নয়াদিল্লি: নেহাত ঝোঁক নয়, ট্যাটু ভালবাসেন অনেকেই। কিন্তু কখনও কখনও ট্যাটুর জন্য় অপ্রস্তুতেও পড়তে হয়। বিশেষ করে চাকরির ইন্টারভিউ বা গুরুত্বপূর্ণ কাজে গেলে, শরীরের উন্মুক্ত জায়গায় থাকা ট্যাটু লুকোতে হয়। তবে এবার সেই সমস্যার সমাধান বের করে ফেললেন বিজ্ঞানীরা। ‘অন-অফ’ করা যায়, এমন কালি বের করে ফেললেন। (Switchable Tattoos)

Continues below advertisement

আলোর সাহায্য়ে ‘অন-অফ’ করা যায় ট্যাটু আঁকার তেমন কালি অবিষ্কার করলেন বিজ্ঞানীরা। ফলে ট্যাটু মোছার যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে আর যেতে হবে না। ত্বকের উপর খোদাই করা শিল্পকর্ম ইচ্ছে মতো ঢেকে ফেলা যাবে। আলোর সাহায্য়ে ট্যাটু ঢাকার ওই গোটা পদ্ধতির নাম রাখা হয়েছে PhotoTat. Matter & Light জার্নালে বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছেন বিজ্ঞানীরা। (Science News)

আরও পড়ুন: ‘ক্ষমা করবেন, বুঝতে পারিনি আপনি ভারতের আসল Boss’, আরও আক্রমণাত্মক ইলন মাস্ক, সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক তোপ

Continues below advertisement

PhotoTat-এ মোট তিনটি রংয়ের কালি রয়েছে, নীল, ম্যাজেন্টা এবং গলুদ, যা তৈরি করা হয়েছে ফোটোক্রোমিক ডাই দিয়ে। সেগুল আলোক-সংবেদনশীল যৌগ, যা তরঙ্গদৈর্ঘ্যের প্রভাবে রং বদলায়। ওই রঞ্জকগুলিকে পলিমিথাইল মেথাক্রাইলেটের ন্যানো পার্টিকলের ভিতর আবদ্ধ করেন বিজ্ঞানীরা। লিমিথাইল মেথাক্রাইলেট চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহৃত কাচের মতো প্লাস্টিক, যা ইমপ্ল্যান্ট ডার্মাল ফিলার তৈরিতে লাগে।

ফোটোক্রোমিক ডাই এক ধরনের রাসায়নিক যৌগ বা রং, যা আলোর সংস্পর্শে এলে রং বদলে ফেলে। বিশেষ করে অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে এলে চরিত্রবদল ঘটে। আলো পড়লে ওই রঞ্জকের অণুর রাসায়নিক গঠন পাল্টে যায়। যেভাবে আলো শুষে নেয় সেটি, তাতে কখনও বর্ণহীন থেকে রঙিন হয়ে যায়, কখনও আবার এক রং থেকে অন্য রংয়ে বদলে যায়। আবার অদৃশ্যও করে দেওয়া যায় ট্যাটু। আলো সরিয়ে নিলে আবার আসল অবস্থা ফিরে আসে। চশমার লেন্স, টাকার নোটে, রং পরিবর্তনকারী পোশাক এবং খেলনায় এই পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।

আরও পড়ুন: আগে থেকে পার্কিং স্পট কিনে রেখে বিপুল টাকা আয় মহিলার, মামলা গড়াল আদালতে, কোর্ট বলল…

ইউনিভার্সিটি অফ কলোরাডো অ্যাড বোল্ডারের অধ্যাপক কার্সন ব্রুনসের বক্তব্য, “এটা এমন ট্যাটু, যা ইচ্ছে হলেই ধারণ করতে পারবেন। আবার ইচ্ছে না হলে দেখা যাবে না।” কার্সন জানিয়েছেন, ৩৬৫ ন্যানোমিটারের অতিবেগুনি রশ্মি এবং এলইডি ব্যবহার করে দু’-তিন দিন সেকেন্ডের মধ্যে রঞ্জকগুলিকে সক্রিয় করে তোলা সম্ভব। একবার সক্রিয় হলে কয়েক ঘণ্টা বা একদিন স্থায়ী হতে পারে। সেই সময় যদি ত্বকের উপর সূর্যের আলো পড়ে, তাহলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে মিলিয়ে যায় রং।

এই জন্যই PhotoTat ট্য়াটু অনন্য বলে মত বিজ্ঞানীদের। তাঁরা জানিয়েছেন, ত্বকের ভিতর মূল রঞ্জকটি থেকে যায়। কিন্তু বদলে যায় ট্যাটুর বাহ্যিক রূপ। ব্রুন্স জানিয়েছেন, ত্বকের ভিতর থাকা PhotoTat-এর তিনটি চ্যানেলই ১.৪ থেকে ২.২ পর্যন্ত পরিবর্তনযোগ্য অবস্থায় থাকে, অর্থাৎ সেটি ‘অন-অফ’ করা যায়। আলোর ভিন্ন ভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্য ব্যবহার করে ট্যাটুর এক একটি অংশকে ফুটিয়ে তোলা যায়। সবুজ আলোয় ফুটে ওঠে ম্যাজেন্টা রংয়ের অংশ। নীল আলোয় হলুদ অংশ ফুটে ওঠে। একই পদ্ধতিতে ট্যাটুর রং বা নকশাও পরিবর্তন করা সম্ভব। বাজারচলতি কালির সঙ্গেও ব্যবহার করা যাবে।