রাজকোট: প্রথম ইনিংসে কেএল রাহুলের (KL Rahul) দুরন্ত শতরানে ভর করে লড়াইয়ের রসদ পেয়েছিল ভারত। চ্যালেঞ্জিং পিচে ২৮৫ রানের লক্ষ্য সহজ ছিল না। তবে রাজকোটে কার্যত হেসেখেলেই ভারতীয় দলকে হারিয়ে সিরিজ়ে সমতায় ফিরল নিউজ়িল্যান্ড। সৌজন্যে ড্যারেল মিচেল (Daryl Mitchell) এবং উইল ইয়ংয়ের ((Will Young) দুরন্ত ইনিংস। এই দুই তারকার সুবাদেই ১৫ বল ও সাত উইকেট বাকি রেখে ম্যাচ জিতল কিউয়িরা।
এদিন ব্যাট করতে নেমে কিউয়ি ওপেনাররা বঢোদরার মতো দলের হয়ে শুরুটা ভাল করতে পারেননি। শুরুতেই নতুন বল হাতে ভারতকে প্রথম সাফল্য এনে দেন হর্ষিত রানা। ডেভন কনওয়েকে মাত্র ১৬ রানেই বোল্ড করেন হর্ষিত। অপর ওপেনার হেনরি নিকোলসকে ১০ রানে ফেরান প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ। ৫০ রানের আগেই দুই উইকেট হারিয়ে ফেলে নিউজ়িল্যান্ড। এই পরিস্থিতিতে ভারতের হাতেই ম্যাচের রাশ ছিল। তবে ধীরে ধীরে ইনিংস গড়ার কাজ শুরু করেন মিচেল এবং ইয়ং।
মিচেলের ক্যাচ ফেলেছিলেন প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ, তার খেসারত ম্যাচ হেরে দিতে হল ভারতকে। গত ম্যাচেও মিচেল দুরন্ত অর্ধশতরান হাঁকিয়েছিলেন। এই ম্যাচেও তিনি ৫২ বলে হাফসেঞ্চুরি পূরণ করেন। তবে গত ম্যাচে মিচেলকে কেউ সঙ্গ দেননি। এই ম্যাচ ইয়ং সেই কাজটা করেন। তিনি তুলনামূলক আরেকটু দেখেশুনে ৬৮ বলে অর্ধশতরান পূরণ করেন। সাধারণত মাঝের ওভারগুলোতে কুলদীপ যাদব ভারতকে সাফল্য এনে দেন। তবে এদিন তাঁকে থিতুই হতে দেননি মিচেলরা। শুরু থেকে কুলদীপকে আক্রমণ শানান তাঁরা। দেখতে দেখতে ৩৬ ওভারেই দু'শো রানের গণ্ডি পার করে ফেলে নিউজ়িল্যান্ড।
অবশেষে ইয়ংকে ৮৭ রানে সাজঘরে ফেরান কুলদীপ। কিন্তু মিচেল এদিন সুযোগ হাতছাড়া করেননি ৯৬ বলে নিজের শতরান পূরণ করেন তিনি। গ্লেন ফিলিপ্সের সঙ্গে মিলে আরও এক পার্টনারশিপও গড়েন। এর ফলে সহজেই ম্যাচ জিতে নেয় কিউয়িরা। ফিলিপ্সও ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন। মিচেলের সংগ্রহ অপরাজিত ১৩১ রান।
এর আগে প্রথম ইনিংসে রোহিত-গিল জুটি এদিনও দারুণ শুরু করেছিলেন। কিন্তু হিটম্য়ান একটা বাজে শট খেলে আউট হন ২৪ রান করে। তিন নম্বরে নামা বিরাট প্রথম বলেই বাউন্ডারি হাঁকিয়েছিলেন। আগের ম্য়াচে ৯৩ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরতে হয়েছিল। এদিন ২৩ রান করে প্যাভিলিয়ন ফিরলেন কিং কোহলি।
রান পাননি শ্রেয়স আইয়ারও। গিল এদিনও অর্ধশতরান পূরণ করেন। তবে ব্যক্তিগত ৫৮ রানের মাথায় তিনিও আউট হয়ে যান। এরপরই খেলার হাল ধরেন কে এল রাহুল। একদিকে পরপর উইকেট পড়লেও ক্রিজের উল্টোদিকে সেট ছিলেন ডানহাতি এই ব্যাটার। আগের দিনও শেষ পর্যন্ত ক্রিজে ছিলেন। এদিনও শেষ পর্যন্ত ক্রিজে থাকলেন। ৯টি বাউন্ডারির সাহায্যে অপরাজিত ১১২ রানের ইনিংস খেলেন রাহুল। লোয়ার অর্ডারে রবীন্দ্র জাডেজা ২৭ ও নীতীশ রেড্ডি ২০ রানের ইনিংস খেলেন। সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারলেন না রেড্ডি। তবে রাহুল শতরান হাঁকালেও হারল ভারত। তাই আসন্ন রবিবার সিরিজ় নির্ণায়ক ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল।