননি। এবার পশ্চিমবঙ্গের অস্থায়ী রাজ্যপাল হচ্ছেন তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল আর এন রবি। আনন্দ বোসের জায়গায় বাংলার অস্থায়ী রাজ্যপাল হচ্ছেন তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল।             

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিশ্চিত করেছেন যে বোসের পদত্যাগের পর তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল এবং প্রাক্তন ডেপুটি এনএসএ, আরএন রবি, পশ্চিমবঙ্গের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে বলেছেন, 'কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (অমিত শাহ) থেকে আমি জানতে পেরেছি যে আরএন রবি হবেন পশ্চিমবঙ্গের অস্থায়ী রাজ্যপাল'। 

Continues below advertisement

বর্তমানে তামিলনা়ড়ুর রাজ্যপাল আর এন রবি। এর আগে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই ও আইবি-র প্রাক্তন অফিসার ছিলেন আর এন রবি।  প্রাক্তন আইএএস অফিসারের পর এবার প্রাক্তন আইপিএস অফিসার পদে। প্রাক্তন আইপিএস অফিসার আর এন রবি পশ্চিমবঙ্গের অস্থায়ী রাজ্যপালের দায়িত্বে। 

তবে ভোটমুখী বঙ্গে প্রাক্তন আইপিএস অফিসারকে অন্তর্বর্তী রাজ্যপালের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টিকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।  

২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে তামিলনাড়ুর ১৫তম এবং বর্তমান রাজ্যপাল। পূর্বে তিনি নাগাল্যান্ড এবং মেঘালয়ের রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তামিলনাড়ুর ডিএমকে সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে তিনি বিতর্কে রয়েছেন। বিজেপি-বিরোধী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঘনিষ্ঠ’ বলে পরিচিত স্ট্যালিনের সরকারের সঙ্গে গত কয়েক বছরে বার বার সংঘাতে জড়িয়েছেন রবি।

চলতি বছরের শুরুতে তামিলনাড়ু বিধানসভায় জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননার অভিযোগ তোলেন রাজ্যপাল রবি। সরকারের লিখে দেওয়া ভাষণ পাঠ না করেই ছেড়েছিলেন অধিবেশন। রাজ্যপাল হিসেবে প্রশাসনিক ক্ষমতা অপব্যবহারের অভিযোগ, বিল আটকে রাখা (যাতে সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করে) এবং ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (NEET) বিল নিয়ে বিতর্কে বারবার তাঁর নাম আনা হয়েছিল।