Michael Clarke suffering skin cancer : অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কের অসুস্থতায় চিন্তিত ক্রিকেটপ্রেমীরা। কর্কট রোগে আক্রান্ত তিনি, সম্প্রতি আবারও একটি অপারেশন করাতে হয়েছে, পোস্ট করে জানিয়েছেন, ক্রিকেটার নিজেই। স্কিন ক্যান্সারে ভুগছেন ক্লার্ক। হয়েছে অস্ত্রোপচারও। সম্প্রতি নাকের আরও একটি অস্ত্রোপচার করিয়েছেন তিনি। তাঁর অসুস্থতা ঘিরে দানা বেঁধেছে নানা আশঙ্কা। ফ্যানেদের উদ্বেগ, বেশি সময় ধরে রোদ্দুরে থাকার ফলেই কি এমন রোগে আক্রান্ত হলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক? তাঁর এই ক্যান্সার এখন কোন স্টেজে? সুস্থ হয়ে উঠবেন তো তিনি?
মাইকেল ক্লার্কের পোস্ট
মাইকেল ক্লার্ক ২৯শে আগস্ট ,শুক্রবার, ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্ট করেন। তিনি জানান, ত্বকের ক্যান্সারের জন্য তিনি নাকের ষষ্ঠ অস্ত্রোপচার করিয়েছেন। তাঁর পোস্টেই উল্লেখ, অস্ট্রেলিয়ায় ত্বকের ক্যান্সারের ঘটনা খুবই সাধারণ। তাঁর নাক থেকে আরও একটি টিউমার বা মাংসপিণ্ড বের করা হয়েছে অপারেশন করে। তিনি সকলকে সতর্ক করে দেন, কোনও উপসর্গই অবহেলা করার নয়। প্রত্যেককে নিজের ত্বকের পরীক্ষা করানোর আবেদন করেছেন তিনি। ২০০৬ সালে প্রথমবার মাইকেল ক্লার্কের এই রোগ ধরা পড়ে। ক্রিকেট খেলার সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোদে থাকার জন্যই তাঁর এই সমস্যা হয় বলে জানা যায়। এখন ৪৪ বছর বয়সী ক্লার্ক আবারও এই রোগের প্রতিকূলতার সম্মুখীন।
অস্ট্রেলিয়ায় কেন বেশি হয় ত্বকের ক্যান্সার?
মাইকেল ক্লার্কের মতো ক্রিকেটারদের ম্যাচের সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা সূর্যের তীব্র আলোতে থাকতে হয়। ডাক্তারদের মতে, এই কারণেই ক্লার্কের ত্বকের ক্যান্সার হয়েছে। ২০১৯ সালে তাঁর কপাল থেকে তিনটি মাংসপিণ্ড বের করা হয় অপারেট করে। সেগুনি নন-মেলানোমা স্কিন ক্যান্সার ছিল। এবার নাকে অস্ত্রোপচার করাতে হল। ক্লার্কের কায়, অস্ট্রেলিয়ায় রোদ খুব চড়া। সেই জন্যই এখানে ত্বকের ক্যান্সারের ঘটনা সবচেয়ে বেশি।
কেন হয় ত্বকের ক্যান্সার?
ত্বকের ক্যান্সারের সবচেয়ে বড় কারণ হল সূর্যের অতিবেগুনি (ইউভি) রশ্মি। যখন কেউ বেশিক্ষণ রোদে থাকেন, তখন এই রশ্মি ত্বকের ডিএনএ-র ক্ষতি করে। এর ফলেই স্কিন ক্যান্সার হয়ে থাকে। ক্লার্কের মতো যাঁরা ক্রিকেট খেলেন এবং বেশি সময় রোদে কাটান, তাঁদের ঝুঁকি বেশি। তাছাড়া অস্ট্রেলিয়ার মানুষদের গায়ের রং বেশ ফর্সা, সেটাই স্কিন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া পরিবারে যাঁদের ক্যান্সারের ইতিহাস রয়েছে, তাঁদের বেশি সতর্ক থাকতে হবে।
কত ধরনের হয় ত্বকের ক্যান্সার?
ত্বকের ক্যান্সার তিন ধরনের হয়। এর মধ্যে বেসাল সেল কার্সিনোমা সবচেয়ে সাধারণ, যা ধীরে ধীরে বাড়ে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা, যা ত্বকের উপরের স্তরে হয়। তৃতীয়টি হল মেলানোমা ক্যান্সার, যা সবচেয়ে মারাত্মক এবং দ্রুত ছড়ায়। ক্লার্কের নন-মেলানোমা ক্যান্সারে আক্রান্ত, যা কম বিপজ্জনক বলেই মনে করা হয়। ত্বকের ক্যান্সারের লক্ষণ শুরুতে অতটা স্পষ্ট হয় না। কিন্তু উপেক্ষা করলে বড় বিপদ হতে পারে। যদি ত্বকে নতুন কোনও মাংসপিণ্ড বেড়ে ওঠে বা স্পট বাড়ে, তাহলে মনোযোগ দেওয়া দরকার। এছাড়াও পুরনো তিলের রঙ, আকার বা আকারে পরিবর্তন, ক্ষত না শুকোনো, চুলকানির জায়গা থেকে রক্ত পড়াও ত্বকের ক্যান্সারের লক্ষণ। এমন লক্ষণ দেখা দিলে ডাক্তারের সঙ্গে দেখা করুন, কারণ দ্রুত শনাক্ত করা গেলে ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে রোগ সেরে যায়।
ত্বকের ক্যান্সার সনাক্ত করার সবচেয়ে সঠিক উপায় হল নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো। ভিজ্যুয়াল পরীক্ষা, ডার্মোস্কোপি, বায়োপসি ইত্যাদি করে রোগ নির্ণয় করা যায়। যাঁদের রোদে বেশি থাকতে হয়, তাঁদের বছরে একবার ডার্মাটোলজিস্টের কাছে যাওয়া দরকার।
যদি ত্বকের ক্যান্সার থেকে বাঁচতে চান, তাহলে রোদ থেকে ত্বককে রক্ষা করতে হবে। রোদে যাওয়া জরুরি হলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। এছাড়াও,ফুল-হাতা জামা,টুপি এবং রোদ-চশমা পরা উচিত। ট্যান হলে , ত্বকের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
ডিসক্লেমার: খবরে দেওয়া কিছু তথ্য মিডিয়া রিপোর্টগুলির উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। কোনো পরামর্শ অনুসরণ করার আগে, সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।