মুম্বই: লিগশিল্ডের (ISL 2024-25) লক্ষ্য পূরণ হয়ে গিয়েছে। শনিবার আরও এক লক্ষ্য পূরণের উদ্দেশ্য নিয়ে মুম্বই ফুটবল এরিনায় নামতে চলেছে টানা দু’বারের শিল্ড চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট (Mohun Bagan Super Giant vs Mumbai City FC)। মুম্বইয়ের এই মাঠে নেমে কখনও তারা জিততে পারেনি। শনিবার এই শূন্যস্থান পূরণ করতেই নামবে তারা। দুই দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বলছে হোসে মোলিনার চ্যাম্পিয়ন দলের এই লক্ষ্য পূরণ হতে পারে। যেমন হয়েছিল গত মরশুমে, ঘরের মাঠে মুম্বইয়ের দলকে প্রথমবার হারিয়ে প্রথম লিগশিল্ড জিতে নিয়েছিল বাগান-বাহিনী। এ বার এটাই বা হবে না কেন?
ইদানীং ভারতীয় ফুটবলে মোহনবাগানের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে আরব সাগর পাড়ের এই দল, যারা এর আগে দু’বার লিগ শিল্ড জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেছে। কিন্তু এ বার তাদের অনেক পিছনে ফেলে দিয়ে লিগের দুই ম্যাচ বাকি থাকতেই লিগ চ্যাম্পিয়নশিপের খেতাব জিতে নিয়েছে কলকাতার দল। মুম্বই এখনও অনেক পিছনে। ২১ টি ম্যাচ খেলা হয়ে গেলেও ছাঙতে-বিপিনরা এখনও সেরা ছয়ে জায়গা পাকা করতে পারেননি। সে জন্য এখনও পাঁচ পয়েন্ট প্রয়োজন তাদের। তাই শনিবার ঘরের মাঠে মোহনবাগানকে হারাতে না পারলে তাদের অনেকটাই পিছিয়ে পড়তে হবে।
সাম্প্রতিক ফলে এগিয়ে-পিছিয়ে
অন্যদিকে সামনে মুম্বই সিটি এফসি যখন, তখন কোনও রকম আপসে যেতে রাজি নয় বাগান শিবির। পুরো শক্তি নিয়ে মাঠে নামবে তারা, চেষ্টা করবে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার। এমনিতেই টানা দশটি ম্যাচে অপরাজিত রয়েছে তারা। টানা পাঁচটি অ্যাওয়ে ম্যাচেও অপরাজিত। শেষ দশ ম্যাচে কুড়িটি গোল করেছে তারা এবং মাত্র দু’টি গোল খেয়েছে। এই একটি পরিসংখ্যানই তাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স কী রকম, তা বুঝিয়ে দিতে পারে।
সেই তুলনায় মুম্বইয়ের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের খতিয়ান খুব একটা ভাল না। শেষ পাঁচটি ম্যাচের মধ্যে মাত্র দুটিতে জিতেছে তারা। গত দু’টি ম্যাচের কোনওটিতেই জিততে পারেনি। গত ম্যাচে হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করেছে। এমনকী ঘরের মাঠে ইস্টবেঙ্গলকেও হারাতে পারেনি তারা। দলের আত্মবিশ্বাসে যে ঘাটতি হচ্ছে, তা বুঝতেই পারছেন তাঁদের কোচ পিটার ক্রাতকি। একটা ভাল জয়ই তাদের সেই আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে পারে। শনিবার মোহনবাগানের বিরুদ্ধেই সেই সুযোগ পাবে তারা। শিল্ড চ্যাম্পিয়নদের হারানোর থেকে ভাল সাফল্য আর কীই বা হতে পারে?
নির্বাসনে জেসন, চোট সহালের
চোট-আঘাতের সমস্যা থেকে অনেকটা মুক্তি পেলেও শনিবারের ম্যাচে দলের নির্ভরযোগ্য স্ট্রাইকার জেসন কামিংসকে পাবে না সবুজ-মেরুন বাহিনী। গত ম্যাচে চতুর্থ হলুদ কার্ড দেখে তিনি এই ম্যাচ থেকে ছিটকে গিয়েছেন। চোটের তালিকায় আপাতত রয়েছেন সহাল আব্দুল সামাদ। আশিস রাই, অনিরুদ্ধ থাপা, মনবীর সিংরা গত ম্যাচেই চোট সারিয়ে ফিরে এসেছেন।
এ মরশুমে অবশ্য মোহনবাগান যতবার এমন সমস্যায় পড়েছে, ততবারই তাদের রিজার্ভ বেঞ্চ তাদের ভরসা জুগিয়েছে। তাই কামিংস না খেললেও খুব একটা চিন্তায় নেই মোলিনা। সবচেয়ে বড় কথা গোলে ফিরে এসেছেন দিমিত্রিয়স পেট্রাটস। দু’মাস গোল না পাওয়ার পর গত রবিবার ম্যাচের শেষ মুহূর্তে গোল করে দলকে লিগ শিল্ড এনে দেন অজি তারকা।
তবে জেমি ম্যাকলারেনের ধারাবাহিকতার অভাব ও তাঁর সুযোগ নষ্ট করার বহর কোচকে চিন্তায় রাখার মতোই। পাঞ্জাব এফসি-র বিরুদ্ধে জোড়া গোল করার পর কেরালা ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধেও জোড়া গোল করেন তিনি। কিন্তু গত ম্যাচে এক ঝাঁক গোলের সুযোগ নষ্ট করে একটিও গোল করতে পারেননি অস্ট্রেলীয় বিশ্বকাপার।
কামিংস নতুন ভূমিকায় যথেষ্ট কার্যকর হয়ে উঠেছিলেন। ম্যাকলারেনকে নিয়মিত গোলের পাস বাড়ান তিনি এবং অ্যাসিস্টও করছিলেন নিয়মিত। মোট পাঁচটি গোলে অ্যাসিস্ট করেন তিনি। সেই কামিংসকে না পাওয়ায় দলের আক্রমণে কিছুটা হলেও হয়তো ধার কমবে।
কোচ মোলিনা অবশ্য এই নিয়ে চিন্তায় নেই। কারণ, তিনি জানেন তাঁর রিজার্ভ বেঞ্চের খেলোয়াড়রাও যথেষ্ট যোগ্য। বলেন, “এই ম্যাচে কামিংসকে পাব না, সহালও চোট সারিয়ে ফিরতে পারেনি। তা সত্ত্বেও দেখবেন আমরা ভাল খেলব। পরের দুই ম্যাচেই আমরা জিতে লিগ শেষ করতে চাই। মুম্বই সিটি এফসি যথেষ্ট ভাল দল। ওদের হারাতে গেলে আমাদের সেরা খেলা খেলতেই হবে। কাল যে এগারোজনই খেলুক, আমরা ভাল খেলব। দলের ছেলেদের ওপর আমার পুরোপুরি আস্থা আছে”।
আক্রমণে দুর্বল মুম্বই
পয়েন্ট টেবলের যা অবস্থা, তাতে প্লে অফে খেলতে হলে মুম্বই সিটি এফসি-কে বাকি তিন ম্যাচে পাঁচ পয়েন্ট তুলতেই হবে। এই হিসেবটা ঠিকই আছে। কিন্তু শনিবার তারা যদি হেরে যায় এবং শেষ দুই ম্যাচে তাদের যদি পাঁচ পয়েন্টের লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নামতে হয়, তা হলে তারা বেশ চাপে পড়ে যাবে। কারণ, তাদের শেষ দুই ম্যাচ যথাক্রমে কেরালা ব্লাস্টার্স ও বেঙ্গালুরু এফসি-র ঘরের মাঠে। এই দুই ম্যাচেই জিততে হবে তাদের। সেই চাপটা কাটাতে শনিবার নিজেদের মাঠে মোহনবাগানকে হারানোর চ্যালেঞ্জটা নিতেই হবে গতবারের কাপজয়ীদের।
গতবারের কাপজয়ীদের এ বার এমন বেহাল দশার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কোচ পিটার ক্রাতকি শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, “গতবারের তুলনায় আমাদের দলের মান কোনও অংশে কমেনি। বরং কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা গতবারের চেয়ে ভাল করেছি। শুধু আক্রমণে আমরা একটু দুর্বল হয়ে পড়েছি। ফাইনাল থার্ডে আমরা প্রতি ম্যাচে একাধিক সুযোগ হাতছাড়া করেছি। যেটা মোহনবাগানের শক্তিশালী জায়গা। ওরা অনেক গোল করছে। ওদের যেখানে ১৪টি ক্লিন শিট, সেখানে আমাদের ন’টা। মোহনবাগানকে আমরা যথেষ্ট সমীহ করি। ওদের বিরুদ্ধে আমাদের নির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে”।
গত ম্যাচে ৪-৩-৩ ছকে দলকে খেলান ক্রাতকি। বিক্রম প্রতাপ সিং, লালিয়ানজুয়ালা ছাঙতে, জর্জ অর্টিজদের সামনে রেখে আক্রমণ সাজান তিনি। মাঝমাঠে ইওল ফান নিফ, জন টোরাল ও ব্র্যান্ডন ফার্নান্ডেজ এবং চার ব্যাক ভালপুইয়া, মেহতাব সিং, তিরি ও সাহিল পানওয়ার শুরু থেকে মাঠে নামেন। দ্বিতীয়ার্ধে বিপিন সিং, গিয়ামার নিকুম, আয়ূষ ছিকারাদের আক্রমণে নামিয়েও গোল পাননি।
শেষ পাঁচ ম্যাচে ছ’টি গোল করেছে তারা। তার মধ্যে মহমেডানের বিরুদ্ধেই তিন গোল ছিল। অর্থাৎ, বাকি চার ম্যাচে তিন গোল পান ছাঙতেরা। তাদের সর্বোচ্চ স্কোরার নিকোলাওস কারেলিস গত তিন ম্যাচে না থাকায় সমস্যায় পড়েছে মুম্বইয়ের দল। ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে ম্যাচে ম্যাচের শুরুতেই চোট পেয়ে বেরিয়ে যান তিনি। তার পর থেকে মাঠের বাইরে গ্রিক ফরোয়ার্ড। এ রকম গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাঁর না থাকাটা দলের পক্ষে মোটেই ভাল খবর নয়।
(তথ্য: আইএসএল মিডিয়া)
আরও পড়ুন: জিতে প্লে-অফের দৌড়ে এগিয়ে যাওয়ার আশায় ওড়িশা, মহামেডানের থেকে সাহায্যের আশায় ইস্টবেঙ্গল