নাগপুর: তিনি ব্যাট হাতে ছন্দে থাকলে ভারতের রানের গতি শুধুই ঊর্ধ্বমুখি হয়। আরও একবার ঝোড়ো অর্ধশতরানের ইনিংস খেলেছিলেন কিউয়িদের বিরুদ্ধে নাগপুরে। ২২ বলে নিজের অর্ধশতরানের ইনিংস খেলা অভিষেক নাগপুরে শেষ পর্যন্ত ৩৫ বলে ৮৪ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। ২৪০ স্ট্রাইক রেটে ব্য়াটিং করেছিলেন অভিষেক। নিজের ইনিংসে পাঁচটি বাউন্ডারি ও আটটি ছক্কা হাঁকান। অথচ এত ঝোড়ো ইনিংস খেলার পরও অভিষেক মনে করেন তাঁর ঝুলিতে খুব বেশি শটের বিকল্প নেই।
প্রথমে ব্যাটিং করতে নামার পর অভিষেকের হাতে খুব বেশি সময় থাকে না। দ্রুত রান তোলা শুরু করেন অভিষেক। বুধবার ৪৮ রানে ভারতের জয়ের পর অভিষেক বলেন, ''যদি উল্টোদিকের দলের বোলারদের পারফরম্যান্স একবার দেখতে পাওয়া যায়, তাহলে সেখান থেকেই ছক কষা যায় যে কোনও বোলারকে কীভাবে আক্রমণ করা যাবে। আমিও সেই ভাবেই নিজের গেমপ্ল্য়ান সাজাই। ব্যাটিং করি। আমি নিজের শট, নিজের খেলার ক্ষমতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। আমি তাই কিছু নির্দিষ্ট শটই খেলে থাকি। প্র্যাক্টিসে সেই শটগুলো প্রচুরবার খেলে নিজেকে আরও ঘষামেজা করে নিই।''
টি-টোয়েন্টি ফর্ম্যাটে অভিষেকের পর থেকেই অভিষেক শর্মার ব্যাট ছুটেই চলেছে। নিজের অর্ধশতরান পূরণ করতে অভিষেক বুধবার খেলেছিলেন ২২টি বল। এরই সঙ্গে এক রেকর্ডও গড়ে ফেলেছেন। বিশ্বের প্রথম ব্যাটার হিসেবে টি-টোয়েন্টি ফর্ম্য়াটে আটবার অর্ধশতরান করার পথে ২৫ বা তারও কম বল খেলেছেন। টেক্কা দিয়ে দিয়েছেন ভারতীয় দলের বর্তমান ক্যাপ্টেন সূর্যকুমার যাদবকে।
ভারতীয় ব্য়াটারদের মধ্যে টি-টোয়েন্টি ফর্ম্যাটে দ্বিতীয় দ্রুততম হাজার রানের মালিক। সেরা পাঁচজন টি-টোয়েন্টি ব্যাটারের মধ্য়ে একজন অভিষেক। এখনও পর্যন্ত ২টো শতরান ও ৭টি অর্ধশতরান হাঁকিয়েছেন অভিষেক। মূলত ছক্কার সঙ্গেই ডিল করতে দেখা গিয়েছে এই অভিষেক শর্মাকে। তিনি তাঁর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি কেরিয়ারে এখনও পর্যন্ত মোট ৮১টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন। ২০২৫ সালের শেষের দিকে অভিষেক ক্রমতালিকায় ৯৩১ রেটিং পয়েন্ট ছুঁয়ে ফেলেছেন।
অভিষেক শর্মা নিজে ওপেনিংয়ে নেমে শতরান হাঁকান। অন্য়দিকে লোয়ার অর্ডারে ঝড় তোলেন রিঙ্কু সিংহ। তিনি ২০ বলে ঝোড়ো ৪৪ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। হার্দিক পাণ্ড্য ১৬ বলে ২৫ রানের ইনিংস খেলেন। ভারতীয় দল প্রথমে ব্য়াটিং করতে নেমে ২৩৮ রান বোর্ডে তুলে নেয়। যার জবাবে কিউয়িরা ১৯০ এ থেমে যায়।