Pyramids History: গায়ে লেগে ঠিকরে পড়ত রোদ, মিশরের ঐতিহ্যের পিরামিড, আজ পড়ে রয়েছে শুধু স্মৃতিচিহ্ন

ছবি: পিক্সাবে।
ধূ ধূ করছে চারিদিক। উড়ছে ধুলোবালি। গায়ে এসে পড়া রোদ জ্বালা ধরায়। তাও ইতিহাস প্রেমী মানুষ নাম শুনলেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। অতীতকে ছুঁয়ে দেখার অভীপ্সা শিহরণ জাগায়। মিশরকে ঘিরে এই উদ্দীপনা কাজ করে মূলত পিরামিডের জন্যই।
ইতিহাসের পাতায়, ছবিতে, সিনেমার পর্দায় দেখা বাদামি পিরামিডের সঙ্গে বালুকাময় ভূমি মিলেমিশে একাকার হয়ে যেতেই দেখেছি আমরা। কিন্তু হাজার হাজার বছর আগে পিরামিড যখন তৈরি হয়েছিল, তারা চেহারা ছিল সম্পূর্ণ আলাদা।
বিশ্বাস না হলেও, এ কথাই সত্য। সময়ের সঙ্গে সঙ্গেই রূপ বদলেছে পিরামিডের। নির্মাণে প্রয়োজনীয় উপকরণের ঘাটতি এবং লুঠপাটের কারণেই এমনটা ঘটেছে। আসলে কেমন দেখতে ছিল পিরামিড, জেনে নিন।
প্রাচীন কালে মিশরে যখন প্রথম পিরামিডের নির্মাণ শুরু হয়, সেই সময় তার রং মোটেই বাদামি ছিল না। বরং পিরামিড তৈরিতে ব্যবহৃত হতো উজ্জ্বল এবং ঝকঝকে পাললিক শিলা। তার উপর সূক্ষ্ম সাদা চুনাপাথরের বসিয়ে মুড়ে ফেলা হতো কাঠামো।
গবেষকরা জানিয়েছেন, সূক্ষ্ম চুনাপাথর বসানোর ফলে পিরামিডের গা ছিল মসৃণ। উপরের পরত ছিল ঝকঝকে। রোদ পড়লে ঠিকরে বেরোত আলো। শুধুমাত্র গিজার ‘গ্রেট পিরামিডে’র তৈরিতে সেই সময় প্রায় ৬১ লক্ষ টন চুনাপাথর লেগেছিল।
গিজার ‘গ্রেট পিরামিড’ খুফুর পিরামিড নামেও পরিচিত। ফারাও খুফু, নিজের রাজত্বকালেই সেটির নির্মাণে সিলমোহর দেন। এখনও পর্যন্ত গিজার সবচেযে প্রাচীনতম এবং এবং বৃহত্তম পিরামিড এই খুফুর পিরামিড।
কিন্তু পরবর্তী কালে পিরামিড তৈরিতে ব্যবহৃত চুনাপাথর মিশরের শাসকদের নির্দেশে অন্য নির্মাণকার্যে ব্যবহৃত হতে শুরু করে। চাহিদার জোগান দিতে পিরামিডের গা থেকেই খুলে নিয়ে যাওয়া হয চুনাপাথর। তুতানখামেনের রাজত্বকালেই পিরামিডের গা থেকে চুনাপাথরের পরত খোলা শুরু হয় বলে দাবি গবেষকদের, যা চলেছিল দ্বাদশ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত।
বর্তমানে গিজার কিছু পিরামিডে চুনাপাথরের অল্পস্বল্প পরত লেগে রয়েছে। গিজার খাফরে পিরামিডের চূড়ায় দেখা যায় চুনাপাথরের পরত। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ায় দীর্ঘ দিন থাকার ফলে গায়ে অযত্নের ছাপ পড়েছে।
খাফরে পিরামিডটি ফারাও খাফরের নামে নামাঙ্কিত। তার চূড়ায় এমন ভাবে বসানো রয়েছে চুনাপাথর, যা দেখলে মনে হয়, প্রথম স্তরের গাঁথনি তোলার পর, দ্বিতীয় একটি গাঁথনি তুলে আরও একটি চূড়া বানানো হয়েছে।
গিজার পিরামিডগুলির চূড়ায় ক্যাপস্টোনের পাশাপাশি সোনা-রুপোর মিশ্রণের প্রলেপও ছিল একসময়, যা দেখে পিরামিডের গায়ে গহনা পরানো হয়েছে বলে মনে হতো।