New Labour Codes: এক বছরেই মিলবে গ্র্যাচুইটি, মহিলা-পুরুষ সমান বেতন, শ্রম বিধির খসড়া নিয়ম প্রকাশিত

Draft Labour Code Rules: নয়া শ্রম বিধি নিয়ে কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা? ছবি: ABP Live AI, ফাইল চিত্র।

Continues below advertisement

ছবি: ABP Live AI.

Continues below advertisement
1/17
চারটি শ্রমবিধির খসড়া বিধিনিয়ম প্রকাশ করল কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার। ঢের আগেই সংসদে চারটি শ্রম বিধি পাস হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু এখনও পর্যন্ত দেশব্যাপী তা কার্যকর হয়নি। নয়া শ্রম বিধি নিয়ে ইতিমধ্যেই আপত্তি জানাতে শুরু করেছে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। সেই আবহেই বুধবার খসড়া বিধিনিয়ম প্রকাশ করল কেন্দ্র।
2/17
কেন্দ্রের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রকের তরফে নয়া শ্রম বিধি নিয়ে সকলের মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে। খসড়া বিজ্ঞপ্তি জারির পর ৩০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে শ্রমবিধি নিয়ে আপত্তি, সুপারিশ জানানো যাবে। শলা-পরামর্শ পর্ব শেষ হলে চূড়ান্ত শ্রম বিধি নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করবে কেন্দ্র। মার্চ মাসে যদি চূড়ান্ত বিধিনিয়ম জারি করা যায়, সেক্ষেত্রে আগামী ১ এপ্রিল থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে।
3/17
এই আইন কার্যকর হলে ছোট সংস্থাগুলি বিপদে পড়তে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। মাঝারি, ছোট ও ক্ষুদ্র শিল্পের উপর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে। কর্মী রাখার খরচ বাড়লে, তাদের লাভের অঙ্ক কমতে শুরু করবে বলে আশঙ্কা। এতে যখন ইচ্ছে কর্মীদের ছাঁটাইকার হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।
4/17
মজুরির সংজ্ঞা বেঁধে দিতে গিয়ে কেন্দ্র বেতন, ভাতা ও অন্যান্য খাতে প্রাপ্য সমস্ত অর্থের কথাই উল্লেখ করেছে। বলা হয়েছে, মূল বেতন, মহার্ঘ ভাতা এবং রিটেনিং অ্যালাওয়েন্স বাদ দিয়ে অন্যান্য ভাতার পরিমাণ যদি মোট আয়ের ৫০ শতাংশের বেশি হয়, সেক্ষেত্রে ৫০ শতাংশের থেকে বেশি পরিমাণ অর্থ বেতনে যুক্ত হবে।
5/17
তবে কাজের নিরিখে প্রাপ্য ভাতা, সংস্থায় কর্মীদের শেয়ার, খরচ বেতনের অংশ হবে না। আবার ছুটির বিনিময়ে যে টাকা পাওয়া যায়, ভাতার অংশ হবে না তা। ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর শ্রম বিধি নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারির দিন থেকে গ্র্যাচুইটির হিসেব হবে। কর্মীরা টানা একবছর কাজ করলে গ্র্যাচুইটি দিতে হবে তাঁদের।
Continues below advertisement
6/17
কাজের সময়, সাপ্তাহিক সীমা ও নাইট ডিউটি নয়া শ্রম বিধিতে গোটা সপ্তাহে কাজের সময় ৪৮ ঘণ্টা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তবে দৈনিক কত ঘণ্টা কাজ করতে হবে, কত ঘণ্টা বিশ্রাম পাবেন কর্মীরা, তা সংশ্লিষ্ট সংস্থা ঠিক করতে পারবে। দিনে আট ঘণ্টা কাজের নিরিখে ঠিক হবে মজুরি। ওভারটাইমে, ছুটির দিন এবং বিকল্প ছুটির ক্ষেত্রে মজুরি কী হবে, তার দিকনির্দেশও করেছে কেন্দ্র।
7/17
বিশেষ ভাবে নাইট ডিউটির কথা বলা হয়েছে। রাতে ডিউটি করলে, কাজের সময়সীমা মধ্যরাত পেরিয়ে গেলে মজুরির হিসেব কী হবে, তাও জানিয়েছে কেন্দ্র। উৎপাদন, পরিষেবা, লজিস্টিকস এবং তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে ২৪ ঘণ্টা কাজ চলে।
8/17
নয়া বিধিনিয়মের আওতায় সন্ধে থেকে ভোর পর্যন্ত কাজের সময়কালকে নাইট শিফ্ট বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মহিলাদেরও নাইট শিফ্টে রাখা যেতে পারে, তবে সেক্ষেত্রে তাংদের সম্মতি থাকা প্রয়োজন যেমন, তেমনই কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার যথাযথ ব্যবস্থা থাকতে হবে।
9/17
সময়ে মজুরি মেটানো এবং কাটছাঁট খসড়া বিধিনিয়মে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মজুরি মেটাতে হবে। কর্মীর মোট মজুরির ৫০ শতাংশের বেশি টাকা কোনও অবস্থাতেও কাটা যাবে না। যদি কোনও কারণে কাটছাঁটের হার ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়, সেক্ষেত্রে ধাপে ধাপে সেই টাকা মিটিয়ে দিতে হবে।
10/17
কোনও রকমের কাটছাঁট বা জরিমানার ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাকে যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে চলতে হবে, যেমন- কর্মীকে আগে জানাতে হবে বিষয়টি। কর্মীকে নিজের বক্তব্য জানানোর সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি, মজুরি থেকে যাবতীয় কাটছাঁট, জরিমানা সংক্রান্ত বিশদ তথ্য নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে জমা দিতে হবে ইনস্পেক্টর তথা ফেসিলিটেটরের কাছে। অযৌক্তিক কাটছাঁট রুখতে, নিয়োগকর্তাকে জবাবদিহিতে বাধ্য রাখতে এবং কর্মীদের সুরক্ষা দিতেই এমন পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।
11/17
অংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীদের নিরাপত্তা এবং তরুণদের নিযুক্তি তফসিলের অন্তর্ভুক্ত এবং তার বাইরে থাকা কর্মীদের মধ্যে আর ফারাক থাকছে না। মজুরির বিধিনিয়ম সব কর্মীদের ক্ষেত্রেই কার্যকর, যার মধ্যে অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীরা রয়েছেন, ঠিকে কর্মীরাও রয়েছেন এবং চুক্তিভিত্তিক কর্মীরাও রয়েছেন। ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সিরা এই মজুরি সুরক্ষার আওতায় পড়ছেন। অর্থাৎ অসংগঠিত কাজ করেন যে তরুণ-তরুণীরা, তাঁরাও ন্যূনতম মজুরি ও সময় মতো মজুরি পাওয়ার দাবিদার।
12/17
অসংগঠিত ক্ষেত্রে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সিদের জন্য আধার-লিঙ্কড রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। ফলে কেউ যদি এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে চলে যান বা চাকরি বদল করেন, বিমা, পেনশনের মতো সামাজিক সুরক্ষা পাবেন তিনিও।
13/17
‘টেক হোম’ বেতন কমলে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হতে পারে খেটে খাওয়া মানুষকে। বেসিক বেতনে বেশি টাকা ঢুকে গেলে, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুইটিতে আরও কাটছাঁট হতে পারে বলে আশঙ্কা।
14/17
অভিযোগ, আবেদন ও আইনি প্রয়োগ অনিয়ম হলে আইনি অভিযোগ দায়ের করতে পারেন কর্মীরা। আইনি অভিযোগ জানাতে পারেন কম মজুরি পেলে, সময়ে মজুরি না পেলে, ওভারটাইমের টাকা না পেলে, বোনাস না পেলে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশের বিরুদ্ধে আবেদন জানানোর জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা ও পদ্ধতিও বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্র।
15/17
ইনস্পেক্টর বা ফেসিলিটেটর নিয়োগ কর্তাকে পথ দেখাতে পারেন, নিয়ম মেনে চলতে সাহায্য় করতে পারেন, স্বচ্ছতা আনতে পারেন। কতদিনের মধ্যে অভিযোগের নিষ্পত্তি করতে হবে, টাকা মিটিয়ে দিতে হবে, তাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
16/17
মহিলা কর্মী, সমান মজুরি ও মজুরি কার্যকর সমান কাজের জন্য মহিলারাও পুরুষদের সমান মজুরি পাবেন। আগেও এই নীতি প্রচলিত ছিল, তবে তা ছিল Equal Remuneration Act-এর অধীনে। বর্তমানে সেটিকে ‘সমান কাজে, সমান মজুরি’র আওতায় আনা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে আগের আইন। লিঙ্গভিত্তিক তথ্য মজুত রাখতে হবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে, যাতে মজুরিতে বৈষম্য হলে সহজেই চিহ্নিত করা যায় এবং পদক্ষেপ করা যায়। কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের পরিবার হিসেবে শ্বশুর-শাশুড়িকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ফলে মজুরি এবং সামাজিক সুরক্ষার পরিসর আরও বর্ধিত হবে।
17/17
বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ইতিমধ্যেই এই শ্রম বিধির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। আন্দোলনের ডাকও দিয়েছে তারা। সেই নিয়ে Grassik Search-এর ডিরেক্টর রাজীব ঠাকুরও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, কর্মীদের বেতন বাড়াতে হলে, সরাসরি গ্রাহকের উপর সেই খরচের বোঝা গিয়ে চাপবে। সামাজিক সুরক্ষার উপর জোর দেওয়ায়, ‘টেক হোম’ বেতন কমতে পারে। চাকরির সুরক্ষাও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন তিনি।
Sponsored Links by Taboola