কলকাতা: আজই তাঁর বাবা মারা গিয়েছেন। গতকাল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (T20 World Cup 2026) ভারত বনাম জিম্বাবোয়ে ম্যাচের পর তড়িঘড়ি বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন রিঙ্কু সিংহ (Rinku Singh)। তবে আজ সকালেই তাঁর বাবা ক্যানসারের সঙ্গে লড়াইয়ে হার মেনে পরলোক গমন করেন। ভারতীয় দলের সঙ্গে তাই তিনি কলকাতাতে আসেননি। তবে শনিবারই শহরে চলে আসছেন রিঙ্কু। ANI-র রিপোর্ট অনুযায়ী বিসিসিআইয়ের তরফে সংবাদসংস্থাকে রিঙ্কুর কাল কলকাতায় আসার কথা নিশ্চিত করা হয়েছে।

তবে সেখানে না থেকে জাতীয় দলের স্বার্থে জিম্বাবোয়ে ম্যাচের আগে চেন্নাইয়ে ফিরেও আসেন রিঙ্কু। তিনি সেই ম্যাচে একাদশে না থাকলেও ফিল্ডিং করেন। তবে রিঙ্কু তখনও জানতেন না রাত পোহালেই তাঁর জন্য কী অপেক্ষা করে রয়েছে। 

রিঙ্কু সিংহের বাবা খাচান্দ্র সিংহ চতুর্থ পর্যায়ের লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। বাবার শেষ সময়ে তাঁকে দেখতে জিম্বাবোয়ে ম্যাচের আগেই বাড়ি উত্তরপ্রদেশে রওনা দিয়েছিলেন রিঙ্কু। গ্রেটার নয়ডার যথার্থ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন রিঙ্কুর বাবা। সূত্রের খবর, বছর খানেক আগে লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিলেন রিঙ্কুর বাবা খানচন্দ্র সিংহ। গত এক বছরে বারবার অবস্থার অবনতি হয়েছে। সমস্যা বাড়তে বাড়তে  স্টেজ ফোর-এ পৌঁছে যায়। গত কয়েকদিন ধরে তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। তাঁকে গ্রেটার নয়ডার এনসিআর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসা চলছিল।  

মেকানিক্যাল ভেন্টিলেটর সাপোর্ট ও কন্টিনিউয়াস রেনাল রিপ্লেসমেন্ট থেরাপিতে ছিলেন রিঙ্কুর বাবা। শুক্রবার সকালে ওই হাসপাতালেই মৃত্যু হয় খানচন্দ্র সিংহের। রিঙ্কুর বাবা ভেন্টিলেটর সাপোর্টেই ছিলেন শেষ কয়েকদিন। রেনাল রিপ্লেসমেন্ট থেরাপিও দেওয়া হয় তাঁকে। কিন্তু সেই চেষ্টাও সফল হয়নি। শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন রিঙ্কুর বাবা। আজ বাকি ভারতীয় দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ় ম্যাচের জন্য কলকাতায় চলে আসলেও, স্বাভাবিকভাবেই আসেননি রিঙ্কু। তাঁকে বাবার শেষযাত্রায় বাবাকে কাঁধ দিতে দেখা যায়।

এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই মনে করছিলেন রিঙ্কু হয়তো ওয়েস্ট ইন্ডিজ় ম্য়াচে খেলবেন না। তবে দুরন্ত মানসিক শক্তির পরিচয় দলের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন তিনি। ১৯৯৯ সালে বিশ্বকাপের মাঝেই সচিন তেন্ডুলকরেরও পিতৃবিয়োগ হয়েছিল। তবে শেষকৃত্য সেরে ফের একবার ইংল্যান্ডে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। শোনা যায় বাবার মৃত্যুর পরের দিন বিরাট কোহলিও রঞ্জি ম্যাচে ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন। রিঙ্কুও সচিন, বিরাটদের পথ অনুসরণ করে উদাহরণ সৃষ্টি করছেন।