নয়াদিল্লি: মাত্র আট দিনের অভিযানে গিয়েছিলেন। ফিরলেন সাড়ে ন’মাস পর। এর মাঝে সুনীতা উইলিয়ামস এবং ব্যারি বুচ উইলমোরকে পৃথিবীতে ফেরানোর কম চেষ্টা হয়নি। শেষ পর্যন্ত ইলন মাস্কের সংস্থা SpaceX-এর Crew-9 Dragon মহাকাশযানই নিরাপদে সুনীতা এবং ব্যারিকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনল। NASA-র আর এক বিজ্ঞানী নিক হেগ এবং রাশিয়ার ROSCOSMOS-এর অলেকজান্ডার গরবুনভকেও ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আগামী দিনে এক ভারতীয়কে নিয়ে মহাকাশে রওনা দেবে মাস্কের সংস্থার Dragon মহাকাশযান। (SpaceX Dragon)
Crew-9 সুনীতাদের নিরাপদে ফেরানোর পর, এই মুহূর্তে খবরের শিরোনামে SpaceX-এর Dragon মহাকাশযান। এর পর Axiom Mission (Ax-4) অভিযানের কেন্দ্রীয় চরিত্রও Dragon. Axiom Mission (Ax-4) একটি বেসরকারি মহাকাশ অভিযান। ২০২৫ সালের বসন্তে ওই অভিযানের আওতায় ভারতীয় মহাকাশচারী শুভাংশু শুক্ল আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে গিয়ে পৌঁছবেন। এখন থেকেই সেই নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। (Sunita Williams)
ফ্লোরিডায় আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA-র কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকেই সূচনা হবে Axiom Mission (Ax-4) অভিযানের। চার মহাকাশচারীকে নিয়ে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের উদ্দেশে রওনা দেবে SpaceX-এর Dragon মহাকাশযান। সেই অভিযানে ভারতীয় বায়ুসেনার টেস্ট পাইলট শুভাংশুও অংশ নেবেন। পরবর্তীতে ভারতের ISRO-র গগনযান অভিযানেও অংশ নেবেন শুভাংশু।
শুভাংশু ছাড়াও Axiom Mission (Ax-4) অভিযানের আওতায় আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের উদ্দেশে রওনা দেবেন NASA-র পেগি হুইটসন, ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির পোল্যান্ডের সাওৎজ উজনানস্কি-উইলনিউস্কি এবং হাঙ্গেরির টিবর কপু। মোট ১৪ দিন মহাকাশে থাকবেন তাঁরা। মহাকাশ অভিযাবের বাণিজ্যিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন তাঁরা। মহাকাশে একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষাও চালাবেন।
রাকেশ শর্মার পর শুভাংশুর হাত ধরে ভারত থেকে কেউ মহাকাশ অভিযানে যাচ্ছেন। সেই নিয়ে শুভাংশুর বক্তব্য, "৪১ বছর এক ভারতীয় ফের মহাকাশে যাচ্ছেন, আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনেও এই প্রথম বার। মহাকাশ গবেষণায় আমরা কতদূর এগিয়েছে, এটা তারই পরিচয়। দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে পারা আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের। এই সবে শুরু। মহাকাশে মানুষ পাঠানোয় আরও অনেক দূর এগোবে ভারত। ১৯৮৪ সালে উিং কমান্ডার রাকেশ শর্মা প্রথম মহাকাশে যান। আমি ওঁর কাহিনি শুনে বড় হয়েছি। উনি আমাকে অনুপ্রেরণা জোগান।"
Axiom Mission (Ax-4) অভিযানকে ঘিরে NASA এবং ISRO -র মধ্যে সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠছে। ওই অভিযান থেকে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেই গগনযান অভিযানে হাত দেবে ISRO. Axiom Space প্রথম বেসরকারি স্পেস স্টেশন গড়ার লক্ষ্য নিয়েও এগোচ্ছে। তাই শুভাংশু এবং ভারতের জন্য অভিযানটি গুরুত্বপূর্ণ। আগামী দিনে মহাকাশে পর্যটন ব্যবসার অন্তর্গত করে তোলার ক্ষেত্রেও এই অভিযানের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।