নয়া দিল্লি: মহারাষ্ট্রের ঐতিহাসিক শনিবারওয়াড়া দুর্গে নমাজ পড়ার অভিযোগে কয়েকজন মুসলিম মহিলা নমাজ পড়েছে, এই ভিডিও ভাইরাল হতেই তোলপাড়। শুক্রবারই ওই ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। প্রতিবাদে সরব হয়েছে হিন্দু সংঘঠনগুলি। কেল্লায় এই ঘটনার পর বিজেপি সাংসদ মেধা কুলকর্ণি ও তার দলের অনুগামীরা দুর্গ এলাকায় গিয়ে গোমূত্র দিয়ে ‘শুদ্ধিকরণ’ অনুষ্ঠান করেছেন।
শুক্রবার দুর্গে নমাজ পড়ার ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর পুরাতত্ত্ব বিভাগ স্থানীয় পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে। মেধা কুলকর্ণীর নেতৃত্বে বিজেপি কর্মীরা দুর্গ প্রাঙ্গণে গোমূত্র ও গোবর ছিটিয়ে ‘শুদ্ধিকরণ’ কর্মসূচি পালন করেন। ‘শুদ্ধিকরণ’ অনুষ্ঠানের পর মেধা কুলকর্ণি বলেন, ‘শনিবারওয়াড়া মারাঠা সাম্রাজ্যের প্রতীক। সেখানে নমাজ পড়া দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। এটি নমাজ পড়ার জায়গা নয়। এ বিষয়ে প্রশাসন যেন কঠোর ব্যবস্থা নেয়। আমরা সেখানে ‘শিব বন্দনা’ করেছি ও স্থানটি শুদ্ধ করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারা যেখানে নমাজ পড়ে, সেই জায়গাকে ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে দাবি করে। এ বিষয়ে হিন্দু সমাজ এখন সতর্ক।’ ১৭৩২ সালে নির্মিত এই দুর্গ একসময় ছিল মারাঠা সাম্রাজ্যের পেশওয়াদের রাজধানী। সেই ঐতিহাসিক স্থানে নমাজের ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিজেপি কর্মীরা।
অন্যদিকে মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী নীতেশ রানে বলেন, 'শনিবারওয়াড়া হিন্দুদের গৌরবের প্রতীক। যদি হিন্দুরা হাজি আলীতে হনুমান চালিসা পড়ে, মুসলমানদেরও কষ্ট লাগবে। তাই মসজিদেই নামাজ পড়া উচিত।’
অন্যদিকে, এআইএমআইএম মুখপাত্র ওয়ারিস পাঠান বলেন, ‘কয়েকজন নারী ৩ মিনিট নামাজ পড়েছে, এতে সমস্যা কোথায়? সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদে ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার দেয়া আছে। গোমূত্র নয়, মানসিকতা শুদ্ধ করা উচিত।’
এদিকে, ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা চরমে ওঠে যখন একদল প্রতিবাদকারী কাছের হজরত খজা সৈয়দ দরগা অপসারণের দাবি তোলে। পুলিশ তৎক্ষণাৎ হস্তক্ষেপ করে এবং লাঠিচার্জ করে ভিড় ছত্রভঙ্গ করে দেয়।