Fire and Water: জলেই জব্দ আগুন, অথচ দাবানল রুখতে হিমশিম খেতে হয়, নেপথ্যে কোন সমীকরণ?

ছবি: ফ্রিপিক।
আগুনকে জব্দ করতে পারে জল। আলাদা করে কাউকে শেখাতে হয়নি, ছোট থেকেই এব্যাপারে ওয়াকিবহাল আমরা। আগুন দেখলে তাই অবচেতনেও হাত চলে যায় জলের দিকে।
কিন্তু জল আগুন নেভায় কী করে, কখনও ভেবে দেখেছেন কি? উত্তর কিন্তু মোটেই জলের মতো সহজ নয়। বরং নেপথ্যে রয়েছে জটিল রাসায়নিক প্রক্রিয়া।
আগুন প্রশমিত করতে জলের কোনও বিকল্প নেই। আগুনের সংস্পর্শে এলে জল তাপমাত্রাও শুষে নেয়।
কিন্তু নিজে থেকে আগুন নেভাতে সক্রিয় হয়ে ওঠে না জল। আগুনের সঙ্গে জোর লড়াইও করতে হয় না।
আগুন জ্বলে মোট তিনটি উপাদানের ভিত্তিতে, জ্বালানি, অক্সিজেন এবং তাপমাত্রা। জল আসলে জ্বালানির উপর কার্যকর। কাঠ হোক বা কংক্রিট, আগুনকে জ্বলতে দেয় না জল।
ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার দহনক্রিয়া বিশেষজ্ঞ মাইকেল গলনার জানিয়েছেন, কাঠে যখন আগুন জ্বলে, আগুনের তাপমাত্রা আসলে কাঠের মধ্যেকার উপাদানকে বাষ্পীভূত করে গ্যাসে পরিণত করে, যার উপর নির্ভর করে আগুন জ্বলতে থাকে। আগুনের শিখা আসলে শুধুই দৃশ্যমান অংশ।
জ্বলন্ত সেই কাঠের উপর জল ঢাললে, আগুনের উচ্চ তাপমাত্রার কিন্তু জল এবং কাঠ, দু'টিকেই বাষ্পীভূত করার ক্ষমতা আছে। কিন্তু জলের যেহেতু উচ্চ তাপমাত্রা শোষণ করার ক্ষমতা রয়েছে, সেই জলকে বাষ্পীভূত করতে আরও শক্তির প্রয়োজন পড়ে আগুনের। জলকে বাষ্পীভূত করতে গেলে যে পরিমাণ শক্তি ক্ষয় হবে, তাতে আগুন আর জ্বলবে না।
ফলে জল যত তাপমাত্রা শুষে নেয়, আগুনের তাপমাত্রা ততই কমতে থাকে। শক্তি হারিয়ে তাপমাত্রা আর জ্বালানিকে বাষ্পীভূত করতে পারে না। ফলে ধীরে ধীরে নিভে যায়।
তাই আগুন নেভানোর ক্ষেত্রে জ্বালানির উপর জল ছড়ানোর প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয়, যাতে আগুন আর ছড়াতে পারে না। সেই কারণে ঝাঁ চকচকে অফিসে স্প্রিঙ্কলার প্রযুক্তি বসানো থাকে, যা আগুনকে ছড়াতে দেয় না।
যদিও দাবানলের ক্ষেত্রে স্প্রিঙ্কলার প্রযুক্তি কাজে লাগে না। কারণ আগুন নেভানোর জন্য প্রয়োজন যথেষ্ট পরিমাণ জল বয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না সেখানে। আগুনের তাপমাত্রা এতটাই বেশি হয় যে জলের ফোঁটা নিমেষে বাষ্পীভূত হয়ে যায়। দাবানল রুখতে যতটুকু জল প্রয়োগ করা হয়, তা আসলে বাড়তি সময় আদায়ের জন্য,যাতে পরিকল্পনা সাজানো যায়। যে পথে এগোচ্ছে দাবানল, সেখানকার গাছপালা কেটে ফেলা হয়, জ্বালানি না পেয়ে আপনা আপনি নিভতে শুরু করে আগুন।