পটনা: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২৫ বলে ৫৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেছিলেন ঈশান কিষাণ। ব্যাট হাতে যখন মাঠে তাণ্ডব চালাচ্ছেন বাঁহাতি তরুণ উইকেট কিপার ব্যাটার, তখনও কেউ জানতেন না তাঁর মনের মধ্যে কী চলছে। কিছুদিন আগেই দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য রিঙ্কু সিংহ তাঁর বাবাকে হারিয়েছিলেন। বাবাকে হারানোর যন্ত্রণা নিয়েই বিশ্বকাপে দলের স্বার্থে নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন রিঙ্কু। ঠিক একই রকম একটি ঘটনার বিষয়ে জানা গেল ভারত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতার পর। যা ফাঁস করলেন ঈশান নিজেই। তাঁর দিদি না কি ফাইনালের আগের দিন পথ দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিলেন। সেই দিদিকেই বিশ্বকাপ জয় উৎসর্গ করতে চান ঈশান। আর এই সময়ে কীভাবে হার্দিক পাণ্ড্য তাঁর পাশে ছিলেন, সে কথাও বলতে ভোলেননি বাঁহাতি এই বিস্ফোরক ব্যাটার।
খেলার পর ঈশান বলেন, ''সত্য়ি বলতে ম্য়াচের আগের দিন আমি আমার খুড়তুতো বোনকে পথ দুর্ঘটনায় হারিয়েছি। আমি ভাল খেলছিলাম। দলকে জেতাতে চাইছিলাম বোনের জন্য। হার্দিকের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। ও বলেছিল যে দলকে আগে রাখতে। আর সত্যি বলতে উইমেন্স ডে-তে এই জয় আরও স্পেশাল আমার কাছে তাই।''
ফাইনালে ব্য়াট হাতে ঝড় তোলাই নয়, মাঠে অনবদ্য সব ক্যাচও লুফেছেন ঈশান। গোটা টুর্নামেন্টেই তাঁর ব্যাট কথা বলেছে। ভারতের হয়ে দ্বিতীয় সর্বাধিক রান সংগ্রাহক ছিলেন এই বাঁহাতি। তিনটি অর্ধশতরান সহ ঈশানের ব্যাট থেকে এসেছে মোট ২১৭ রান। ১৯৩ এর ওপর স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করেছিলেন ঈশান।
তারকা ক্রিকেটারের বাবা প্রণব পাণ্ডেও এই বিষয়ে জানিয়েছিলেন, ''আমরা বিপদে পড়ে গিয়েছি হঠাৎ করে। ঈশান বিষয়টি জানলেও ওখান থেকে আসতে পারেনি। কারণ ফাইনাল ম্য়াচ ছিল।''
উল্লেখ্য, চলতি বছরের আগে টি-টোয়েন্টি ফর্ম্য়াটে ভারতীয় দলের স্কিম অফ থিংসেই ছিলেন না ঈশান। কিন্তু গত জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ড সফরের জন্য তাঁকে জাতীয় দলে ফেরানো হয়। সেই সিরিজে নেমেই শতরান হাঁকান। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম ম্য়াচ জেতানো পারফর্ম করেন ঈশান পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্য়াচে অর্ধশতরান হাঁকিয়ে। এছাড়া ব্যাট হাতে রান করা ছাড়া মাঠে তৎপর ফিল্ডার হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন। স্যামসন উইকেট কিপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় ঈশানকে ফিল্ডার হিসেবে দায়িত্ব সামলাতে হয়েছিল।
