Indian Origin Student Divya Tyagi: পেনসিলভানিয়ার স্টেট ইউনিভার্সিটির মহাকাশ প্রকৌশলী বিভাগের এক ছাত্রী সাড়া জাগিয়েছেন বিজ্ঞানীমহলে। শত বছরের পুরনো অঙ্কের সমাধান দিয়ে যেন এক ছোটখাটো বিপ্লব ঘটিয়েছেন দিব্যা। দিব্যা ত্যাগী (Divya Tyagi)। ভারতীয় বংশোদ্ভূত দিব্যা এক জটিল সমস্যার সমাধান করে দিয়েছেন যার ফলে এই অঙ্ক এখন অনেক বেশি সহজ-সরল হয়ে উঠেছে। গণিতের এই সূত্র মেনে এখন অনুসন্ধান করা বা গবেষণা করা অনেক সহজ হয়ে যাবে।
বিগত কয়েক দশক ধরে এয়ারোডায়নামিক্সের জগতে হার্মান গ্লর্টের এই গণিত সমস্যা হিসেবেই মানা হয়ে এসেছে। এতদিন পর্যন্ত এই জটিল সমস্যার (Divya Tyagi) সমাধান কেউ করতে পারেননি। দিব্যা ত্যাগী মূলত এই হার্মান গ্লর্টের উপরেই গবেষণা করছিলেন। অনুসন্ধান করছিলেন উইন্ড টার্বাইন ডিজাইনের কোনও নতুন সরলীকৃত পথ পাওয়া যায় কিনা, আর সেভাবেই এই জটিল গণিত সমস্যার সমাধান করে ফেলেন দিব্যা। পেনসিলভানিয়ার স্টেট ইউনিভার্সিটি এমনটাই জানিয়েছে।
বায়ুশক্তি কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে এই সমস্যার সমাধানের ফলে আমূল বদল আসতে পারে। দিব্যা ত্যাগী বলেছেন, 'গ্লর্টের সমস্যার মধ্যে আমি একটি নতুন সংযোজন এনে দিয়েছি যার ফলে একটি উইন্ড টারবাইনের সর্বোচ্চ এয়ারোডায়নামিক পারফরম্যান্স পরিমাপ করা যায় এবং সেই টারবাইনের ক্ষমতা আরও বাড়িয়ে তোলা যায়'। দিব্যার এই গবেষণাপত্র প্রকাশ পেয়েছে উইন্ড এনার্জি সায়েন্স জার্নালে।
দিব্যা ত্যাগীর উপদেষ্টা ও সহ-লেখক সোয়েন স্মিথজ জানিয়েছেন যে হার্মান গ্লর্টের সমস্যার মূল উদ্দেশ্য ছিল ম্যাক্সিমাম পাওয়ার কো-এফিশিয়েন্ট নির্ণয় করা যা কিনা বায়ুশক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরের হার নির্দেশ করে। তবে গ্লর্টের গবেষণায় মোট বলের গণনা করা ছিল না, রোটরে মোমেন্ট কো-এফিশিয়েন্টও গণনায় ধরা হয়নি। এমনকী তিনি টারবাইন ব্লেডের উপরে বায়ুর চাপকেও ধর্তব্যে আনেননি।
ইন্সটিটিউট অফ এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের একজন সদস্য সোয়ান স্মিথজ জানিয়েছেন, 'আপনি যদি আপনার দুই হাত বাড়িয়ে দেন দুই দিকে এবং কেউ যদি আপনার হাতের তালুতে চাপ দেয়, আপনি সেটা বন্ধ করতে উদ্যোগী হবেন। এখানে আপনাকে মোট লোড কত বিপুল তা বুঝতে হবে যা গ্লর্ট তাঁর গবেষণায় অনুমান করেননি।' তিনি স্বীকার করেন যে দিব্যা ত্যাগীর এই আবিষ্কার মূলত ক্যালকুলাস অফ ভ্যারিয়েশনের উপরে দাঁড়িয়ে রয়েছে যা আদপে সহজ হলেও খুব শক্তিশালী ফ্রেমওয়ার্ক।