নয়াদিল্লি: সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের সেরা ফাস্ট বোলারদের প্রসঙ্গ উঠলেই একেবারে উপরের সারিতে মহম্মদ শামির (Mohammed Shami) নাম আসবে। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে ভারতের দুরন্ত দৌড়ে শামির অবদান ছিল অগ্রগণ্য। তিনি ২০২৫ সালে ভারতের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিজয়ী দলেরও সদস্য ছিলেন। তা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় দলে শামি জায়গা পাননি।
তিনি সত্যি বলতে চোট আঘাতেও ভুগেছেন। তবে তারপরে ফিট হয়ে মাঠে ফিরে বাংলার হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের ফিটনেস প্রমাণ করা এবং পারফর্ম করার পরেও অজিত আগরকরের নেতৃত্বাধীন নির্বাচকমণ্ডলী শামিকে দক্ষিণ আফ্রিকা বা নিউজ়িল্যান্ডের সিরিজ়ে দলে নেননি। এ মরশুমেই তো বাংলার হয়ে তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটে ৬৭ উইকেট নিয়েছেন।
এমনকী মহম্মদ শামিকে বার্ষিক চুক্তি থেকেও বাদ দেওয়া হয়। এরপরে অনেকেই মনে করছেন শামির আন্তর্জাতিক কেরিয়ার সম্ভবত শেষ। সঙ্গে সঙ্গে উঠে আসছে অবসরের জল্পনাও। তবে তারকা ক্রিকেটার কিন্তু অবসরের কথা বিন্দুমাত্র ভাবছেন না।
তিনি সম্প্রতি এক পডকাস্টে বলেন, ‘আমি ক্লান্ত হয়ে গেলে আমি অবসর নেব। তবে আমি এখন এসব নিয়ে ভাবছিও না। এসব নিয়ে ভাবলেও, তা কেরিয়ারের জন্য ক্ষতিকারক। তার মানে আপনি ইতিমধ্যেই ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। আর মানুষ বোর হলেই ক্লান্ত হয়। আমি আগেই বলেছি আমার যেদিন ঘুম থেকে উঠে মনে হবে আমি বোর হয়ে গিয়েছি, তখনই আমি অবসর নেব। তবে আমি এখন দুইটির কোনটাই নয়। খেলাটা উপভোগ করছি এবং ইতিবাচক ফলাফলও পাচ্ছি।’
বর্তমানে শামি লখনউ সুপার জায়ান্টসের হয়ে আইপিএলে খেলতে নামবেন। নতুন মরশুমে নতুন দলের হয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি সারছেন তিনি। তবে ভারতীয় টি-২০ দলে কোনওদিনই তেমনভাবে সুযোগ পাননি শামি। এই বিষয়ে শামির দাবি, ‘বোলার হিসাবে আমি নিজের সেরাটা দেব এবং আমার থেকে যা আশা করা হচ্ছে, সেই আশা পূরণ করার চেষ্টা করব। বাকি আমি তো আর আমার ভাগ্য বদলাতে পারব না। তবে লখনউ আমায়র ভরসা করছে যখন, তখন সেই ভরসার মান রাখার চেষ্টা করব।‘
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আইপিএল নিয়ে যদি কথা বলি, তাহলে বলব আমরা অতীত রেকর্ড ঘেটে দেখা হোক, আমার ধারেকাছে আর কোনও ভারতীয় বোলার আছে! তা সত্ত্বে আমি নাকি টি-২০ বোলার নই। বিগত পাঁচ, ছয় বছরের রেকর্ডই দেখা হোক। আমি প্রায় ১৩০টির আশেপাশে উইকেট নিয়েছি। একজন বোলারের কাছে এর থেকে বেশি কী প্রত্যাশা থাকে। হয়তো এই গোটাটাই ভাগ্যের বিষয়। তবে আমি এই গোটাটাই ইতিবাচকভাবে নিচ্ছি।’
