Health News: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মারা যেতে পারেন রোগী, শুধুমাত্র চোখ দেখেই বলে দেওয়া সম্ভব! গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য
Death Prediction Test: আগে থেকে মৃত্যুর সময় বলে দেওয়া সম্ভব? মৃত্যু নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারবেন চিকিৎসকরা? নয়া গবেষণায় দাবি। ছবি: ফ্রিপিক।
Continues below advertisement

Death Prediction Test. আগে থেকে মৃত্যুর সময় বলে দেওয়া সম্ভব? নয়া গবেষণায় দাবি। ছবি: ফ্রিপিক।
Continues below advertisement
1/10
জন্ম, মৃত্য়ু, বিয়ে, তিন বিধাতা নিয়ে। বরাবর এই প্রবাদই শুনে আসছি আমরা। কিন্তু এবার সেই প্রবাদ বদলে যেতে পারে। নিয়তির লিখন আগে থেকেই পড়তে পারার উপায় বের করে ফেললেন বিজ্ঞানীরা। জন্ম বা বিয়ে না হলেও, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কে মারা যেতে পারেন, তা বোঝার উপায় বের করে ফেললেন।
2/10
BMJ Supportive and Palliative Care-এ প্রকাশিত নয়া গবেষণাপত্রে এমনই খোলসা করেছেন বিজ্ঞানীরা। দক্ষিণ কোরিয়ার গিয়োংসাং ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হসপিটালের ডিরেক্টর জাং হান কাংয়ের নেতৃত্বে গবেষণাটি চালানো হয়।
3/10
বিজ্ঞানীদের দাবি, এই আবিষ্কার আগামী দিনে চিকিৎসাবিজ্ঞানের খোলনলচেই পাল্টে দিতে পারে। কারণ বিরাট ব্যয়সাপেক্ষ আয়োজনের প্রয়োজন নেই। রোগীর পাশে থেকেই বলে দেওয়া যেতে পারে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁর মৃত্যু ঘটতে পারে কি না।
4/10
কী করে এমনটা সম্ভব? বিজ্ঞানীদের উত্তর, কর্নিয়াল রিফ্লেক্স (Corneal Reflex), অর্থাৎ চোখের উপরিভাগ আলতো হাতে স্পর্শ করলে আপনাআপনি চোখের পাতা পড়ার যে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, তা দেখেই বোঝা সম্ভব রোগীর হাতে আর কত সময় রয়েছে।
5/10
চোখের পলক ফেলায় ট্রাইজেমিনাল নার্ভ এবং ফেসিয়াল নার্ভের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বাইরের কোনও বস্তু বা উদ্দীপনা থেকে রক্ষা পেতে আপনাআপনিই চোখ বন্ধ হয়ে যায় আমাদের। ভেবেচিন্তে নয়, বরং এটি একটি স্বয়ংক্রিয়া প্রক্রিয়া। আপনাআপনিই চোখের পলক পড়ে যায়। আপনাআপনি, কত দ্রুত এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তাকেই বলা হয় কর্নিয়াল রিফ্লেক্স।
Continues below advertisement
6/10
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই রিফ্লেক্স যত হারাতে বসেন রোগী, তত দ্রুত মৃত্যু ঘনিয়ে আসে তাঁর। যাঁরা এই রিফ্লেক্স হারিয়ে ফেলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের মৃত্যু ঘটতে দেখা গিয়েছে। প্রিয়জনের হাতে আর বেশি সময় নেই জানতে পারলে পরিবারও নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার সময় পান বলে মত বিজ্ঞানীদের।
7/10
কোন রোগী মৃত্যুর কত কাছাকাছি, তা বুঝতে পারা এবং তার পরও স্বাভাবিক থাকা সহজ নয়। কিন্তু মরণাপন্ন রোগীর হাতে কত সময় আছে, তার উত্তর জানতে উদগ্রীব থাকেন অনেকেই। চোখের পলক যদি তার জানান দিতে পারে, তাহলে চিকিৎসকরা কার্যত ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারবেন বলে মনে করছেন অনেকেই।
8/10
গবেষণায় নেতৃত্ব দেওয়া ডঃ কাং বলেন, “প্রিয়জনের শেষ সময়ে তাঁর কাছে থাকতে চান বাড়ির লোকজন। আর তাই হাতে কত সময় রয়েছে, তা জানা জরুরি হয়ে ওঠে।” বর্তমানে সাধারণত কত ঘন ঘন শ্বাস পড়ছে রোগীর, ত্বক নীলাভ হয়ে আসছে কি না, জ্ঞান কতটা টনটনে রয়েছে, তা-ই দেখা হয়। তবে নয়া গবেষণাটি সাড়া ফেলে দিয়েছে।
9/10
১১২ জন অ্যাডভান্সড স্টেড ক্যান্সার রোগীকে পর্যবেক্ষণ করেন চিকিৎসকরা। দিনে দিন বার তাঁদের কর্নিয়াল রিফ্লেক্স পরীক্ষা করে দেখা হয়। ওই ১১২ জনের মধ্যে ১১০ জন সাত দিনের মধ্যে মারা যান। যাঁদের কর্নিয়াল রিফ্লেক্স ছিল না, আগে তাঁরাই মারা যান। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যুর হার ছিল ৭০.৭ শতাংশ। ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই হিসেব মিলে গিয়েছে। ডঃ কাংয়ের মতে, স্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের যে অংশটি শ্বাসপ্রশ্বাস এবং চেতনার মতো মৌলিক জীবনক্রিয়াগুলি নিয়ন্ত্রণ করে, তার অবনতি ঘটে ক্রমশ, অকার্যকর হয়ে পড়ে।
10/10
তবে মারণ রোগে আক্রান্ত, মৃত্যুপথযাত্রী কিছু রোগীর উপরই এই পরীক্ষা চালানো হয়েছে। এ নিয়ে আরও বড় গবেষণা হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। সেই মতো প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ায়।
Published at : 28 Apr 2026 07:17 AM (IST)