মুম্বই: ২০২৩ সালে ১৯ নভেম্বর ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য একটা অত্যন্ত দুঃখের দিন ছিল। ওয়ান ডে বিশ্বকাপের ফাইনালে হট ফেভারিট হিসেবে নেমেও শেষ পর্যন্ত রানার্স আপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল ভারতীয় দলকে। রোহিত শর্মার নেতৃত্বে সেদিনের হার ভারতীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা আজও ভুলতে পারেননি। চলতি বছরে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও আগের বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতলেও ওয়ান ডে বিশ্বকাপ হারের ক্ষত এখনও বয়ে নিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। এবার ফাইনালে সেই ম্য়াচে হারের জন্য় ভুল পিচ নির্বাচনকেই দায়ী করছেন প্রাক্তন ক্রিকেটার সঞ্জয় মঞ্জরেকর।
সম্প্রতি এক শোয়ে এসে প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার বলছেন, ''২০২৩ সালে যে ভারতীয় দল বিশ্বকাপে খেলছিল, সেই দল নিয়ে সত্যিই গর্বিত। কারণ বিশ্বের সেরা দল হিসেবেই মাঠে খেলছিল তাঁরা। কিন্তু রোহিত শর্মা, রাহুল দ্রাবিড় ও ভারতীয় দল যে পিচে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সেই পিচ নির্বাচনটাই বড় ভুল ছিল। সূর্যকুমার যাদবকে একেবারে অন্য়রকম মনে হচ্ছিল। লোয়ার অর্ডারে ওর ব্যাটিংটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারত।''
কিংবদন্তি ভারতীয় ওপেনার সুনীল গাওস্কর অবশ্য রোহিতের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছিলেন ওই শোতে এসে। তিনি বলেন, ''রোহিত যেভাবে শুরু থেকেই মেরে খেলছি। তাতে দলের বাকিদের জন্য় কাজটা অনেক সহজ করে দিয়েছিল ও। দ্রুততার সঙ্গে বোর্ডে রান তুলে ফেলেছিল রোহিত। কীভাবে স্কোরবোর্ড সচল রাখতে হয়, তা বাকিদের দেখিয়ে দিয়েছিল রােহিত।''
উল্লেখ্য, সেই টুর্নামেন্টে টানা ১০ম্য়াচ জিতে ফাইনালে জায়গা করে নিলেও শেষ পর্যন্ত খেতাবি লড়াইয়ে এসেই তাল কাটে ভারতের। রোহিত শর্মা টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বাধিক রান সংগ্রাহক ছিলেন। ১১ ইনিংসে ৫৯৭ রান করেছিলেন তৎকালিন ভারত অধিনায়ক। ঝুলিতে পুরেছিলেন ১টি সেঞ্চুরি ও তিনটি অর্ধশতরান।
প্রাক্তন অজি ওপেনার ম্য়াথু হেডেন জানিয়েছেন, ''প্রত্যেকেই ভেবেছিল যে ভারতীয় ক্রিকেট দল নিজেদের ঘরের মাঠে টুর্নামেন্টে খুব সহজেই জিতে যাবে। কিন্তু এটা খেলা। এখানে যে কোনও কিছুই হতে পারে। এটা মাথায় রাখতে হবে। দুটো দলই কিন্তু ট্রফি জেতার জন্য় মরিয়া পরিশ্রম করেছিল। তবে নিজেদের ঘরের মাঠে বিশ্বকাপের মত টুর্নামেন্টে হেরে যাওয়াটা অনেক বড় ধাক্কা।''
উল্লেখ্য, ফাইনালে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে ২৪০ রান বাের্ডে তুলেছিল ভারত। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে দুই উইকেট হারালেও ট্রাভিস হেডের শতরান ও মার্নাস লাবুশেনের অর্ধশতরান ভারতের জয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।