কলকাতা: আর মাত্র সপ্তাহখানেক বাকি। তারপরেই শুরু হচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ( T20 World Cup 202026) । ভারত ও শ্রীলঙ্কায় আয়োজিত মেগা টুর্নামেন্টের আগে একেবারে শেষবেলার প্রস্তুতি চলছে। তবে সেই প্রস্তুতির পাশাপাশি রয়েছে খানিকটা উদ্বেগও। উদ্বেগের নাম নিপা ভাইরাস (Nipah virus)।

Continues below advertisement

বিশ্বকাপের আগে পশ্চিমবঙ্গে নিপা ভাইরাস সংক্রমণ উদ্বেগ বাড়িয়েছে সমর্থকদের। এমন সময়ে অনেকে বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য ভারত উপযুক্ত স্থান কি না, সেই নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন। নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে এই উদ্বেগ আন্তর্জাতিক স্তরে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত সরকারি তথ্য অনুযায়ী এ রাজ্যে নিপা ভাইরাসে মাত্র দুইজন নার্সই আক্রান্ত হয়েছেন যাঁদের একজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং আরেকজনের সামান্য শারীরিক উন্নতি দেখা গিয়েছে। তাই এই ভাইরাসে সংক্রমণের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

তবে এই উদ্বেগের গোটটাই কিছু অংশের সমর্থক এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বিসিসিআই বা টুর্নামেন্টের উদ্যোক্তাদের তরফে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনওরকম উদ্বেগ জানান হয়নি। এই  বিষয়ে বিসিসিআই এবং টুর্নামেন্টের উদ্যোক্তারা সরকারপক্ষ এবং স্বাস্থ্য বিভাগের আধিকারিকদের সঙ্গে নিরন্তর আলোচনায় রয়েছেন। ভারত সরকারের তরফে কিন্তু ইতিমধ্যেই এই  নিয়ে যাতে কোনওরকম ভুলভাল তথ্য শেয়ার না করা হয়, তার জন্য আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

Continues below advertisement

এই ভাইরাস নিয়ে ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকার 'নিপার' উপসর্গ থাকা রোগী সহ তাদের দেখভালের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি ও কর্মরত সকল স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য গাইডলাইন তৈরি করে দিয়েছে।   

গাইডলাইন অনুযায়ী :

  • নিপায় আক্রান্ত অথবা নিপার উপসর্গ থাকা রোগীর রক্ত, ফ্লুইড, লালা, হাঁচি-কাশির ড্রপলেট ইত্যাদির সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিকে বাধ্যতামূলকভাবে ২১ দিনের হোম কোয়ারেন্টিনে রাখতে হবে।
  • নিপা আক্রান্ত কিংবা নিপার উপসর্গ থাকা রোগীর সঙ্গে বন্ধ, সীমাবদ্ধ জায়গায় কাটানো মানেই তাকে 'হাইরিস্ক' বলে গাইডলাইনে উল্লেখ করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর।
  • এর পাশাপাশি গাইডলাইন অনুযায়ী, হোম কোয়ারেন্টিন থাকাকালীন ওই ব্যক্তিকে দিনে ২ বার চিকিৎসা করাতে হবে। তবে উপসর্গ ধরা পড়লেই সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে হোম কোয়ারেন্টিন থাকা ব্যক্তিকে। রাখতে হবে আইসোলেশন ওয়ার্ডে।
  • একইভাবে নিপায় আক্রান্ত অথবা নিপার উপসর্গ থাকা রোগীর জামা-কাপড়ের সংস্পর্শে এলে অথবা রোগীর সংস্পর্শে এলেও ২১ দিন পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে এবং প্রত্যেকদিন তাঁকে ফোন করে খোঁজ নেবে স্বাস্থ্য ভবন। যদি তাঁরও উপসর্গ দেখা যায়, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে তাঁকে।  
  • এর পাশাপাশি গাইডলাইন অনুযায়ী, নিপায় আক্রান্ত অথবা নিপার উপসর্গ থাকা রোগীর দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিকেও পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিয়ে কাজ করতে হবে। 
  • যাদের কোনও উপসর্গ নেই, তাদের ক্ষেত্রে সতর্কতা মূলক ব্যবস্থা হিসেবে, একটি বিশেষ ধরনের অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ খাওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর।

অন্যদিকে, যাদের উপসর্গ দেখা যাবে, তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করতেই হবে। যেহেতু নিপায় সংক্রমণের ক্ষেত্রে কোনও ওষুধ এখনও পর্যন্ত আবিষ্কৃত হয়নি, সেক্ষেত্রে পরীক্ষামূলকভাবে বিকল্প দুটি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে এইসব রোগীর ক্ষেত্রে। আপাতত বলা বাহুল্য এই নিয়ে এখনও উদ্বেগের কোনও কারণ নেই।