বেঙ্গালুরু: মুক্তহস্তে দান করেছে পুণ্যার্থীরা। সেই দানের অঙ্ক গুনতে হিমশিম খেলেন পুরোহিতরা। কর্নাটকের রায়চূড়ের একটি মন্দিরের ঘটনা। সেখানে সারি দিয়ে বসে টাকা গুনতে দেখা যায় পুরোহিতদের। পুণ্যার্থীরা এত টাকা দান করেন যে একার পক্ষে তা গোনা সম্ভব হয়নি। তাই সারি দিয়ে বসে পুরোহিতরাই টাকা গোনার কাজে হাত লাগান বলে খবর। শুধু টাকাই নয়, সোনা, রূপাও ঢেলে দিয়েছিলেন পুণ্যার্থীরা। (Raghavendra Swamy Mutt)
কর্নাটকের রাঘবেন্দ্র স্বামী মঠ থেকে পুরোহিতদের টাকা গোনার দৃশ্য সামনে এসেছে। গত বছর ওই মন্দিরে যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ব্রিটেনের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনক, তাঁর স্ত্রী অক্ষতা মূর্তিও বেঙ্গালুরুতে রাঘবেন্দ্র স্বামী মঠ দর্শনে গিয়েছিলেন। তাঁদের সঙ্গে মঠে দেখা গিয়েছি Infosys কর্তা নারায়ণ মূর্তি এবং তাঁর স্ত্রী, রাজ্যসভার সাংসদ সুধা মূর্তিকেও। অক্ষতা তাঁদের কন্যা, ঋষি জামাতা। সেখানে পুজো এবং আরতিতেও অংশ নেন সকলে। ২০২২ সালে কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গাঁধীও ওই মঠে যান। (Karnataka Temple)
সম্প্রতি সোশ্য়াল মিডিয়ায় যে দৃশ্য সামনে এসেছে, তাতে দেখা গিয়েছে মঠের পুরোহিতরা সব সারি দিয়ে বসে টাকা গুনে চলেছেন। ABP Ananda ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি। তবে এমন ভিডিও বেশ কয়েক বছর আগেও সামেন আসে। জানা যায়, ১৬ শতকের সন্ত রাঘবেন্দ্র স্বামীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে উৎসবের আয়োজন হয়েছিল মঠে। ফলে গত একমাস ধরে ভক্তদের আনাগোনা লেগেই ছিল। তাঁরা মুক্তহস্তে দান করেন মঠে। উৎসব শেষে সেই দানের টাকা গুনতে গিয়েই মাথায় হাত পড়ে সকলের। একার পক্ষে সম্ভব নয় বুঝে সকলেই টাকা গোনায় হাত লাগান। টাকা গোনার সময়, সোনা-রূপা ওজনের সময় পুলিশও মোতায়েন ছিল মঠে।
জানা যায়, নগদে মোট ৩ কোটি ৪৮ লক্ষ ৬৯ হাজার ৬২১ টাকা দান করেন ভক্তরা। সোনা দান করেন মোট ৩২ গ্রাম। ১.২৪ কেজি রূপাও দান করেন ভক্তরা। এক মাস ধরে মঠে যাঁরা আসেন, প্রত্যেকেই কিছু না কিছু দান করেন। আর তাতেই মঠের দানবাক্স উপচে পড়ে। এমনিতে বছরভরও মঠে ভক্তদের আনাগোনা লেগে থাকে। ভক্তিভাবে উদ্বেল হয়েই দানবাক্সে কিছু না কিছু দিয়ে যান সকলে। এবার উৎসব উপলক্ষে মুক্তহস্তে দান করে যান তাঁরা।
মঠে পুরোহিতদের টাকা গোনার দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়াতেও ছড়িয়ে পড়েছে, যা দেখে হতবাক নেটিজেনরা। পুরোহিতরা বসে টাকা গুনছেন, আর মাঝখানে টহল দিচ্ছে পুলিশ, এমন দৃশ্য সচরাচর চোখে পড়ে না বলে মত তাঁদের। দক্ষিণ ভারতে রাঘবেন্দ্র স্বামী মঠ পুণ্যার্থীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁরা দ্বৈতবাদে বিশ্বাসী। হিন্দু ধর্মে দ্বৈতবাদের উল্লেখ পাওয়া যায় দ্বৈত বেদান্ত দর্শনে।