Sunita Williams Returns Home: মহাসাগরে সুনীতাদের স্বাগত জানাল ডলফিন, ১৭ ঘণ্টার স্পেস ম্যারাথন শেষে ক্যামেরাবন্দি বিশেষ মুহূর্ত

অবশেষে প্রতীক্ষা, উদ্বেগের শেষ। মহাকাশ থেকে ঘরে ফিরলেন সুনীতা উইলিয়ামস, ব্যারি বুচ উইলমোর। ফিরলেন NASA-র আর এক মহাকাশচারী নিক হেগ এবং রাশিয়ার অলেকজান্ডার গরবুনভও।
Download ABP Live App and Watch All Latest Videos
View In App
গত বছর জুন মাসে আট দিনের অভিযানে মহাকাশে গিয়েছিলেন তাঁরা। তার পর নয় নয় করে সাড়ে ন’মাস কেটে যায়। এতদিনে ঘরে ফিরলেন।

সাধারণত ৩ থেকে ৩.৫ ঘণ্টার মধ্যেই মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে এসে পৌঁছনো যায়। কিন্তু সুনীতাদের ক্ষেত্রে কোনও ঝুঁকি নেয়নি SpaceX-এর Crew-9 মহাকাশযান।
ধাপে ধাপে এগোয় অভিযান। প্রথমে পৃথিবীর কক্ষপথ ছেড়ে নামে। তার পর ক্যাপসুল ও প্ল্যাটফর্ম আলাদা হয়। এর পর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ ঘটে।
সটান মহাসাগরে অবতরণ করানো হয়নি ক্যাপসুলটিকে। বরং প্যারাশুটে বেঁধে নিয়ন্ত্রিত ভাবে নামিয়ে আনা হয় নীল মহাসাগরের বুকে।
সরাসরি সম্প্রচার হওয়ায় সেই অভিনব মুহূর্তের সাক্ষী হয় গোটা বিশ্ব। নীল জলে তখন চারিদিক থেকে ডলফিনের দল ঘিরে ধরেছে সুনীতাদের।
আগে থেকেই সেখানে মোতায়েন ছিল SpaceX-এর একটি জাহাজ এবং কর্মীরা। দড়িতে বেঁধে প্রথমে ক্যাপসুলটিকে জাহাজে তোলা হয়। এর পর একে একে বের করে আনা হয় সকলকে।
গোটা বিশ্বের নজর সেই সময় ক্যাপসুলটির দরজার দিকে। তাঁদের স্বস্তি দিয়ে পিছলে বেরিয়ে আসেন সুনীতা, ব্যারি, নিক এবং অলেকজান্ডার।
দীর্ঘ সময় মহাকাশে কাটানোয় তাঁদের কারও নিজে থেকে উঠে দাঁড়ানো বা হাঁটার শক্তি ছিল না। এক এক করে চার মহাকাশচারীকে ধরে স্ট্রেচারে তোলা হয়।
হাসিমুখেই তাঁরা সকলকে অভিবাদন জানান। অনুরাগীদের উদ্দেশে থামসআপও দেখান সুনীতা।
তবে পৃথিবীতে ফিরলেও এখনই ঘরে ফেরা হবে না সুনীতাদের। বেশ কয়েক দিন কোয়ারান্টিনে থাকতে হবে তাঁদের।
মহাকাশ থেকে অচেনা সংক্রমণ বয়ে আনার ঝুঁকি রয়েছে। সেই জন্যই প্রথমে নিভৃতবাসে রাখা হয় মহাকাশচারীদের। সেখানে ডাক্তারি পরীক্ষা হয়। সব দিক থেকে নিশ্চিন্ত হয়ে তবেই বাড়ি ফিরতে পারেন।
সব মিলিয়ে ২৮৬ দিন মহাকাশে ছিলেন সুনীতা ও ব্যারি। পৃথিবীর চারিদিকে ৪ হাজার ৫৭৭ বার চক্কর দিয়েছেন তাঁরা।
আট দিনের অভিযানে গিয়ে দীর্ঘ সাড়ে ন’মাস মহাকাশে, মাধ্যাকর্ষণ শক্তির বাইরে থাকার ফলে এখনই নিজে থেকে হাঁটতে পারছেন না তাঁরা। স্বাভাবিক হতে বেশ কিছুটা সময় লাগতে পারে।
এতদিন মহাকাশে থাকার ফলে তাঁদের শরীরের তরলের সঞ্চালন ঊর্ধ্বমুখী হয়ে যায়। ফলে পা সরু হয়ে গিয়েছে সুনীতাদের, ফুলে গিয়েছে মুখ। তাই আগে সুস্থ হয়ে উঠতে হবে তাঁদের।
পৃথিবীতে পেশিশক্তির প্রয়োজন হলেও, মহাকাশে হয়নি, তাই পেশির সঙ্কোচন ঘটেছে, দুর্বল হয়ে পড়েছে পেশি।
মহাকাশে থাকাকালীন প্রতি মাসে ১-২ শতাংশ কের হাড়ের ক্ষয় হয়। তাই শারীরিক কসরত চালিয়ে যাওয়া জরুরি। হৃদযন্ত্রে তেমন চাপ না পড়লেও, আকারে ছোট হয়ে যায়। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে সহজাত হতে আরো কিছুটা সময় লাগবে।
পাশাপাশি, ভারসাম্য তৈরি হতেও সময় লাগবে। বমিভাব, মাথাঘোরার সমস্যা হবে আগামীতে। তবে সেরে উঠতে খুব বেশি সময় লাগবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
কারণ মহাকাশে থাকাকালীনই পৃথিবী থেকে চিকিৎসকরা সুনীতাদের স্বাস্থ্যের উপর নজরদারি চালাচ্ছিলেন। কখন কী প্রয়োজন, নির্দেশ যাচ্ছিল পৃথিবী থেকেই। আপাতত তাঁরা নিরাপদে ফিরে আসায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন সকলেই।
- - - - - - - - - Advertisement - - - - - - - - -