Nuclear Testing: ক্যান্সারের বীজ, অকালমৃত্যু…মুহুর্মুহু পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার অভিশাপ বইছে পৃথিবী, উঠে এল রিপোর্টে
Nuclear Testing Radiations: ভয়ঙ্কর তথ্য উঠে এল গবেষণায়। ছবি: ফ্রিপিক।
Continues below advertisement
ছবি: ফ্রিপিক।
Continues below advertisement
1/10
ক্ষমতা প্রদর্শনে পিছপা হচ্ছে না কোনও দেশ। মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চলছে। চলছে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষাও। সেই আবহেই চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট সামনে এল। পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার প্রভাব মানুষের শরীরের উপরও পড়েছে বলে ধরা পড়ল মানবিক সংগঠনের রিপোর্টে।
2/10
Norwegian People’s Aid সংস্থার রিপোর্ট এই তথ্য় তুলে ধরেছে। এতদিন যাবৎ যে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা হয়েছে, তা নিয়ে বিশদ রিপোর্ট তুলে ধরেছে সংবাদ সংস্থা AFP-কে। ১৯৪৫ থেকে ২০১৭ সালের পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে Norwegian People’s Aid. বলা হয়েছে, ওই সময়কালের মধ্যে ২৪০০-র বেশি পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা হয়।
3/10
রাশিয়া, আমেরিকা, চিন, ফ্রান্স, ব্রিটেন, পাকিস্তান, ভারত, ইজ়রায়েল এবং উত্তর কোরিয়া–এই নয় দেশের হাতেই পরমাণু অস্ত্র রয়েছে। এর মধ্য়ে নয়ের দশক থেকে লাগাতার পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করেছ এসেছে উত্তর কোরিয়া। Norwegian People’s Aid জানিয়েছে, এই যে মুহুর্মুহু পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করা হয়েছে, পৃথিবীর সর্বত্র মানুষের জীবনে তার প্রভাব পড়েছে। অকালমৃত্যু ঘটেছে বহু মানুষের।
4/10
তাহিতি দ্বীপের সাংসদ, ৩৭ বছর বয়সি হিনামুেয়েরা ক্রস জানিয়েছেন, তাঁর বয়স যখন সাত, সেই সময় তাঁদের এলাকাতেই ফ্রান্স শেষ বার পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করে। সাত বছর পর লিউকেমিয়া ধরা পড়ে তাঁর। তাঁর মা, ঠাকুমা, পিসিরও থাইরয়েড ক্যান্সার ধরা পড়ে।
5/10
Norwegian People’s Aid-এর রিপোর্ট বলছে, পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার তথ্য এত গোপন রাখা হয়, আন্তর্জাতিক মহল এত উদাসীন যে, এ নিয়ে হিসেব মেলানোও সম্ভব নয়।
Continues below advertisement
6/10
এমনকি অতীতের পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার রেশ এখনও অনুভূত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন Norwegian People’s Aid-এর প্রধান রেমন্ড জোহানসেন। পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা এবং তা ব্যবহার করা নিয়ে ভাবনাচিন্তার সময় হয়েছে বলে মত তাঁর। সম্প্রতি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষায় অনুমোদন দেন। তার পরই বিষয়টি নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির রসায়নের অধ্যাপক ইভানা হিউজ় বলেন, “অত্য়ন্ত বিপজ্জনক। পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার সময়সীমা দেখেই বোঝা যাচ্ছে, এর ফল কতটা মারাত্মক, কতটা গুরুতর এবং কতটা দীর্ঘমেয়াদি।” ইভানা Nuclear Age Peace Foundation-এরও প্রধান।
7/10
যে অঞ্চলে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করা হয়েছে, সংলগ্ন এলাকাগুলিতেই সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে রিপোর্টে। বাসিন্দাদের মধ্যে রোগভোগ, ট্রমা যেমন বেড়েছে, তেমনই শিশুদের মধ্যে জন্মগত ভাবে অস্বাভাবিকতাও চোখে পড়েছে বলে জানানো হয়েছে। ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ ক্যারোলাইনার অধ্যাপক ম্যাগডালেনা স্তকওস্কি বলেন, “পৃথিবীর সর্বত্রই এর প্রভাব পড়ে। কারণ পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার দরুণ জীবিত প্রত্যেক মানুষই রেডিওঅ্যাকটিভ আইসোটোপ বহন করছেন। একেবারে হাড়ের মধ্যে ঢুকে গিয়েছে।”
8/10
রিপোর্টে বলা হয়েছে, পরমাণু অস্ত্র বিস্ফোরণজনিত কারণে হাজার হাজার মানুষ অকালে মারা গিয়েছেন পৃথিবীতে। তেজস্ক্রিয় পদার্থ DNA-র ক্ষতি করে, ক্যান্সারের মতো রোগ বাসা বাঁধে শরীরে, কার্ডিওভাস্কুলার রোগ, জিন-গত রোগ দেখা দেয়। অতি সামান্য পরিমাণ গেলেও, শরীরে প্রভাব পড়ে মারাত্মক।
9/10
১৯৮০ সাল পর্যন্ত যত পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা হয়েছিল, তা থেকে ক্যান্সারের বীজ শরীরে বাসা বেঁধে অতিরিক্ত ২০ লক্ষ মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনা রয়েছে বলে দাবি রিপোর্টের সঙ্গে যুক্ত টিলম্যান রাফ, যিনি মেলবোর্ন ইউনিভার্সিটিতে কর্মরত। তিনি International Campaign to Abolish Nuclear Weapons-এর সহ প্রতিষ্ঠাতাও, যারা ২০১৭ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতে নেয়।
10/10
রাফ জানিয়েছেন, তেজস্ক্রিয় বিকিরণ থেকে DNA-তে কোষের বাঁধন আলগা হয়ে যায় এবং সেগুলিতে ক্যান্সার বাসা বাঁধে। মায়ের পেটে থাকা ভ্রূণ থেকে ছোট ছেলেমেয়ে, বিশেষ করে মেয়ে ও মহিলাদের মধ্যে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৫২ শতাংশ। ক্রস বলেন, “এগুলি শুধু পরীক্ষা নয়। সত্যিকারের বোমা। আমাদের গিনিপিগ বানানো হয়েছে।”
Published at : 22 Jan 2026 03:24 PM (IST)