সন্দীপ সরকার, কলকাতা: অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) সাফল্যে গোটা দেশে স্বস্তির বাতাবরণ। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গিদের হাতে নিরীহ মানুষের হত্যালীলার প্রতিশোধ নেওয়া গিয়েছে বলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে দেশবাসী।
আর সেদিনই কি না এমন এক হুমকি দেওয়া হল, যাতে শোরগোল পড়ে গেল শহর কলকাতায়!
বুধবার দুপুরের দিকে হুমকি দেওয়া হয়েছে, বোমা মেরে ইডেন গার্ডেন্স গুঁড়িয়ে দেওয়ার! বঙ্গ ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা সিএবি-র ই-মেল আইডিতে একটি মেল করা হয়। সেই মেলে হুমকি দেওয়া হয় যে, বোমায় ক্রিকেটের নন্দনকানন উড়িয়ে দেওয়া হবে।
ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার আবহে এ নিয়ে কোনও উদাসীনতা দেখাতে চায়নি সিএবি। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় কলকাতা পুলিশকে। পুলিশও বাড়তি তৎপরতা শুরু করে। বাড়িয়ে দেওয়া হয় নিরাপত্তা বেষ্টনী।
সিএবি প্রেসিডেন্ট স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় বললেন, 'আমরা কোনও ঝুঁকি নিতে চাইনি। পুলিশকে জানানো হয়েছে। যা ব্যবস্থা নেওয়ার, পুলিশ নিয়েছে।'
বুধবার ইডেনে হাইভোল্টেজ ম্যাচ। মুখোমুখি কলকাতা নাইট রাইডার্স ও চেন্নাই সুপার কিংস। সেই ম্যাচের আগে বুধবার বিকেল থেকে চোখে পড়ল, মাঠের বাইরে গোষ্ঠ পাল সরণি ঘেঁষা গাড়ি পার্কিং করার জায়গায় বিশেষ তল্লাশি চালাচ্ছে কলকাতা পুলিশের বম্ব স্কোয়াড। দেখা গেল, নিরাপত্তা ব্যবস্থাও বেশ আঁটসাঁট করা হয়েছে। নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয় ইডেন চত্বর।
স্নেহাশিস জানালেন, হুমকি ই-মেলটি যে আইডি থেকে পাঠানো হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তদন্ত করছেন পুলিশ আধিকারিকেরা।
পহেলগাঁও গণহত্যার পর বুধবারই প্রত্যাঘাত করেছে ভারত। অপারেশন সিঁদুরে ধ্বংস হয়েছে একের পর এক জঙ্গি ঘাঁটি। প্রত্যাঘাতের পর সীমান্তে সতর্কতা জারি করেছে ভারত। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী-সহ বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, ডিজিপি ও মুখ্যসচিবদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
ভারতের প্রত্যাঘাতে জইশ-প্রধান মাসুদ আজহারের পরিবারের ১৪ জন সদস্য নিহত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। গুরুতর আহত মাসুদের ভাই ও ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি রউফ আসগর। ভারতের হামলায় নিহতদের মধ্যে রয়েছে রউফের ছেলে হুজাইফাও। ২৬/১১-র মুম্বই হামলার মাস্টারমাইন্ড মাসুদ আজহার। কান্দাহার বিমান অপহরণকাণ্ডে পণবন্দিদের ছাড়াতে এই মাসুদকেই মুক্তি দিয়েছিল ভারত। ২৪ ডিসেম্বর, ১৯৯৯ - ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের বিমান IC-814 অপরহণ করে আফগানিস্তানের কান্দাহারে নিয়ে যায় জঙ্গিরা। অপহৃত বিমানের ১৭৬জন যাত্রী-সহ ১৯০ জনের মুক্তির জন্য রফা করা হয়। রফা অনুযায়ী মাসুদ আজহার-সহ ৩ জেলবন্দি জঙ্গিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় জঙ্গি সংগঠন হরকত-উল-মুজাহিদিনের সদস্য ছিল মাসুদ আজহার। ২০০০ সালে জইশ-ই-মহম্মদ গঠন করে সে। পাকিস্তানের মাটি থেকেই ভারতে একাধিক নাশকতা চালিয়েছে জইশ-ই-মহম্মদ। পাঠানকোটে জঙ্গি হামলার ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করেছিল মাসুদ আজহারই, অনুমান গোয়েন্দাদের।