নয়াদিল্লি: জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে সূচনা। এখনও ভূমিকম্প হয়ে চলেছে ছবির মতো সাজানো দেশ গ্রিসে। সবমিলিয়ে ৮০০০ বার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে দেশে। মাত্র দু’সপ্তাহের মধ্যে এত সংখ্যক কম্পন আছড়ে পড়েছে গ্রিসে। বিশেষ করে স্যান্টোরিনি দ্বীপকে ঘিরে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সেখানে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে দেশের সরকার। (Greece Earthquake Swarm)
এখনও পর্যন্ত যত কম্পন অনুভূত হয়েছে গ্রিসে, তার মধ্যে রিখটার স্কেলে ৫.২ তীব্রতার কম্পনই ছিল সবচেয়ে জোরাল। বুধবার ভোররাত সওয়া ৩টে নাগাদ ওই তীব্র কম্পন অনুভূত হয়। স্যান্টোরিনি দ্বীপের মোট জনসংখ্যা ১৫ হাজারের কিছু বেশি। ইতিমধ্যেই উপকূল এলাকা থেকে ১১ হাজারের বেশি মানুষকে সরানো হয়েছে। জাহাজ এবং হেলিকপ্টার পাঠিয়ে সকলকে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সরকার। (Greece Earthquakes)
পর্টকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় স্যান্টোরিনি। এজিয়ান সাগরের তীরে, নীল-সাদা বাড়িতে সাজানো দ্বীপ দেখে মন ভরেনি, এমন মানুষের সংখ্যা কম। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩ সালে সেখানে ৩০ লক্ষ পর্যটক হাজির হন। ২০২৪ সালে পর্যটকের সংখ্যা ছিল ৩৫ লক্ষের বেশি। পর্যটনের উপর গ্রিসের অর্থনীতিও বহুলাংশে নির্ভরশীল।
সেই স্যান্টোরিনি এবং সংলগ্ন এলাকা দু’সপ্তাহে ৮০০০ বার কেঁপে উঠেছে শুনে হতবাক বিজ্ঞানীরাও। আরও তীব্র ভূমিকম্পের পাশাপাশি, সুনামির আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। সেই সঙ্গে অগ্ন্যুৎপাতের বিপদও রয়েছে বলে মত বিজ্ঞানীদের। এই মুহূর্তে যা পরিস্থিতি, গ্রিসকে টাইম বোমার সঙ্গে তুলনা করছেন তাঁরা। যে কোনও মুহূর্তে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা।
Institute of the National Observatory of Athens জানিয়েছে, মুহুর্মুহু কম্পন অনুভূত হচ্ছে। শুধু স্যান্টোরিনি বা অন্য দ্বীপগুলিতেই নয়, এথেন্সেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। Greek Earthquake Planning and Protection Organisation-এর প্রেসিডেন্ট ইফতিমিওস লেক্কাস জানিয়েছেন, এমন অভূতপূর্ব পরিস্থিতি আগে দেখেননি।
সর্বপ্রথম গত ২৬ জানুয়ারি কম্পন অনুভূত হয় গ্রিসে। সেই থেকে লাগাতার কাঁপছে দেশ। ১ জানুয়ারিই জরুরি অবস্থা জারি হয়। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে জোরকদমে উদ্ধারকার্য শুরু করে সরকার। ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৮ হাজারের বেশি বার ভূমিকম্প ঘটে গিয়েছে।
তবে এমন মুহুর্মুহু ভূমিকম্পের নেপথ্য কারণ নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত বিজ্ঞানীরা। কারণ গ্রিস বরাবরই ভূমিকম্প প্রবণ দেশ হিসেবে পরিচিত। এজিয়ান সাগরের নীচে চ্যুতিরেখা রয়েছে একাধিক। স্যান্টোরিনি দ্বীপটি অর্ধচন্দ্রাকার, যার নীচের অংশও অত্যন্ত সংবেদনশীল। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলে মাটির নীচে ছোট আকারের টেকটোনিক পাত রয়েছে, যার বিস্তৃতি আফ্রিকান পাত পর্যন্ত। আফ্রিকান পাতটি আবার ইউরেশিয়ান পাতের নীচে ঢুকে গিয়েছে বেশ খানিকটা। ফলে একটু এদিক ওদিক হলেই উথালপাথাল পরিস্থিতি তৈরি হয়।
বিগত কয়েক দশকে একাধিক বার ভূমিকম্প হয়েছে গ্রিসে। প্রাণহানি, ক্ষয়ক্ষতিও হয়। ১৮৫৬ সালে ৭.৭ তীব্রতায় ভূমিকম্প হয়। ২০১১-’১২ সালেও কেঁপে ওঠে স্যান্টোরিনি। কিন্তু ভূমিকম্প, আফটারশকের সংখ্যা কখনও ১০০ ছাড়ায়নি এযাবৎ। কিন্তু এবার সংখ্যা ৮০০০ পেরিয়ে গিয়েছে।
পাশাপাশি, অগ্ন্যুৎপাতের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। স্যান্টোরিনিতে Kolumbo আগ্নেয়গিরিও রয়েছে। অগ্ন্যুৎপাতের ফলেও ভূমিকম্প হতে পারে বলে মত বিজ্ঞানীদের একাংশের। অতীতে এমন ঘটার নজিরও রয়েছে। আজ থেকে ৩৫০০ বছর আগে বিধ্বংসী অগ্ন্যুৎপাতে সাক্ষী হয় গ্রিস। ১৬২০ সালে। অগ্ন্যুৎপাতের জেরে স্যান্টোরিনির বিস্তীর্ণ অংশ ধসে যায়। ওই অগ্ন্যুৎপাতের জেরেই মিনোয়ান সভ্যতার বিলুপ্তি ঘটে বলে মনে করা হয়। তাই সবমিলিয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।