পেটে কাঁচি! তা নিয়েই কেটে গেল পাঁচটা বছর! বিরল ঘটনা কেরলে (Kerala)। অস্ত্রোপচারের পাঁচ বছর পর আলাপ্পুঝার ঊষা জোসেফ নামে এক মহিলার পেটে মিলল একটি কাঁচি। এক্স রে (X Ray) করানোর ফলে সামনে আসে এই ছবি। শুনতে অবিশ্বাস্য হলেও এমনটাই ঘটেছে কেরলে। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই কেরলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বীণা জর্জ (Veena George) জানান, তিনি এই সংক্রান্ত একটি প্রাথমিক রিপোর্ট পেয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের একটি দল ঘটনাটি বিস্তারিতভাবে যাচাই করে দেখবেন। 

Continues below advertisement

জানা যাচ্ছে, পুন্নাপ্রার বাসিন্দা উষা জোসেফ ২০২১ সালের ৫ মে আলাপ্পুঝার বন্দনম মেডিকেল কলেজে জরায়ু টিউমার অপারেশন করান। এরপর থেকেই তিনি ক্রমাগত পেটে ব্যথা অনুভব করতে শুরু করেন। শুরু হয় বিভিন্ন ধরনের শারীরিক জটিলতা। এত বছর ধরে তিনি বিভিন্ন ওষুধ খেয়ে সুস্থ থাকার চেষ্টা জারি রেখেছিলেন। এরপর চলতি সপ্তাহের শুরুতে এক্স-রে করার পরে আসল ঘটনা সামনে আসে। আর তাতেই ধরা পড়ে তাঁর পেটে এতদিন ধরে রয়েছে একটি কাঁচি!  

ঘটনা জানাজানি হতেই সেই অস্ত্রোপচারের সঙ্গে যুক্ত ডাঃ ললিতাম্বিকার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তবে তিনি বিষয়টি সম্পূর্ণ এড়িয়ে যান। কোনওরকম দায় নিতে অস্বীকার করেন তিনি। বরং জানান, ঊষা জোসেফের নাকি অতীতেও একাধিক অস্ত্রোপচার হয়েছিল। হয়তো সেই অস্ত্রোপচারগুলি করার সময়ে কোনও একটিতে এই দুর্ঘটনা ঘটে যায়। যদিও ঊষা জানিয়েছেন যে ২০২১ সালের মে মাসে আলাপ্পুঝার বন্দনম মেডিকেল কলেজে অস্ত্রোপচার ছাড়া তাঁর আর কোনও অস্ত্রোপচার হয়নি। 

Continues below advertisement

তাঁর আরও অভিযোগ, তীব্র ব্যথার বিষয়টি তিনি বারবার সামনে আনেন। প্রথমে তাঁকে বলা হয়েছিল কিডনিতে পাথরের কারণে এমনটা হচ্ছে। কিন্তু এক এক্স-রের ফলেই বদলে যায় ঘটনার অভিমুখ। তাঁর দাবি, একজন চিকিৎসক তাঁকে ঘটনাটি প্রকাশ্যে না আনার পরামর্শ দেন। যদিও তাঁর পরিবার আইনি পথে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ঊষাদেবীর ছেলে জানিয়েছেন কীভাবে তাঁর মা এত বছর ধরে যন্ত্রণার সঙ্গে দিন কাটিয়েছেন। প্রতিনিয়ত ব্যথা, প্রস্রাব করতে না পারা, দৈনন্দিন কাজ না করতে পারা - ঊষাদেবীর ছেলের কথায় ভেসে উঠেছে মায়ের অসহনীয় দিনযাপনের কাহিনি।   এদিকে কেরলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন যে সরকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। কীভাবে এমন ঘটনা ঘটতে পারে তা খতিয়ে দেখা হবে। এর জন্য বিশেষজ্ঞদের একটি দল গঠন করা হয়েছে। যাঁরা সম্পূর্ণ বিষয়টি আগাগোড়া পর্যালোচনা করে দেখবেন।