কোহলির আগেও নৈতিক কারণে বিজ্ঞাপনের প্রস্তাব ফিরিয়েছেন এই তারকারা
পি ভি সিন্ধু:গুরু গোপীচাঁদের পথ অনুসরণ করেই অলিম্পিকে রুপো জয়ী ব্যাডমিন্টন তারকা পিভি সিন্ধুও জানিয়েছেন, নরম পানীয় বা তরুণদের স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক কোনও পণ্যের বিজ্ঞাপন তিনি করবেন না।
পুল্লেলা গোপীচাঁদ: ২০০২-এ অল ইংল্যান্ড ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপে জেতার পর পুল্লেলা গোপীচাঁদের কাছে একটি কোলা কোম্পানির বিজ্ঞাপনের প্রস্তাব এসেছিল। বিশেষ করে শিশুদের ওপর এ ধরনের নরম পানীয়র স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ক্ষতিকারক দিকটির কথা মাথায় রেখে ব্যাডমিন্টন তারকা সেই প্রস্তাব নাকচ করেন।
দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের বিজ্ঞাপন তারকা নির্ভর। বিভিন্ন পণ্যের বিক্রয় বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন কোম্পানি সিনেমা, খেলা, সঙ্গীত জগতের তারকাদের বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করেন। কোনও পণ্যের প্রচারের ক্ষেত্রে আমাদের দেশের বড় বড় তারকাদের দায়িত্ববোধের অভাবের বিষয়টিও একটা আলোচ্য বিষয়। যেমন অজয় দেবগন পানমশালা (তামাক) এবং শাহরুখ খানের মতো তারকা ফরসা হওয়ার (ফেয়ারনেস) ক্রিমের বিজ্ঞাপন করেছেন। কিন্তু সেই প্রবণতায় এখন বদল দেখা যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মের তারকারা সাফ জানাচ্ছেন, তাঁরা নৈতিক কারণেই মদ, তামাক, ফেয়ারনেস ক্রিম এবং নরম পানীয়র মতো পণ্যগুলির বিজ্ঞাপন করবেন না। ভারতের ক্রিকেট দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলিও এই পথেরই শরিক। তিনি একটি নরম পানীয় বিজ্ঞাপণের জন্য বহু কোটি টাকার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। কোহলি বলেছেন, তিনি এ ধরনের পানীয় খান না। তাই এর বিজ্ঞাপন করবেন না। শুধু কোহলিই নন, আরও অনেক তারকাই এই অবস্থানই নিয়েছেন। ওই তারকারা সাফ জানিয়েছেন অনৈতিক কোনও পণ্যের বিজ্ঞাপন তাঁরা করবেন না।
কঙ্গনা রানাউত: আমাদের দেশে গায়ের ফর্সা রঙের প্রতি প্রবল আকর্ষণ রয়েছে। চাপা গাত্রবর্ণ এখনও এদেশে খাটো চোখে দেখা হয়। সামাজিক এই অযৌক্তিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে ফেয়ারনেস ক্রিমের ব্যবসা করে বহু কোটি টাকা আয় করে বিভিন্ন কোম্পানি। এই পরিস্থিতিতে শুভবুদ্ধিসম্পন্নরা আশা করেন যে, জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বরা অন্তত এ ধরনের হাস্যকর ফেয়ারনেস ক্রিমের বিজ্ঞাপন করবেন না। কিন্তু এ ধরনের ক্রিমে এনডোর্স করেছেন, এমন বলিউড তারকার সংখ্যা কম নয়। ওই তালিকায় রয়েছে জন আব্রাহাম, শাহরুখ খান, সোনম কপূর,ঐশ্বর্য রাই বচ্চনের মতো তারকাও। বলিউডের এই ধারায় প্রথম ব্যতিক্রমী অবস্থান নেন জাতীয় পুরস্কার জয়ী অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত। চার বছর আগে ২০১৩-তেই ফেয়ারনেস ক্রিমের বিজ্ঞাপনের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন এই অভিনেত্রী। তিনি বলেছিলেন, ছোট থেকেই এই ফর্সা ব্যাপারটা কী, তা আমি বুঝতে পারতাম না। আর এ ক্ষেত্রে একজন জনপ্রিয় তারকা হিসেবে আমি তরুণ-তরুণীদের কাছে কী উদাহরণ রাখব?ওই বিজ্ঞাপনের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে আমার কোনও খেদ নেই।
সানি লিওন : ২০১৬ তে সানি লিওন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি কোনওদিন তামাক সংক্রান্ত পণ্যের প্রচার করবেন না। দিল্লি সরকার এ ব্যাপারে তারকাদের কাছে আর্জি জানিয়েছিল। সেই আর্জিতে সাড়া দিয়ে পান মশালা বা তামাকজাত পণ্যের বিজ্ঞাপন না করার কথা জানিয়েছিলেন সানি।
রণবীর কপূর: সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে, জগ্গা জাসুস তারকা একটি ফেয়ারনেস ক্রিম এনডোর্স করার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। এক্ষেত্রে তাঁর বক্তব্য, এ ধরনের ক্রিম বর্ণবৈষম্যকে সমর্থন করে এবং তাকে জোরাল করে।
রণদীপ হুডা: অভিনেতা রণদীপ হুডাও ফেয়ারনেস ক্রিমের বিজ্ঞাপন করেননি। তিনি বলেছেন, সাদা চামড়ার প্রতি আকর্ষণ ঔপনিবেশিক শাসনের ফল। তিনি বলেছেন, সারা বিশ্ব যেখানে রোদে শুয়ে চামড়ার রঙ একটু ফিকে করতে চাইছে, সেখানে আমাদের দেশে সাদা চামড়ার প্রতি আকর্ষণ ঔপনিবেশিক শাসনের ফল ছাড়া অন্য কিছু নয়।