Alternate Dimensions: একই জায়গা, একই চেহারা ঘুরেফিরে আসে স্বপ্নে? স্থান-কালের বেড়াজাল পেরিয়ে অন্য দুনিয়ায় প্রবেশ করে চেতনা?

ছবি: ফ্রিপিক।
ঘুমের মধ্যে নানা স্বপ্ন দেখি আমরা। কখনও ভাল স্বপ্ন দেখি, কখনও আবার দুঃস্বপ্ন দেখে ভেঙে যায় ঘুম। কিন্তু কিছু স্বপ্ন মনকে বিচলিত করে তোলে। স্বপ্নে দেখা কোনও জায়গা, কোনও মানুষ, কোনও চিহ্ন বা চারপাশের পরিবেশকে অত্যন্ত পরিচিত মনে হয়। স্বপ্ন নয়, যেন বাস্তব।
ঘুম ভাঙার পর সেই নিয়ে বেশ খানিক ক্ষণ সেই নিয়ে তোলাপড়া করলেও, একটা সময় পর সেই স্বপ্নের রেশ কেটে যায়। একটা সময় পর সেই স্বপ্নের কথা ভুলে যাই আমরা। আবার কখনও একই জায়গা, একই চেহারা স্বপ্নে ভেসে উঠলে পুরনো ভাবনা ভর করে মাথায়।
কিন্তু ঘুমের মধ্যে দেখা স্বপ্ন যদি শুধু স্বপ্ন না হয়, অন্য কোনও দুনিয়ার, অন্য কোনও বাস্তবের অংশ হয় যদি? ঘুমের মধ্যে শরীর অবশ হয়ে গেলেও, আমাদের সচেনতা বোধ যদি সেই দুনিয়ায় প্রবেশ করতে সক্ষম হয়?
বিশেষ করে একই ধরনের স্বপ্ন যদি ঘুরেফিরে আসে, স্বপ্নে যদি একই জায়গা, একই মানুষ, একই রকমের ঘটনাবলী বা বার দেখি, সেক্ষেত্রে অন্য, সমান্তরাল এক মহাবিশ্বের সঙ্গে আমাদের মস্তিষ্কের সংযোগ ঘটে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
মেটাফিজিক্স এবং এপিস্টেমোলজি নিয়ে গবেষণা করা ডেভিড লেওং অন্তত এমনটাই মনে করেন। তাঁর কথায়, “ঘুমের মধ্যে দেখা স্বপ্ন অন্য কোনও দুনিয়ায় প্রবেশের জানলা হতে পারে, যেখানকার নিয়মাবলী পৃথক, জাগ্রত অবস্থার সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে, যেখানে অবাধে প্রবেশ করতে পারে আমাদের মস্তিষ্ক, অস্তিত্বের নতুন রূপ অন্বেষণ করে দেখতে পারে, যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে।”
কোয়ান্টম থিওরির ব্যাখ্য়ার উপর নির্ভর করেই এই তত্ত্ব তুলে ধরেছেন ডেভিড, যেখানে বলা হয়েছে, আমাদের প্রত্যেকটি সিদ্ধান্ত, আমাদের জীবনের প্রত্যেকটি ঘটনা বাস্তবের নতুন নতুন গতিপথ তৈরি করে, অগণিত সমান্তরাল মহাবিশ্ব গড়ে ওঠে।
ঘুমের সময় আমাদের ইন্দ্রিয়গুলি সক্রিয় থাকে থাকে না, যুক্তিবাদী মস্তিষ্ক কার্যকর থাকে না। সেই সময় আমাদের চেতনা মুক্ত বিচরণ করে। সময় এবং স্থানের সীমানা পেরিয়ে অন্য জগতে প্রবেশ করতে পারে। ডেভিডের মতে, স্বপ্নগুলি আসলে পোর্টালের ভূমিকা পালন করে, যার মাধ্যমে অন্য জগতে স্থিত নিজেদের অন্য প্রতিরূপের সম্মুখীন হই আমরা।
২০২২ সালে পদার্থবিদ অ্যালেন অ্যাসপেক্ট জন এফ ক্লস্টার এবং অ্যান্টন জেলিঙ্গার কোয়ান্টাম এনট্যাঙ্গলমেন্ট নিয়ে কাজের জন্য নোবেল পুরস্কার পান। প্রচলিত বাস্তববাদের যে ধারণা, তাকেই চ্যালেঞ্জ জানান। তাঁরা দেখান যে, দূরে থেকেও পরস্পরকে প্রভাবিত করতে পারে আমাদের চারপাশে থাকা কণাগুলি। অর্থাৎ যতটা ভাবা হয়েছিল, বাস্তব জগৎ তার চেয়েও বেশি আন্তঃসংযুক্ত এবং নমনীয়।
ডেভিড জানিয়েছেন, তাৎক্ষণিক চেতনা আমাদের পাঁচটি ইন্দ্রিয়কে প্রভাবিত করে। চেতনা ওই পাঁচ ইন্দ্রিয়র প্রতি দায়বদ্ধ, যা আকার পেয়েছে আমাদের শরীরের সংবেদনশীলতা দ্বারা। তবে তাৎক্ষণিক নয় এমন চেতনা ইন্দ্রিয়কে অতিক্রম করে আরও উন্মুক্ত, আন্তঃসংযুক্ত বাস্তবকে অনুভব করতে সাহায্য করে।
স্থানীয় চেতনা আমাদের পাঁচটি ইন্দ্রিয়ের প্রতি দায়বদ্ধ, যা শরীরের সংবেদনশীল ইনপুট দ্বারা আকৃতিপ্রাপ্ত এবং ভাস্করিত। তবে, অ-স্থানীয় চেতনা ইন্দ্রিয়গুলিকে অতিক্রম করে, যা আমাদের বিস্তৃত, আন্তঃবোনা বাস্তবতা অনুভব করতে দেয়, তিনি বলেন। এই ধারণাটি প্যানসাইকিজমের মতো অনুমানমূলক ধারণার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে সচেতনতাকে মহাবিশ্বের একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য হিসাবে বিবেচনা করা হয়, তিনি বলেন।
তবে এর সপক্ষে হাতেকলমে কোনও প্রমাণ সামনে আনা জায়নি এখনও পর্যন্ত। কোয়ান্টম ফিনোমেনা স্থান-কাল সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়। কিন্তু ঘুমের মধ্যে দেখা স্বপ্ন অন্য জগতের প্রবেশদ্বার কি না, কোনও গবেষণাই এই তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি।