সিডনি: মেনিনজাইটিসের ফলে কোমায় চলে গিয়েছিলেন। প্রাণ যায় যায় অবস্থা। তবে তিনি তো চ্যাম্পিয়ন, বিশ্বক্রিকেট শাসন করা অস্ট্রেলিয়ান দলের অন্যতম সদস্য। সহজে তো তিনি হেরে যান না। জীবনযুদ্ধেও হারেননি ড্যামিয়েন মার্টিন (Damien Martyn)। কোমা থেকে ফিরে এসে এবার এক আবেগঘন পোস্টে নিজের স্বাস্থ্যের আপডেট সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিলেন তারকা প্রাক্তনী।
আগে জানা গিয়েছিল কোমা থেকে জেগে উঠেছেন মার্টিন। প্রাক্তন সতীর্থ অ্যাডাম গিলক্রিস্ট গত সপ্তাহেই জানিয়েছিলেন মার্টিন হাসপাতাল থেকেও ছাড়া পেয়েছেন। এবার অনেকটা সুস্থ হয়ে নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে মার্টিন লিখলেন, 'এই পোস্টটা আমার পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং অগণিত মানুষজন যারা আমার খোঁজখবর জানতে চেয়েছেন, তাঁদের ধন্য়বাদ জানিয়েই করছি। ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫-এ আমার জীবনের নিয়ন্ত্রণ আমার হাত থেকে চলে গিয়েছিল। আমার মস্তিষ্কে মেনিনজাইটিস দখলে নিয়ে নিয়েছিল এবং এর সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য আমায় কোমায় রাখা হয়েছিল। আর আমি লড়েছি।'
মার্টিন জানান তাঁর জীবন-মরণের ৫০-৫০ শতাংশ সম্ভাবনা ছিল। তিনি কথা বলতে, হাঁটতে পারছিলেন না বলেও জানান মার্টিন। তবে সকলকে চমকে দিয়ে তিনি ফিরে আসেন এবং পাশাপাশি জীবন যে অনিশ্চিত সেটাও তাঁকে হাড়ে হাড়ে বুঝিয়ে দেয়। 'আমায় ৫০/৫০ সুযোগ দেওয়া হলেও আমি আটদিন পর কোমা থেকে ফিরে আসি। তবে হাঁটতে বা কথা বলতে পারছিলাম না। তবে ঠিক চারদিন পর ডাক্তারদেরও চমকে দিয়ে আমি হাঁটাচলা ও কথা বলা শুর করি এবং ওঁদের প্রমাণ করে দিই যে আমায় হাসাপাতাল থেকে এবার কেন ছাড়তে হবে। বাড়ি ফিরতে পেরে, সমুদ্র তটের বালিতে পা দিয়ে হাঁটতে পেরে অত্যন্ত খুশি আমি। আর আমার ও আমার পরিবারকে যারা এই সময়ে সমর্থন জানিয়েছেন, তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ। এই অভিজ্ঞতা কিন্তু আমায় বুঝিয়ে দিয়েছে যে জীবন কতটা অনিশ্চিত........ধন্যবাদ! ২০২৬ এগিয়ে এস... আমি ফিরে এসেছি।' লেখেন মার্টিন।
প্রাক্তন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারের এহেন অভাবনীয় প্রত্যাবর্তনে যে ক্রিকেটমহলে খুশির হাওয়া, তা কিন্তু বলাই বাহুল্য।
