লন্ডন: প্রথম টেস্টে পরাজয়ের পর ভারতীয় দল দুরন্তভাবে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে (India vs England) পাঁচ ম্য়াচের টেস্ট সিরিজ়ে প্রত্যাবর্তন ঘটিয়েছে। ৩৩৬ রানের ব্যবধানে টিম ইন্ডিয়ার বিরাট জয়ে ব্যাট হাতে অগ্রণী ভূমিকা নেন দলের অধিনায়ক শুভমন গিল (Shubman Gill)। এক টেস্ট ম্যাচের দুই ইনিংসে সর্বকালের অন্যতম সর্বাধিক রান করেন ফেলেন গিল। প্রথম ইনিংসে ডাবল সেঞ্চুরির পর দ্বিতীয় ইনিংসেও শতরান হাঁকান তিনি। তা সত্ত্বেও কিন্তু ভারতীয় অধিনায়ককে শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে।
অনেকসময় ওভার রেট মন্থর হলে আইসিসিই দলের অধিনায়কদের বেতন কাটা থেকে নির্বাসনের মতো শাস্তি দিয়ে থাকে। তবে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা নয়, গিলকে কিন্তু ভারতীয় বোর্ডই এবার শাস্তি দিতে পারে। কিন্তু ঠিক কী করেছেন গিল যে কারণে তাঁকে শাস্তি পেতে হতে পারে? আসলে ঘটনা ঘটে এজবাস্টনে দ্বিতীয় ইনিংসে টিম ইন্ডিয়ার ইনিংস ঘোষণার সময়।
ইনিংস ঘোষণার সময় সাজঘরে তাক করা হলে গিলকে এক কালো গেঞ্জি পরে দেখা যায়। সমস্যা গেঞ্জির ব্র্যান্ড নিয়ে। গেঞ্জিটিতে ক্রীড়া সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক সংস্থা নাইকের লোগো জ্বলজ্বল করছে। কিন্তু নাইকে আর ভারতীয় দলের কিট প্রস্তুতকারক নয়, সেই দায়িত্ব এখন অ্যাডিডাসের। ২০২৩ সালে ভারতীয় বোর্ড অ্যাডিডাসের সঙ্গে ২৫০ কোটি টাকার বিনিময়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন। ২০২৮ সাল পর্যন্ত বৈধ সেই চুক্তি অনুযায়ী ভারতীয় দলের সমস্ত কিট প্রস্তুত করার দায়িত্ব অ্যাডিডাসেরই। তবে গিল সেখানে ভারতীয় সাজঘরে প্রকাশ্যে নাইকের জামাকাপড় পরায় তা চুক্তি লঙ্ঘন করছে কি না, সেই নিয়ে জল্পনা।
অ্যাডিডাস কিন্তু এই ঘটনার জেরে বিসিসিআইকে নোটিস পাঠানো, জরিমানা করা এমনকী কোর্টে পর্যন্ত যেতে পারে। জার্মান ক্রীড়া সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক সংস্থার একাধিপত্য এতে খর্ব হচ্ছে বলে তারা দাবি করতেই পারেন। গিলের সঙ্গে আদপে কিন্তু ব্যক্তিগত স্তরে নাইকের চুক্তি রয়েছে। তাই তিনি ব্য়ক্তিগতভাবে সেই কোম্পানির জামাকাপড় পরতেই পারেন। এক্ষেত্রে তাই বিসিসিআইয়ের ওপরই দায় বর্তানো হতে পারে। প্রশ্ন উঠতে পারে জাতীয় দলের কোনওরকম জামাকাপড় সংক্রান্ত নির্দেশিকা ছিল কি না, থাকলেও সেই বিষয়ে খেলোয়াড়দের তা স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছিল কি না। যদি আগেই নির্দেশিকা দেওয়া থাকে, তাহলে এমনটা হয়ে থাকলে সেক্ষেত্রে শাস্তি পেতে পারেন গিল।