মুম্বই: আদৌ কি এই বছরের এশিয়া কাপ হবে? আদৌ কি ভারতীয় ক্রিকেট দল এশিয়া কাপে অংশ নেবে? ভারত-পাকিস্তান সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য এই টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। বিসিসিআইয়ের তরফে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে পাকিস্তানের সঙ্গে কোনও টুর্নামেন্টে এক গ্রুপে তারা খেলবে না। তবে সূত্রের খবর, এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল নাকি ভাবনা চিন্তা শুরু করে দিয়েছে। সেক্ষেত্রে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে এশিয়া কাপ আয়োজনের ভাবনা চিন্তা করছে তারা।
এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্য়ে কোনওভাবেই যেন টুর্নামেন্টে আয়োজনে কোনও সমস্যা নেই। এই এশিয়া কাপ এবার ভারতে হওয়ার কথা। কিন্তু পহেলগাঁও জঙ্গি হানা ও এরপর ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধকালিন পরিস্থিতির জন্য দু দেশের সম্পর্ক আরও খারাপ হয়েছে। পাকিস্তানও ভারতের মাটিতে খেলতে আসবে না। ফলে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল নিউট্রাল কোনও ভেন্যুতে খেলা আয়োজন করতে চাইছে। পিসিবি চেয়ারম্য়ান মহসিন নাকভি এই মুহূর্তে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভাপতি। বিসিসিআইও এখনও পর্য়ন্ত কোনও অফিশিয়াল বিবৃতি দেয়নি।
এবারের এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টি ফর্ম্য়াটে হওয়ার কথা। আগামী বছর ২০২৬ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ রয়েছে। এর আগে ২০২৩ এশিয়া কাপ পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে আয়োজিত হয়েছিল হাইব্রিড মডেলে। এবারও হয়ত সেই মডেলেই খেলা হতে পারে।
ভারতীয় দল এশিয়া কাপে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন। রেকর্ড অষ্টমবার এই ট্রফি জিতেছে টিম ইন্ডিয়া। গত এশিয়া কাপে রোহিত শর্মার নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়ন হয় ভারত। ফাইনালে মহম্মদ সিরাজের ম্যাজিকাল স্পেল। ৬ উইকেট একাই নিয়েছিলেন ডানহাতি পেসার। ২১ রান খরচ করে ৬ উইকেট নেন তিনি। শ্রীলঙ্কা মাত্র ৫০ রানে অল আউট হয়ে যায়। রান তাড়া করতে নেমে ৬.১ ওভারে জয় ছিনিয়ে নেয় ভারত।
বিস্ফোরক মন্তব্য যোগরাজের
ফের বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন যোগরাজ সিংহ। মহেন্দ্র সিংহ ধোনির থেকে নেতৃত্বভার কেড়ে নিতে চেয়েছিলেন নির্বাচকরা। এমনকী গম্ভীরদের কেরিয়ারও নষ্ট করেছেন নির্বাচকরা, এমনই জানালেন যুবরাজ সিংহের বাবা। ২০১১ বিশ্বকাপে ভারতীয় দলে খেলা চারজন প্লেয়ার মহেন্দ্র সিংহ ধোনি, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, বিরাট কোহলি ও সুরেশ রায়না পরের ওয়ান ডে বিশ্বকাপেও খেলেছেন। যোগরাজ বলছেন, ''বিসিসিআই নির্বাচকর কমিটি ২০১১ বিশ্বকাপের পরই কয়েকজন প্লেয়ারের কেরিয়ার নষ্ট করে দিয়েছিল। গৌতম গম্ভীর, যুবরাজ সিংহ, হরভজন সিংহ, জাহির খান, মহম্মদ কাইফ, ভিভি এস লক্ষ্মণ ও রাহুল দ্রাবিড়। এই কয়েকজন প্লেয়ারকে সরিয়ে দিয়েছিল নির্বাচক কমিটি। ২০১১ বিশ্বকাপের পর দলের ছন্দ নষ্ট করে দিয়েছিল নির্বাচকমণ্ডলী।''
শুধু এখানেই থেমে থাকেননি যোগরাজ। ২০১২ সালে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রলিয়ার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর ধোনিকে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। যোগরাজ বলছেন, ''আমরা ইংল্যান্ডে ও অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট সিরিজ হেরেছিলাম। ধোনির নেতৃত্বে পাঁচটি সিরিজ হেরেছিলাম। সেই সময় মহিন্দর অমরনাথ নির্বাচক ছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন ধোনিকে দল থেকে সরিয়ে দিতে। তবে বোর্ড সভাপতি এন শ্রীনিবাসনের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত ধোনিকে সরানো হয়নি।''