সিডনি: বিগ ব্য়াশ লিগের (Big Bash League) ইতিহাসের সবথেকে দামি বিদেশি ক্রিকেটার তিনি। এবারের বিগ ব্যাশে রান পেলেও, বাবর আজমের (Babar Azam) স্ট্রাইক রেটের জন্য তাঁর যথেষ্ট সমালোচনা হয়েছে। শুক্রবার ফের এমন এক ঘটনা ঘটল যার ফলে আবারও চর্চার কেন্দ্রে প্রাক্তন পাকিস্তান অধিনায়ক। ঘটনাটা ঠিক কী?
আজ এসিজিতে বিবিএলে সিডনির দুই ফ্র্যাঞ্চাইজ়ি একে অপরের মুখোমুখি হয়েছিল। সেখানে সিক্সার্স দলের হয়ে ১১ বছর পর বিবিএলে খেলতে নেমেছিলেন মিচেল স্টার্ক। পাশাপাশি সিক্সার্সের ওপেনিং জুটিতেও ছিল চমক। অ্যাশেজ খেলে ফেরার পর থেকে সিক্সার্সের হয়ে স্টিভ স্মিথ (ব) এবং বাবর আজম, বর্তমান সময়ের দুই তারকা ব্যাটার ওপেন করছেন। সিডনি স্ম্যাশেও আজ তাই আর সেখানেই বিপত্তি।
গোটা টুর্নামেন্টেই বাবর আজমের স্ট্রাইক রেটে নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। আজকের ম্যাচেও তিনি মন্থর গতিতেই ব্যাট করছিলেন। এমন সময় ১১ নম্বর ওভারে বাবর তিনটি ডট বল খেলেন। ওই ওভারের শেষ বলে বাবর লং অনে বল মারেন। আপাত অর্থে একটি সহজ এক রান হয়ে যেত সেখানে। তবে অপরপ্রান্তে থাকা স্টিভ স্মিথ রান নাকচ করে দেন। তাতে বাবরকে বেশ হতবাকই দেখায়। স্মিথের সঙ্গে তিনি কথাও বলেন। তবে সম্ভবত পরের ওভারের কথা ভেবেই স্মিথ এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
ঠিক পরের ওভারেই সিক্সার্সরা পাওয়ার সার্জ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় যেখানে বাড়তি ফিল্ডার পাওয়ার প্লের মতোই সার্কেলের ভিতরে থাকেন। সেখানে স্মিথ নিজের সিদ্ধান্তকে একেবারে সঠিক প্রমাণ করেন। রায়ান হ্যাডলির বলে নাগাড়ে চারটি ছক্কা মারেন স্মিথ। ওভারে বিবিএল রেকর্ড মোট ৩২ রান করেন তিনি। কিন্তু স্মিথ দুরন্ত ব্যাটিং করলেও, বাবরের ভাগ্য সহায় হয়নি।
স্মিথের সেই সিঙ্গেল মানা করার ঠিক পরে যে বলটি প্রথম খেলেন বাবর, তাতেই তিনি বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফরেন। তাঁর সংগ্রহ ৩৯ বলে ৪৭ রান। স্ট্রাইক রেট মাত্র ১২০-র আশেপাশে। আউট হয়ে মাঠ ছেড়ে বের হওয়ার সময় ক্ষোভে ফেটে পড়েন বাবর। ব্যাট দিয়ে অ্যাড কুশনগুলিকে সজোরে আঘাত করতে দেখা যায় তাঁকে। দিনকয়েক আগেই বাবরের পাকিস্তানি দলের সতীর্থ তথা একদা ওপেনিং পার্টনার মহম্মদ রিজওয়ানকে মন্থর গতিতে খেলার জন্য রিটায়ার্ড আউট করা হয়েছিল, এবার বাবরকেও সিঙ্গেল নিতে মানা করা হল।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই ম্য়াচে বাবর আউট হলেও সিক্সার্সরা দুরন্ত ভঙ্গিমায় ম্যাচ জিতে নেয়। মাত্র ১৭.২ ওভারেই জয়ের জন্য কাঙ্খিত ১৯০ রান তুলে ফেলে সিক্সার্সরা। স্টিভ স্মিথ ৪২ বলে ১০০ রান করেন। এটি বিবিএলে তাঁর চতুর্থ শতরান। প্রতিপক্ষের ডেভিড ওয়ার্নারও এদিন সেঞ্চুরি হাঁকান। বিশ ওভারের ক্রিকেটে শতরানের নিরিখে কোহলিকে পিছনে ফেলেন, তবে তা সত্ত্বেও তাঁর দল সিডনি থান্ডার্সকে ম্যাচ হারতে হয়।