বহু সাধ্যসাধনার পর সরকারি বাংলো ছাড়লেন অখিলেশ যাদব, কী হাল করেছেন দেখুন
অখিলেশের পরিবারের চাহিদা মেনে ও সপার রাজ্যসভা সাংসদ নির্মাতা সঞ্জয় শেঠের পরামর্শমতো বাংলোটি সাজানো গোছানো হয়।কাজের দায়িত্ব পায় মুম্বইয়ের একটি বড় সংস্থা।
অন্য দুই পূর্ব মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিংহ ও রাজনাথ সিংহ তাঁদের বাংলো নির্দেশ পেয়েই খালি করে দেন। মায়াবতী বলেন, বাংলো ছাড়া যাবে না, তাতে কাঁসিরামের নামে মিউজিয়াম করা হয়েছে। মুলায়ম, অখিলেশ খালি করার সময় চান। শেষমেষ অবশ্য সকলকেই ছাড়তে হয় সরকারি বাংলো।
বিজেপি অভিযোগ করেছে, সরকারি টাকা নয়ছয়ের উদ্দেশেই এমনটা করেছেন অখিলেশ। এতে তাঁর মানসিকতা বোঝা যাচ্ছে। তাদের প্রশ্ন, টাইলস খোঁড়া হল কেন। নীচে কী লুকনো ছিল। অখিলেশ অবশ্য অস্বীকার করছেন সব অভিযোগ। তাঁর দাবি, সব নাকি এমনটাই ছিল।
বিশাল এই বাংলোয় বেশ কয়েকটি ব্লক। ২৫টা ঘর, বিরাট কিচেন, জিম, ওয়েটিং রুম। অখিলেশের অফিসও ছিল। নিরাপত্তারক্ষীদের জন্য ব্লক ছিল। ওয়ারিং, ফলস সিলিং, এসি, বাথরুম- তছনছ করার চিহ্ন সর্বত্র। টাইলস পর্য়ন্ত উপড়ে নেওয়া হয়েছে।
বাংলোয় ছিল জিমন্যাশিয়াম, সুইমিং পুল, বিদেশি গাছে সুসজ্জিত বাগান। কিন্তু অখিলেশরা যেভাবে তা খালি করেছেন, তা নিয়ে অসংখ্য প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।
এবার শুনুন, বাংলোর কী হাল হয়েছে। সুইমিং পুল ভরে দেওয়া হয়েছে কংক্রিট আর সিমেন্ট দিয়ে। রান্নাঘরের ইটালিয়ান মার্বেল উপড়ে দেওয়া হয়েছে, ওপড়ানো হয়েছে বাথরুমের ফিটিংস। এ সব তো বটেই, জিম, বাগানে বসানো বিদেশি গাছপালা- সবই লাগানো হয়েছিল সরকারি খরচে। সেগুলোও উপড়ে, ভেঙেচুরে শেষ করে দেওয়া হয়েছে।
অখিলেশ, মুলায়ম কেউই সরকারি নির্দেশের পরেও তাঁদের বাংলো খালি করতে চাইছিলেন না। এ জন্য মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গে তাঁরা দেখাও করেন। কিন্তু যোগী গলেননি। শেষমেষ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর বাংলোদুটি ছাড়তে বাধ্য হন তাঁরা।
আগে বাংলোটি ছিল কৃষি বিভাগের অধীনে। পাশেই মুলায়মের বাংলো। এটিকে তৈরি করা হয় মুলায়মের বাসভবনের অন্তত তিন গুণ বড় করে।
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর নিজের পরিবারের থাকার জন্য বাংলোটি বানিয়েছিলেন অখিলেশ। তিনটি বাংলো ভেঙে তৈরি হয় রাজসিক এই বাংলো। মুলায়ম সিংহ যাদবের বাংলোর থেকেও বড় এই বাসভবন অখিলেশ ও তাঁর স্ত্রী, সন্তানদের অত্যন্ত পছন্দ ছিল।
সুপ্রিম কোর্ট থেকে নির্দেশ আসার পর ৪, বিক্রমাদিত্য মার্গের বাংলো ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন উত্তর প্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও সপা নেতা অখিলেশ যাদব। অভিযোগ, সরকারি এই বাসভবন খালি করার আগে তা তছনছ করে দেওয়া হয়েছে।