নয়াদিল্লি: এতদিন ভারতের মাটিতেই নিজেদের হোমগ্রাউন্ড হিসেব খেলত আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। গ্রেটার নয়ডা, লখনউ, দেরাদুনে মূলত হোম ম্য়াচগুলো খেলত আফগানিস্তান। কিন্তু এবার আর ভারতে নয়। আগামী পাঁচ বছরের জন্য নতুন হোমগ্রাউন্ড বেছে নিল AFC। আবুধাবিতে আগামী ২০২৯ সাল পর্যন্ত যাবতীয় হোমম্য়াচ খেলবেন রশিদ, ইব্রাহিমরা। আফগানিস্তানের ‘এ’ দলের এবং বয়সভিত্তিক প্রতিযোগিতার সব ম্যাচও হবে সেখানে। আবুধাবি স্পোর্টস হাবের সঙ্গে চুক্তি সেরেছেন আফগানিস্তান ক্রিকটে বোর্ডের কর্তারা। ফলে আর ভারতের মাটিতে কোনও মাঠেই নিজেদের হোম ম্য়াচ খেলতে আসবেন না রশিদ খান ও তাঁর দল।
নয়ডায় নিউজিল্য়ান্ডের বিরুদ্ধে ম্য়াচ বৃষ্টির জন্য পরিত্যক্ত হয়েছিল। এরপরই পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নেয়। টানা বৃষ্টিতে খেলা চালানোই সম্ভব হয়নি। এসিবির কর্তারাও মাঠের হাল দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। এছাড়া বিসিবিরও প্রচুর আর্থিক ক্ষতি হয়েছিল। দু-পক্ষের আলোচনাতেই অবশেষে হোমগ্রাউন্ড বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয় আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। আবুধাবি ক্রিকেট অ্য়ান্ড স্পোর্টস হাবের চিফ এগজিকিউটিভ ম্য়াট বাউচার বলছেন, ''বিশ্বের সেরা ক্রিকেটাররা আমাদের এখানে খেলে গিয়েছে। আফগানিস্তান ক্রিকেট দলকে স্বাগত জানাতে পেরে আমরা অভিভূত। ওরা এখানে আগামী পাঁচ বছর হোম গ্রাউন্ড হিসেবে খেলবে। এসিবির সঙ্গে চুক্তি করতে পেরে আমরা খুব খুশি।''
উল্লেখ্য, কোভিডের আগে থেকেই ভারতে হোমম্য়াচগুলো খেলত আফগানিস্তান ক্রিকেট দল। নিজেদের দেশে ক্রিকট পরিকাঠামো একেবারেই উন্নতমানের না হওয়ায় প্রস্তুতি সারতে অসুবিধে হত ক্রিকেটারদের। এমনকী আফগানিস্তানে রাজনৈতিক আবহও একেবারেই সুখকর নয়। এই অবস্থায় ক্রিকেট খেলাটা একটা অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল রশিদ খান, নূর আহমেদ, মহম্মদ নবিদের জন্য।
নতুন হোম গ্রাউন্ড ইস্যুতে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী নাসিম খান বলেন, ''আবুধাবির প্রিমিয়াম সব সুবিধে পাবে ক্রিকেটাররা। যা আফাগানিস্তান ক্রিকেটের জন্য খুবই ভাল হবে। বিশেষ করে তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য, যাঁরা আগামীতে দেশের জার্সিতে খেলবেন। আমাদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে আবুধাবিকে নির্ধারণ করতে পারা এবং বয়সভিত্তিক পর্যায়ের জন্য এটি ঘরের মাঠ হিসেবে ব্যবহার করতে পারা আমাদের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।''