বার্মিংহাম: কয়েক ঘণ্টা পরেই শুরু হয়ে যাবে ভারত বনাম ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় টেস্ট (India vs England 2nd Test)। বার্মিংহামের এজবাস্টনে আয়োজিত হতে চলেছে দ্বিতীয় ম্যাচ। এই মাঠে অনেক সময়ই কিন্তু পরিবেশের ওপর ভিত্তি করে ম্যাচের ফলাফলে বিরাট হেরফের হতে অতীতে দেখা গিয়েছে। সেই কারণেই এজবাস্টনের পিচ ও বার্মিংহামের পরিবেশের দিকে সকলের নজর রয়েছে।

এজবাস্টনে সচরাচর ফাস্ট বোলাররা মদত পেয়ে থাকেন। প্রায়শই আকাশে মেঘ দেখা যায় ফলে টেস্টের শুরুর দিকে বিশেষত বল স্যুইং করানোর জন্য একেবারে ঠিকঠাক পরিবেশ থাকে। এই ম্যাচের পিচ দেখেও কিন্তু তেমনটারই  পূর্বাভাস মিলছে। টেস্টের প্রথম দুই দিনে ডিউকস বলে ফাস্ট বোলাররা মদত পেতে পারেন। তবে ইংল্যান্ডের মাঠগুলিতে যেমন হয়ে থাকে, তেমনই এজবাস্টনেও ফের একবার ম্য়াচ যত গড়াবে পিচ ততটাই পাটা ও ব্যাটিং সহায়ক হয়ে উঠতে পারে। এই বিষয়টা টসের সময় দুই অধিনায়কের মাথায় ঘোরাফেরা করবে। ম্যাচের পঞ্চম দিনে পিচ হালকা ভাঙতে পারে, পাশাপাশি বোলারদের ফুটমার্কের দৌলতে রবীন্দ্র জাডেজার মতো স্পিনাররাও কিন্তু ম্যাচে বেশ বড় প্রভাব ফেলতে পারেন।

ম্যাচের আগে প্রথম দিনের শুরুর দিকে বা খানিকটা আগে বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বজ্রবিদ্য়ুৎসহ বৃষ্টির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। পঞ্চম দিনেও পূর্বাভাস অনেকটা তেমনই। তবে বাকি তিনদিন বার্মিংহামের পরিবেশ বেশ ঠিকঠাক থাকবে। বৃষ্টির তেমন কোনও আশঙ্কা নেই। তাপমাত্রাও সর্বোচ্চ ২০ ডিগ্রির আশেপাশে থাকার পূর্বাভাস। ফলে এই তিনদিন বিশেষ করে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখা যেতে পারে। এখানকার পিচ, পরিবেশ সবটাই ভারতীয় উপমহাদেশের থেকে খানিকটা ভিন্ন। তাই টিম ইন্ডিয়ার সামনে যে কড়া চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা রয়েছে তা বলাই বাহুল্য।

পরিবেশের এই ভিন্নতার কারণেই এখানে হয়তো ভারতীয় দলের রেকর্ড অত্যন্ত হতাশাজনক। ১৯৬৭ সালে ভারতীয় দল এজবাস্টনে প্রথমবার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট ম্যাচ খেলতে নামে। তারপর থেকে ৫৮ বছর কেটে গিয়েছে। এই মাঠে আরে সাতবার ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয় ভারত। দুর্ভাগ্যবশত আটবারের মধ্যে টিম ইন্ডিয়া এজবাস্টনে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে একটিও টেস্ট ম্য়াচ জিততে পারেনি। তিন ম্যাচে তো ইনিংসে হেরেছে টিম ইন্ডিয়া। কেবল ১৯৮৬ সালে টেস্ট ম্য়াচ ড্র করতে সক্ষম হয়েছিল ভারতীয় দল। বাকি সাত ম্যাচেই পরাজিত হয়েছে ভারত। শেষবার তিন বছর আগেও সাত উইকেটে হেরেছিল ভারত।

ফলে এই তরুণ ভারতীয় দলের সামনে সেটা করে দেখানোর সুযোগ রয়েছে, যা এর আগে কোনও ভারতীয় দল করতে পারেনি। ইংল্যান্ডকে এজবাস্টনের মাঠে হারিয়ে ইতিহাস গড়তে পারে শুভমন গিলের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দল। তবে অতীত পরিসংখ্যান কিন্তু প্রমাণ করে দিচ্ছে যে কাজটা একেবারেই সহজ হবে না।