Pakistani Man Found in Melting Glacier: ৩০ বছর ধরে নিখোঁজ পাকিস্তানি যুবক, অবশেষে দেহ উগরে দিল হিমবাহ, ঠিক কী ঘটেছিল?
Body Found in Melting Glacier: তিন দশক ধরে নিখোঁজ ছিলেন যুবক। অবশেষে দেহ উগরে দিল হিমবাহ। ছবি: ফ্রিপিক।
ছবি: ফ্রিপিক।
1/11
বাড়ি থেকে বেরিয়ে হঠাৎই নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন। নয় নয় করে তিন দশক ধরে তল্লাশি চললেও, খোঁজ মেলেনি যুবকের। এত বছর পর যাও বা খোঁজ মিলল, পাওয়া গেল নিথর দেহ।
2/11
পাকিস্তানের উত্তরে অবস্থিত ছবির মতো অঞ্চল কোহিস্তান। ১৯৯৭ সালের জুন মাসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা, সেখানকার সুপাট ভ্য়ালি বেড়াতে গিয়েছিলেন দেশের নাগরিক নাসিরুদ্দিন। সেই থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি।
3/11
শেষ বার নাসিরুদ্দিনকে একটি গুহায় দেখা গিয়েছিল। গুহার মধ্যে তিনি বিশ্রাম নিতে গিয়েছিলেন বলে জানা যায়। কিন্তু এর পর কার্যত উবে যান নাসিরুদ্দিন। তন্নতন্ন করে খুঁজেও আর হদিশ মেলেনি তাঁর।
4/11
স্ত্রী এবং দুই সন্তানকে রেখে বেরিয়েছিলেন নাসিরুদ্দিন। ওই গুহা, তার আশপাশের এলাকায় চিরুণি তল্লাশি চালান পরিবারের লোকজন, পুলিশ। কিন্তু নাসিরুদ্দিনের চিহ্ন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি। নাসিরুদ্দিনের পরিণতি না জানার যন্ত্রণা নিয়েই এতবছর বেঁচে ছিল পরিবার।
5/11
কিন্তু গত ৩১ জুলাই, প্রায় তিনদশক পর ফের ঘরের ছেলের খবর জানতে পারেন নাসিরুদ্দিনের পরিবারের লোকজন। ওমর খান নামের এক রাখাল গরু-বাছুর নিয়ে বেরিয়েছিলেন। সেই সময় গলে নেমে আসা হিমবাহের মধ্যে একটি দেহ দেখতে পান তিনি।
6/11
বিবিসি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওমর বলেন, “প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। জামাকাপড় কিছু ছেঁড়েনি। দেহও একেবারে অক্ষত ছিল। গলায় ঝুলছিল আইকার্ড।” নাসিরুদ্দিনকে দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে মাঝে প্রায় ৩০ বছর কেটে গিয়েছে। তাঁর গলার আইকার্ড ধরেই পরিবারের খোঁজ মেলে। তিন দশক পর ছেলের খোঁজ পান পরিবারের লোকজন।
7/11
কিন্তু তিন দশকেও নাসিরুদ্দিনের দেহ অক্ষত রইল কী করে? বিশেষজ্ঞদের মতে, এটিকে কুইক ফ্রিজিং প্রসেস বলা হয়। অর্থাৎ হিমবাহের বরফ গ্রাস করে ফেলে নাসিরুদ্দিনকে। প্রচণ্ড ঠান্ডায় প্রাকৃতিক ভাবেই তাঁর দেহ মমিতে পরিণত হয়। হিমবাহের বরফের আস্তরণের নীচে চাপা পড়ায় অক্সিজেন, আর্দ্রতা ছুঁতে পারেনি তাঁকে।
8/11
পাকিস্তানে সব মিলিয়ে প্রায় ৭ হাজার হিমবাহ রয়েছে। মেরু অঞ্চলকে বাদ দিলে, পাকিস্তানেই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক হিমবাহ রয়েছে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের জেরে গলে যাচ্ছে হিমবাহগুলি। পাকিস্তানের উত্তরের এমন বেশ কয়েকটি হিমবাহ কার্যত গায়েব হয়ে গিয়েছে। তুষারপাতও বন্ধ হওয়ার উপক্রম।
9/11
জলবায়ু পরিবর্তনের জেরে তাপমাত্রা যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনই সরাসরি সূর্যালোক পড়ে হিমবাহ গলছে। যে গুহায় শেষ বার আশ্রয় নিয়েছিলেন নাসিরুদ্দিন, সেখানে তাঁকে হিমবাহ গ্রাস করে ফেলে। এত বছর পর যখন গলতে শুরু করলে এতদিন সংরক্ষণ করে রাখা নাসিরুদ্দিনের দেহটি কার্যত উগরে দেয় ওই হিমবাহ।
10/11
নাসিরুদ্দিনের ভাইপো উবেদ বলেন, “ওঁর খোঁজ পেতে চেষ্টায় কোনও ত্রুটি ছিল না। কতবার ওই হিমবাহে পর্যন্ত যাওয়া হয়েছে। খোঁড়াখুঁড়ি করে দেহ পাওয়া যায় কি না, দেখা হয়। কিন্তু কিছুতেই সুরাহা হয়নি। ওঁর সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছিল, এতদিন পর অন্তত জানতে পারলাম আমরা।”
11/11
এমন ঘটনা এই প্রথম ঘটল না। গত বছরই ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক জানায়, প্রায় ১০০ বছর আগে মাউন্ট এভারেস্ট ছুঁতে যাওয়া পর্বতারোহী স্যান্ডি আরভিনের দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে।
Published at : 19 Aug 2025 04:18 PM (IST)