কলকাতা: ভোটের নির্ঘন্ট প্রকাশের পর থেকে ভোট যুদ্ধের ময়দানে নেমে পড়েছে সমস্ত রাজনৈতিক দল। জোর কদমে চলছে প্রচার। বিজেপি, তৃণমূল, CPM থেকে ISF, কেউ কাউকে এক চুলও জায়গা ছাড়ছে না। দেওয়াল লিখনেও একে অপরকে টেক্কা দিচ্ছে দলগুলো। আর তার মাঝে সর্বপ্রথম ইস্তিহার প্রকাশ করল তৃণমূল। কালীঘাটের বাড়ির দফতর থেকে নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Continues below advertisement

মমতা জানান, যা যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তার প্রায় সবটাই পূরণ করা হয়েছে। তার বাইরেও আরও অনেক কাজ হয়েছে। তবে, ইস্তিহার প্রকাশের আগে বিজেপিকে রীতিমতো একহাত নিলেন তিনি। জানান, 'যেন তেন প্রকারেন বিজেপি চাইছে বাংলা দখল করে বাংলা রাজ্যটাকে তুলে দিতে চায়।'' পাশপাশি, বাংলার প্রশাসনিক কর্তাদের বদলি নিয়েও কটাক্ষ করেন নির্বাচন কমিশনকে।

ভোট নিয়ে বিজেপি কি চক্রান্ত করছে সে কথাও বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার মানুষদের তিনি বলেন 'কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ভয় পাবেন না। বর্ডার থেকে টাকা ঢোকাচ্ছে, অস্ত্র ঢোকাচ্ছে, মাফিয়া ঢোকাচ্ছে, দাঙ্গার চক্রান্ত করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করেছে, মুখে বলছে না, কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করছে। বিজেপির স্পর্ধাকে জব্দ করুন, আঘাত করলে মানুষ প্রত্যাঘ্যাত করবে।'

Continues below advertisement

তবে এই বিষয়ে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেয় বিজেপিও। BJP নেতা দেবজিৎ সরকার জানান, 'পরাজয়ের আতঙ্কে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই সব কথা বলছেন, উনি মানুষের সঙ্গে মাটি থেকে রাজনীতি করে উঠেছেন, উনি গন্ধ পাচ্ছেন, পরাজয়ের গন্ধ। সুতরাং এই পরিস্থিতিতে উনি এটা বলছেন মানে তৃণমূল হেরে গেছে। তৃণমূল যে আর নেই সেটা সবাই জানে, আর মানুষ যে তৃণমূলের সঙ্গে নেই সেটাও সবাই জানে।'' 

ইস্তেহারে যুব সাথীর পাশাপাশি, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়েও বড় আপডেট দিলেন মমতা। জানান, যারা এই প্রকল্পে টাকা পাচ্ছেন তাঁরা সারাজীবন এই টাকা পাবেন। তিনি বলেন, "লক্ষ্মীর ভাণ্ডার আমরা বৃদ্ধি করেছি। এবং বলে দিয়েছি, সারাজীবন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাবে। এখন সাধারণ মহিলারা পাচ্ছেন দেড় হাজার। মানে, বছরে ১৮ হাজার টাকা। আর তফসিলি জাতি এবং আদিবাসীদের জন্য ১৭০০ টাকা অর্থাৎ বার্ষিক ২০ হাজার ৪০০ টাকা।" তিনি এই বিষয়ে নাম না করে বিজেপিকে খোঁচা দিয়ে বলেন, "যদি কেউ বলে আমরা করব, তারা ভোটের সময় বলবে, কিন্তু পরে করবে না। কিন্তু, আমরা করে দেখিয়েছি।"