মুম্বই: ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেট তথা মুম্বইয়ের ময়দানের পরিচিত মুখ পদ্মকর শিভালকর (Padmakar Shivalkar)। মুম্বইয়ের হয়ে দুই দশক খেলেছেন। তবে ৮৪তেই থামল সফর। বার্ধক্যজনিত না না সমস্যায় ভুগছিলেন। সোমবার, ৩ মার্চ নিজের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ১৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৪০ সালে জন্মগ্রহণ করা পদ্মকর শিভালকর।
শিভালকর অত্যন্ত প্রতিভাবান হয়েও কোনওদিন জাতীয় দলে সুযোগ না পাওয়া হতভাগ্য ক্রিকেটারদের অন্যতম। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর পরিসংখ্যান ঈর্ষণীয়। ১৯৬২ সালে সিসিআই প্রেসিডেন্ট একাদশের হয়ে নিজের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট অভিষেক ঘটিয়েছিলেন এই বাঁ-হাতি স্পিনার। মুম্বইকে ঘরোয়া ক্রিকেটের সফলতম দল করে তোলার পিছনে তাঁর বিরাট অবদান রয়েছে। দুই দশকের লম্বা কেরিয়ারে মুম্বইয়ের হয়ে দশবার রঞ্জি ট্রফি জিতেছেন তিনি। রঞ্জিতে তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ৩৬১টি উইকেট। আর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সেই সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৮৯। গড় ১৯.৬৯। মুম্বইয়ের হয়ে এটাই সর্বকালীন রেকর্ড। ৪৩ বার এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট ও ১৩ বার এক ম্যাচে ১০ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব রয়েছে তাঁর। ৫০ বছর বয়সে শিভালকর অবসর ঘোষণা করেন।
মুম্বইয়ের ময়দানে প্যাডি স্যর নামে পরিচিত শিভালকর বিষণ সিংহ বেদীর সমসাময়িক হওয়ায় জাতীয় দলের হয়ে কোনওদিন খেলার সুযোগই পাননি। ১৯৭৩-৭৪ সালে শ্রীলঙ্কার সফরে দ্বীপরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দুই ম্যাচ খেললেও তা সরকারি টেস্টের স্বীকৃতি না পাওয়ায় জাতীয় দলের হয়ে তাঁর খেলার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়। ভারতীয় জাতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে না খেললেও, তাঁকে ২০১৭ সালে কর্নেল সিকে নাইডু জীবনকৃতি সম্মান দেওয়া হয়। বিসিসিআইয়ের তরফে এটাই কোনও ক্রিকেটারকে দেওয়া সর্বোচ্চ সম্মান।
মুম্বই ক্রিকেট সংস্থার (Mumbai Cricket Association) তরফে তাঁর পরলোক গমনে শোকজ্ঞাপন করা হয়েছে। বিসিসিআইও শ্রদ্ধা জানিয়েছে। একই পথে হেঁটেছেন মহারাষ্ট্রের উপপ্রধানমন্ত্রী একনাথ শিণ্ডে, ক্রিকেটার ভিভিএস লক্ষ্মণের মতো কৃতিরাও।
আরও পড়ুন: ২০২৩-র পর আবার ২০২৫, ফের আইসিসি টুর্নামেন্টের নক আউটে প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, কী ভাবছেন রোহিত?