কলকাতা: এই ম্যাচ নিয়ে দীর্ঘ টালবাহান ছিল। টি২০ বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা করেছিল পাকিস্তান। মাঠের বাইরে বয়কট, হুমকি দিলেও শেষে 'নিরাপত্তার' দোহাই দিয়ে শ্রীলঙ্কায় এই ম্যাচ খেলতে সম্মত হয় পাকিস্তান। যদিও লজ্জার হারে মানরক্ষা আর হল না। ৬১ রানে হেরে সুপার এইটে ওঠার জন্য বড়সড় ধাক্কা খেল পাকিস্তান ক্রিকেট দল।
আর এর পরই দলের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ ক্যাপ্টেনই। ম্যাচ শেষে পাকিস্তানের অধিনায়ক সলমন আলি আঘা বলেন, 'আমাদের স্পিনারদের জন্য দিনটা অফ ছিল। কিছু কিছু ক্ষেত্রে পারফর্মেন্সের অভাব ছিল। আমরা আমাদের স্পিনারদের উপর বিশ্বাস রাখি। তারা গত ছয় মাসে ভালো করেছে। তবে পাওয়ার প্লেতে ব্যাট হাতে আমরা অনেক উইকেট হারিয়েছি। বলেও পারফর্মেন্সের অভাব ছিল। এই ধরণের খেলায়, আবেগ সবসময়ই বেশি থাকে। এটা মোকাবেলা করতে হবে। এরকম অনেক খেলা খেলেছি। দুই দিনের মধ্যে আরেকটি খেলা আছে, তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। সেই খেলাটি জিততে হবে এবং সুপার এইটে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। তারপর আবার নতুন একটি টুর্নামেন্ট।'
ভারতের বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের ফলে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে পাকিস্তানের নেট রান রেটে। নিজেদের গ্রুপে তৃতীয় স্থানে নেমে এসেছে পাকিস্তান। ম্যাচের আগে যেখানে তাদের নেট রান রেট ছিল +০.৯৩২, এদিন তা সোজা নেমে এসেছে -০.৪০৩-এ। ভারতের কাছে হেরে এখন যথেষ্ট চাপে পাকিস্তান। এর পাশাপাশি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ রান তুলল ভারত।
এদিন টস জিতে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠান পাকিস্তানের ক্যাপ্টেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করে রান তুলে যোগ্য জবাব দেওয়ার টার্গেটের কথা শোনা যায়। কিন্তু ব্যাট হাতে নেমে পর পর উইকেট খুইয়ে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ।
ভারতের দুর্দান্ত জয়ের পিছনে বড় অবদান ঈশান কিষানের। শুরু থেকেই ঝড় তুলতে পারেন তিনি। পাক বোলারদের যত্রতত্র ছুড়ে ফেললেন ঈশান কিষান। রকেট গতিতে রান তুললেন। যে পিচে বল পড়ে থমকে এল, সেই পিচে ঈশান কিষান ৪০ বলে ৭৭ রানের ইনিংস খেললেন। এদিকে, বোলিংয়ে মার খাওয়ার পর, ব্যাটিংয়েও প্রথম থেকেই মুখ থুবড়ে পড়ে পাকিস্তান। পাকিস্তানকে হারিয়ে ভারত পৌঁছে গেল সুপার এইটে।
