নয়াদিল্লি: পহেলগাঁও কাণ্ডের (Pahalgam Incident) পর ফুঁটছে গোটা দেশ। দাবি একটাই, অভিযুক্তদের যোগ্য শাস্তি। এই পহেলগাঁও কাণ্ডেই বারংবার উঠে আসছে জঙ্গিদের পাক যোগ। এবার এই আবহেই কড়া সিদ্ধান্ত নিল ভারতীয় সরকার। নিষিদ্ধ হল পাকিস্তানি তারকা (Pakistan Cricket Team) ক্রিকেটারদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট।
দীর্ঘদিন ধরেই ভারত ও পাকিস্তান, দুই পড়শি দেশের মধ্যে কোনও ধরনের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ় খেলা হয় না। দুই দলের সাক্ষাৎ হয় কেবল আইসিসি টুর্নামেন্টে। পড়শি দেশগুলির মধ্যেকার রাজনৈতিক অবস্থার জেরেই দ্বিপাক্ষিক সিরিজ় খেলা বন্ধ রয়েছে বহুদিন। বছর দু'য়েক আগে এদেশে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপে পাকিস্তান খেলতে এসেছিল। তবে এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে দুই দল কোনও টুর্নামেন্ট খেলতেই একে অপরের দেশেও যাবে না। এই সবের পরে পহেলগাঁও কাণ্ডের জেরে দুই দেশের মধ্যে চরমে বিবাদ।
এরই মাঝে পাকিস্তানের তারকা ক্রিকেটারদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। ভারতে বাবর আজম, মহম্মদ রিজওয়ান, শাহিন আফ্রিদি, মহম্মদ আমির, নাসিম শাহ, হ্যারিস রউফ, ইমাম উল হকদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হল। ভারত সরকারের নির্দেশের পরেই এদেশে পাক ক্রিকেটারদর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট বন্ধ করল 'মেটা'।
এই প্রথম নয়, গত ২৮ এপ্রিল ভারতীয় সরকারের তরফে পাকিস্তানের যে ১৬টি ইউটিউব চ্যানেল বাতিল করা হয়েছিল, সেগুলির মধ্যে ছিল শোয়েব আখতার, বাসিত আলির ইউটিউব অ্যাকাউন্টও। এবার বর্তমান তারকা বাবরদের সোশ্যাল পড়ল হানা। তবে বাবরদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করা হলেও, ফেসবুক, এক্সের মতো অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট কিন্তু এখনও ভারতে চালু রয়েছে।
এছাড়া অতীতে ভারতে কিন্তু পাক অভিনেতা, অভিনেত্রীদেরও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে নিষেধাজ্ঞা হানা হয়েছিল। ভারতে পাকিস্তানি তারকাদের অনুরাগীদের সংখ্যা নেহাত কম নয়। তাঁদের সোশ্যাল মিডিয়ায় ফলোয়ার্সের সংখ্য়াও কয়েক হাজার। তবে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে এ বার মাহিরা খান, সজল আলি, হানিয়া আমির, আলি জ়াফরদের সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্টগুলি এ দেশে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছিল।
বর্তমান আবহে বলিউড ছবি 'আবির গুলাল'-এর মুক্তিও আটকে গিয়েছে। পাকিস্তানে অভিনেতা ফাওয়াদ খান এবং অভিনেত্রী বাণী কপূর ছবিতে মুখ্যচরিত্রে রয়েছেন। পহেলগাঁও হামলায় পাকিস্তান সংযোগ ধরা পড়ায়, ভারতে পাকিস্তানি অভিনেতা ফাওয়াদের ছবির মুক্তিতে অনুমতি দেয়নি কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার। সব মিলিয়ে কাশ্মীরে জঙ্গিহানার পর যে দুই দেশের সম্পর্ক একেবারে তলানিতে তা বলাই বাহুল্য।