মুম্বই: দীর্ঘ ১৩ বছর পর ফের রঞ্জি ট্রফিতে খেলতে চলেছেন বিরাট কোহলি। শেষবার ২০১২ সালে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলেছিলেন তিনি। দিল্লি বনাম রেলওয়েজ ম্য়াচে মাঠে দেখা যাবে তাঁকে। আর এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকে কোটলায় দিল্লি ম্য়াচের টিকিটের চাহিদাও তুঙ্গে। খারাপ ফর্মের জন্য এই মুহূর্তে বিরাট, রােহিত, জাডেজা, পন্থ প্রত্যেক ক্রিকেটারকেই বোর্ডের নির্দেশ মেনে রঞ্জিতে খেলতে হয়েছিল। যাঁর সঙ্গে তাঁর তুলনা টানা হয়, সেই কিংবদন্তি সচিন তেন্ডুলকরও রঞ্জিতে খেলেছেন দীর্ঘ সময়। দুজনের মধ্যে রঞ্জি ট্রফিতে কার রেকর্ড ভাল জানেন?

সচিন তাঁর রঞ্জি কেরিয়ারে মোট ৩৮টি ম্য়াচ খেলেছেন। ৪২৮১ রান করেছেন মোট। গড় ঈর্ষণীয় ৮৭.৩৬। রঞ্জিতে সচিনের ঝুলিতে রয়েছে মোট ১৮টি শতরান ও ১৯টি অর্ধশতরান। তামিলনাড়ুর বিরুদ্ধে ২০০০ সালে ২৩৩ রানের বিশাল ইনিংস খেলেছিলেন। যা তাঁর রঞ্জি কেরিয়ারে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ। অন্যদিকে বিরাট সেখানে রঞ্জিতে ২৩টি ম্য়াচ খেলেছেন। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ১৫৭৪ রান। পাঁচটি সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন রঞ্জি কেরিয়ারে এখনও পর্যন্ত। ২০১২ সালের পর আর রঞ্জিতে খেলেননি কোহলি। 

নিজের অভিষেক রঞ্জি ম্য়াচে বিরাট ২০০৬-০৭ মরশুমে তামিলনাড়ুর বিরুদ্ধে খেলেছিলেন। যদিও অভিষেকে মাত্র ১০ রান করে আউট হন কোহলি। উত্তরপ্রদেশের বিরুদ্ধে শেষ ম্য়াচে দুই ইনিংসে করেছিলেন যথাক্রমে ১৪ ও ৪২ রান। দুটো ইনিংসেই ভুবনেশ্বর কুমারের বলে আউট হয়ে গিয়েছিলেন কোহলি। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে ম্য়াচের সংখ্যা হোক বা রান, সেঞ্চুরি কোনও কিছুতেই বিরাট সচিনকে টেক্কা দিতে পারেননি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মতই ঘরোয়া ক্রিকেটেও মাস্টার ব্লাস্টার অনেকটাই এগিয়ে বিরাটের থেকে।

২৮ জানুয়ারি মঙ্গলবার দিল্লি শিবিরের সঙ্গে অনুশীলনে যোগ দেন বিরাট কোহলি। মঙ্গলবার যে তিনি দিল্লি দলের অনুশীলনে যোগ দেবেন, তা আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন কোহলি। সেই মতোই মঙ্গলবার কোটলায় সকাল নয়টায় তাঁর কালো রঙের গাড়ি বীরেন্দ্র সহবাগ গেট দিয়ে কোটলায় ঢোকা থেকেই তাঁর দিকে নজর ছিল। দলের তরুণ ক্রিকেটার থেকে কোচ শরণদীপ, সকলকেই কোহলি-মহিমায় মুগ্ধই দেখায়। সকলের সঙ্গেই কথা বললেও, তাঁর অনূর্ধ্ব ১৯ সময়কার কোচ এবং বর্তমান দলের প্রশাসনিক ম্যানেজার মহেশ ভাটির সঙ্গেই সবথেকে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতে দেখা যায় কোহলিকে। ৩০ জানুয়ারি থেকে দিল্লি বনাম রেলওয়েজ ম্য়াচ। এই একটি ম্য়াচই রঞ্জিতে খেলবেন কোহলি।