Countries With no Constitution: লিখিত কোনও সংবিধানই নেই, পৃথিবীর এই দেশগুলিতে...

ছবি: ফ্রিপিক।
গণতান্ত্রিক দেশের ভিত্তি সংবিধান। সেই সংবিধান অনুযায়ীই শাসনকার্য পরিচালিত হয়। দেশের আইন-কানুন তৈরি হয় সেই মতো।
কিন্তু পৃথিবীতে এমন একাধিক দেশ রয়েছে যাদের কোনও লিখিত সংবিধান নেই। কোনও ছোটখাটো দেশ নয়, তাবড় শক্তিধর দেশ রয়েছে এই তালিকায়।
ব্রিটেনে ‘অলিখিত সংবিধান’ রয়েছে। অর্থাৎ অন্য দেশের মতো বিধি-নিয়ম সম্বলিত কোনও নির্দিষ্ট নথি নেই। বরং ব্রিটেনে শাসনকার্য পরিচালিত হয় সংসদে চালু আইন, আদালতের নির্দেশ এবং নির্দিষ্ট রাজনৈতিক অবস্থানের মাধ্যমে।
নিউজিল্যান্ডেরও লিখিত কোনও সংবিধান নেই। ১৯৮৬ সালের সাংবিধানিক আইন-সহ কিছু নথির ভিত্তিতে সেখানে শাসনকার্য পরিচালিত হয়।
লিখিত সংবিধান নেই সৌদি আরবেরও। ‘কোরানে’র আদর্শকে অবলম্বন করে, পয়গম্বর মহম্মদের দেখানো পথেই সেখানে সবকিছু পরিচালিত হয়।
লিখিত সংবিধান নেই ইজরায়েলেরও। ১৯৪৮ সালে দেশ স্থাপনের পাঁচ মাসের পর সংবিধান তৈরির কথা থাকলেও, সেই নিয়ে ঐক্যমত্য তৈরি হয়নি। ফলে সংবিধান ছাড়াই ইজরায়েল টিকে আছে।
কানাডার সংবিধান থাকলেও, সেটি লিখিত আবার অলিখিতও। কারণ ১৮৬৭ সালের বিধিনিয়মের কিছু লিখিত সংস্করণ থাকলেও, ১৯৮২ সালের আইন অনুযায়ী, অলিখিত নিয়মকানুন অনুযায়ীই দেশ চলে।
সংবিধান থাকা না থাকা নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। এর কিছু সুফল রয়েছে যেমন, তেমনই কুফলও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্দিষ্ট সংবিধান না থাকলে নাগরিকদের সুবিধা মতো আইন-কানুন তৈরি করা এবং তা পাল্টানো সহজ হয়। সেক্ষেত্রে ঝুটঝামেলা থাকে না।
সংবিধানের নামে সবকিছুকে বেঁধে ফেলার পক্ষপাতী নন কেউ কেউ। তাঁদের মতে, সময়ের সঙ্গে সমাজ ও সংসারের অগ্রগতি হবে যেমন যেমন, সেই মতো আপনাআপনিই মানুষ অভ্যস্ত হয়ে উঠবেন। তার জন্য লিখিত নিদানের প্রয়োজন নেই।
কিন্তু সংবিধান না থাকলে দেশের সমাস-সংসারে একরকমের অনিশ্চয়তা তৈরি হয় বলে মত বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁদের মতে পরিষ্কার ভাবে আইন-কানুন লেখা না থাকলে ক্ষমতার অপব্যবহার ঘটে। বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা থাকে না।