Durga Puja Story: মহাদেবের বাম উরুতে আসীন মা দুর্গা, হরগৌরীর অভিনব মূর্তি পুজো হয় পূর্ব বর্ধমানের এই জমিদার বাড়িতে

Durga Puja 2025: চোখ বেঁধে মাতৃমূর্তি তুলে নিয়েছিল এক শিশুকন্যা, তারপরেই শুরু হয় পুজো! অবাক করবে পশ্চিমবঙ্গের এই জায়গার দুর্গোৎসব

চোখ বেঁধে মাতৃমূর্তি তুলে নিয়েছিল এক শিশুকন্যা, তারপরেই শুরু হয় পুজো! অবাক করবে পশ্চিমবঙ্গের এই জায়গার দুর্গোৎসব

1/10
আর কয়েকটা দিন পেরোলেই পুজো। আকাশে পেঁজা তুলোর মতো মেঘ ভেসে ভেসে খবর দিয়ে যাচ্ছে আগমনীর। মাতৃ প্রতিমা বলতেই আপামর বাঙালির মনে আসে, দশভূজা দেবীর প্রতিমা। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের অনেক জায়গাতেই রয়েছে এমন সব মূর্তি আর তাকে জড়ানো সব ইতিহাস, যার কথা জানেন না অনেকেই।
2/10
কথা হচ্ছে, পূর্ব বর্ধমানের বড়শুলের 'দে' বাড়ির পুজোর। এখানে লক্ষ্মী বা সরস্বতীর বাহন নেই, মহাদেবের বাম উরুতে আসীন থাকেন, মা দুর্গা। অনুমানিক আড়াইশো বছর ধরে পূজিত হচ্ছেন এই বাড়ির 'হরগৌরী'।
3/10
এই বাড়ির ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, বড়শুলের জমিদার বাড়ির জমিদার তখন যাদব চন্দ্র দে। প্রথমে তিনি ঘটেপটে পুজো শুরু করেন। জমিদার গৌরপ্রসাদ দে এর আমল থেকে মুর্তিপুজো শুরু হয়। একটা মতে জানা যায়, গঙ্গাসাগরে যেসব সাধুসন্তরা যেতেন তারা দেবীকে হরগৌরী রূপে পুজো করার পরামর্শ দেন।
4/10
মনে করা হত, দেবীকে এই রূপে পূজা করলে ধন-সম্পত্তি বৃদ্ধি পায়। অন্য আরও একটি মতে জানা যায়, তৎকালীন সময়ে বড়শুলের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া দামদর নদ দিয়ে ব্যবসা বাণিজ্য চলতো। আবার বড়শুলের খুব কাজ দিয়ে গিয়েছে গ্রাণ্ড ট্যাঙ্ক রোড অর্থাৎ জিটি রোড।দামোদর নদ ও জি টি রোড কাছাকাছি হওয়ায় একসময় এই জমিদার বাড়িতে সাধুসন্তরা এসে থাকতেন।
5/10
কথিত আছে, জমিদার গৌরপ্রসাদ দে-র আমলে তেমনই সাধুসন্তরা এসে ঝোলা থেকে বেশ কয়েকটি মা দুর্গার বেশ কয়েকটি রূপের মাটির পুতুল বের করেছিলেন। তারপর পরিবারের এক শিশুকন্যার চোখ বেঁধে একটি পুতুল তুলতে বলেছিলেন তাঁরা। সেই কন্যা শিশু হরগৌরীর পুতুলটি তুলেছিল। সেই থেকেই হরগৌরীর পুজো শুরু হয় এখানে।
6/10
কিন্তু এই পরিবার ছিল বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষিত। মূর্তি বাছাই করে নেওয়ার পরে, তাঁরা গুরুদেবের শরণাপন্ন হন, কী রীতিতে দেবীর আরাধনা করা হবে তা নিয়ে। গুরুদেবের পরামর্শে শাক্ত মতে, গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা অনুসারে পুজো শুরু হয় এখানে। তাঁর পরামর্শেই সপ্তমীতে গোটা ছাঁচিকুমড়ো বলি দেওয়া হয়। অষ্টমীতে ছাগবলি হয়। নবমীতে তিনটে ছাঁচিকুমড়ো, চারটি শসা, বাতাবি লেবু ও মূলসহ তিনটি আখ বলি দেওয়া হয়। তবে বলি দেওয়া কোনও জিনিসই এই পরিবারের কেউ আহার করতে পারেন না।
7/10
আগে সন্ধিপুজোয় বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা বাড়ির পুজোর কামানের আওয়াজ শুনে সন্ধিপুজোর বলিদান শুরু হত। বর্তমানে তা অতীত।সর্বমঙ্গলা মন্দিরে কামান দাগা কয়েক দশক আগেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে ঘড়ির সময় দেখেই বলিদান হয়।
8/10
এই জমিদার পরিবারের একসময় তাম্বুল, লবণ ও জাহাজের কারবার ছিল। দামোদর নদ ব্যবহার করে ব্যবসা বাণিজ্য করা হত। সেই আমলের জমিদারির নিদর্শন ছড়িয়ে রয়েছে বড়শুলের একটা বড় অংশে। কলকাতা থেকে ১৯ নং ধরে এসে বড়শুল মোড় বা জাতীয় সড়ক থেকে শক্তিগড় স্টেশন যাবার জন্য জাতীয় সড়ক থেকে নেমে প্রায় দেড় কিলোমিটার গিয়ে ডানদিকে বাঁক নিয়ে গলি রাস্তা ধরে গেলেই পৌঁছে যাওয়া যাবে 'দে'বাড়ি। অতীতের আভিজাত্য, ঐতিহ্য, ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে বিশাল বিশাল অট্টালিকা। পলেস্তারা খসে পড়েছে অনেক জায়গায়। সরু ইটেও ক্ষয় ধরেছে। ঠাকুর বাড়িতে ঢোকার একটা সিংহ দরজা ভেঙে যাওয়ায় নতুন করে করতে হয়েছে।
9/10
তবে কয়েকটি বাড়িতে এখনও পরিবারের উত্তরসূরিরা বসবাস করেন। বাকি বাড়ি ফাঁকাই পড়ে রয়েছে। অনেকে অন্যত্র বসবাস করেন। কাছারি বাড়ির ঠিক উল্টো দিকেই রয়েছে ঠাকুরদালান। সেখানেই রয়েছেন হরগৌরী। একটু দূরে রয়েছে কূলদেবতা রাজরাজেশ্বর জিউ মন্দির। একসময় ঠাকুরদালানে রেড়ির তেলে ঝাড়বাতি জ্বলে উঠত। দুর্গাপুজো উপলক্ষে আলোয় জলমল করে উঠতো ঠাকুরদালান সহ জমিদার বাড়ি।
10/10
ঠাকুরদালানের প্রবেশ পথে ছিল বিশাল ঘণ্টা। কুইন্ট্যাল খানেক ওজন ছিল তার। সেই ঘন্টা বর্তমানে আর নেই। বর্তমানে পুজোয় আলো জ্বললেও এখন বৈদ্যুতিক ঝাড়বাতি লাগানো হয়। পুজোয় সেই জৌলুস এখন অনেকটাই ফিকে হয়েছে। কিন্তু পরম্পরা মেনে আজও নিয়ম নিষ্ঠার সহিত হরগৌরীর আরাধনা হয় 'দে' পরিবারে। আগে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হত। মহিলারা পর্দানসীন থেকে তা দেখার সুযোগ পেতেন। তবে পুজোয় পরিবারের মহিলাদের অংশগ্রহণ বরাবরই রয়েছে এখানে। দশমীর দিনে দেবীকে বাঁশের সাং বেঁধে কাঁধে করে গোটা গ্রাম ঘুড়িয়ে বিসর্জন করা হয়। আগের সেই আভিজাত্য না থাকলেও পরিবারের সব সদস্যরাই দুর্গাপুজোতে অংশগ্রহণ করেন।
Sponsored Links by Taboola