সেঞ্চুরিয়ন: দিনের শুরু থেকেই ভারতীয় ব্য়াটিংয়ে আঘাত হেনেছিলেন প্রোটিয়া পেসাররা। একে একে রোহিত, গিল, বিরাট, শ্রেয়সরা ফিরে গিয়েছিলেন। একটা সময় মনে হচ্ছিল যে হয়ত দুশোর গণ্ডিও পেরতে পারবে না টিম ইন্ডিয়া। তবে সেই আশা জিইয়ে রাখলেন কে এল রাহুল। লোয়ার অর্ডারকে সঙ্গে নিয়ে একাই লড়ছেন ভারতীয় দলের উইকেট কিপার ব্যাটার। চা পানের বিরতিতে যার জন্য ৭ উইকেট হারিয়ে ১৭৬ রান বোর্ডে তুলে নিল ভারত। রাহুল ৩৯ ও বুমরা ১ রান করে ক্রিজে আছেন। ৭১ বলের ইনিংসে এখনও পর্যন্ত ৬টি বাউন্ডারি ও ১টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন রাহুল। 


গত ৩১ বছরে আটবার দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়েছে ভারতীয় দল। কিন্তু টেস্ট সিরিজ জিততে পারেনি তাঁরা। এবার দল নির্বাচনে 'বুড়ো' রাহানে, পূজারাকে দলে নেওয়া হয়নি। বদলে নতুন মুখ হিসেবে জয়সওয়াল, শ্রেয়সের ওপরই ভরসা রাখা হয়েছে। ব্যাটিং অর্ডারেও বদল আনা হয়েছে। বিরাট তাঁর তিন নম্বর স্লট ছেড়ে দিয়েছেন। জয়সওয়াল রোহিতের সঙ্গে ওপেনে নামায়, গিল তিনে নেমে আসেন। চারে নামছেন বিরাট। এদিনের ম্যাচেও তেমনভাবেই ব্যাটিং অর্ডার সাজানো হয়েছিল। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হল না। রাবাডার বলে বার্গারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান রোহিত মাত্র ৫ রান করে। ভাল শুরু করেও ক্রিজে থিতু হতে পারলেন না জয়সওয়াল। ৪টি বাউন্ডারি হাঁকালেও ১৭ রান করেই প্যাভিলিয়নে ফিরতে হয় জয়সওযালকে। বার্গার তুলে নেন বাঁহাতি ভারতীয় ওপেনারের উইকেট। 


বার্গারের দ্বিতীয় শিকার হন গিল। ২ রান করে ক্যাচ আউট হয়ে ফেরেন তিনি। মাত্র ২৪ রান বোর্ডে তুলতেই ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল ভারতীয় দল। সেখান থেকে শ্রেয়স আইয়ারকে সঙ্গে নিয়ে বিরাট কোহলি দলের স্কোরবোর্ড এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। মধ্যাহ্নভোজের পরই অবশ্য আঘাত হানেন রাবাডা। ৩১ রান করে প্রোটিয়া পেসারের বলে বোল্ড হয়ে যান তিনি। ৩টি বাউন্ডারি ও ১টি ছক্কা হাঁকান তিনি। 


উল্লেখ্য,ম এদিন টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন প্রোটিয়া অধিনায়ক তেম্বা। রোহিতদের ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন তিনি। প্রথম সেশনের ২০ তম ওভারে মার্কো ইয়েনসের অফস্ট্যাম্পের বাইরে বলে বাউন্ডারির জন্য শট খেলেছিলেন বিরাট কোহলি। সেই সময় কভারের ওপর দিয়ে দৌড়ে বলটিকে আটকানোর চেষ্টা করছিলেন তেম্বা। সেই চেষ্টায় সফলও হন তিনি। বল ধরে উইকেট কিপারের হাতে পৌঁছে দিলেও সঙ্গে সঙ্গেই নিজে মাঠে পড়ে যান। পরে ফিজিও এসে কিছুক্ষণ মাঠে প্রাথমিক চিকিৎসা চলে তাঁর। যদিও তাতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এরপর ফিজির সঙ্গেই খোঁড়াতে খোঁড়াতে মাঠ ছাড়েন প্রোটিয়া অধিনায়ক।