কলকাতা: ফুটবল বিশ্বকাপ (FIFA World Cup) মানেই বিশ্বসেরা তারকাদের লড়াই, আর সেই লড়াইয়ের কেন্দ্রে থাকে একখানা জিনিস— অফিশিয়াল ম্যাচ বল। প্রতি বিশ্বকাপের মতোই ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপেও সবার নজর কাড়ছে অ্যাডিডাসের তৈরি নতুন অফিশিয়াল বল, যার নাম 'ট্রাইওন্ডা' (Trionda)। কিন্তু কেন এই বলটিকে নিয়ে ফুটবল বিশ্বে এত আলোচনা হচ্ছে? কী এমন রহস্য লুকিয়ে আছে এই বলের পেছনে? 

Continues below advertisement

এবার প্রশ্ন হল ট্রাইওন্ডা নামের মানে কী? আসলে এটি দুটি শব্দের মেলবন্ধনে তৈরি। প্রথম অংশ 'Tri' মানে হল তিন। যেহেতু ২০২৬ সালের এই বিশ্বকাপটি ফুটবল ইতিহাসের প্রথমবার যৌথভাবে তিনটি দেশে— আমেরিকা, মেক্সিকো এবং কানাডায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তাই এই 'তিন' সংখ্যাকে তুলে ধরা হয়েছে। আর দ্বিতীয় অংশ 'ওন্ডা' হল একটি স্প্যানিশ শব্দ, যার অর্থ 'ঢেউ' বা 'তরঙ্গ'। স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে দর্শকদের বিখ্যাত 'মেক্সিকান ওয়েভ' এবং এই বলের গায়ের ঢেউ খেলানো চমৎকার ডিজাইনকে বোঝাতেই এই 'ওন্ডা' শব্দটির ব্যবহার। ফুটবলমহলের অনেকে বলছেন ট্রাইওন্ডা মানে হল ‘তিন দেশের উন্মাদনার ঢেউ'। 

ট্রাইওন্ডা শুধু দেখতেই সুন্দর নয়, এটি প্রযুক্তির দিক থেকেও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম উন্নত বল। এই বলের ভেতরে রয়েছে বিশেষ 'কানেক্টেড বল টেকনোলজি'। বলের ঠিক মাঝখানে একটি অত্যাধুনিক সেন্সর বসানো আছে, যা প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার ডেটা পাঠাবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা VAR রুমে। এর ফলে অফসাইডের নিখুঁত সিদ্ধান্ত নেওয়া, বল গোললাইন পার করেছে কিনা তা ট্র্যাক করা এবং নিখুঁতভাবে বলের গতি মাপা রেফারিদের জন্য অনেক সহজ হয়ে যাবে।

Continues below advertisement

ফুটবলারদের জন্য ট্রাইওন্ডা বলের এরোডাইনামিকস দারুণ সুবিধা দেবে। বাতাসে এই বলটির গতি অত্যন্ত স্থিতিশীল থাকবে, যার ফলে দূরপাল্লার শট বা ফ্রি-কিকের সময় বলটি অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে দিক পরিবর্তন করবে না। স্ট্রাইকাররা যেমন নিখুঁত শট নিতে পারবেন, তেমনই গোলকিপারদের জন্যও বলের গতিপ্রকৃতি বোঝা কিছুটা সহজ হবে। আধুনিক ফুটবলের হাই-স্পিড গেমপ্লের কথা মাথায় রেখেই এটি প্রস্তুত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, নাসা একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে জানিয়েছে, ফিফা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল মহাকাশে গিয়েছে। ফুটবল যাতে মাঠে নিখুঁত এবং অনুমানযোগ্যভাবে নড়াচড়া করতে পারে, তার জন্য স্পোর্টস ইঞ্জিনিয়াররা এর ‘সেন্টার অফ মাস’ বা ভরকেন্দ্র এবং ব্যালেন্স অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করেন। আর এই ভারসাম্য পরীক্ষা করতেই বলটিকে পাঠানো হয়েছে শূন্য মাধ্যাকর্ষণে বা মাইক্রোগ্রাভিটিতে।