মুম্বই: তাঁর নেতৃত্বেই এবারের মরশুমে অভিযান শুরু করেছিল দিল্লি ক্যাপিটালস। শুরু থেকেই একের পর এক ম্য়াচে জয়। তাঁর নেতৃত্বও প্রশংসিত হচ্ছিল বারবার। কিন্তু এরপর হঠাৎ পরপর হার। যা কিছুটা চাপে ফেলে দিয়েছে এই ফ্র্যাঞ্চাইজিকে। বুধবার মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্য়াচে জয় ছাড়া কোনও রাস্তা খোলা নেই দিল্লির জন্য। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে তিনিই নেই। তাঁকে ছাড়াই একাদশ নিয়ে মাঠে নামল দিল্লি। যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন ফাফ ডু প্লেসি। কিন্তু কেন অক্ষর পটেল খেলছেন না?
হার্দিকের সঙ্গে টসের সময় ফাফকে আসতে দেখে কিছুটা অবাক হয়ে গিয়েছিলেন রবি শাস্ত্রীও। তিনি প্রশ্ন করলেন যে কেন অক্ষর খেলছেন না। তখনই কারণ জানা গেল। এই মরশুমে অক্ষরের ডেপুটির ভূমিকায় দেখা গিয়েছে ফাফ ডু প্লেসিকে। তিনি বললেন, ''অক্ষরের গত দুদিন ধরে শরীর ভীষণ অসুস্থ। তাঁর জ্বর এসেছে। তাই এই ম্য়াচে ওকে আমরা পাচ্ছি না।'' প্রোটিয়া তারকাকে আরও বলতে শোনা যায়, ''আমরা নিঃসন্দেহে ওকে মিস করব ম্য়াচে। কারণ ব্যাট ও বল দুটোতেই ও দারুণ পারফর্মার। গোটা মরশুমের দলের জন্য দারুণ পারফর্ম করেছে। শেষ পাঁছ-ছয় ম্য়াচে আমরা একেবারেই ভাল খেলতে পারিনি। তবে আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকছে।''
এদিকে, ম্য়াচে মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন দিল্লি ক্যাপিটালসের আজকের ম্যাচের অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসি। বৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় টস জেতার সঙ্গে সঙ্গে ফিল্ডিং নিতে ভুল করেননি প্রোটিয়া তারকা। বল হাতে অধিনায়কের আস্থাও রেখেছিলেন মুস্তাফিজুর রহমন। স্টার্ক না ফেরায় বাংলাদেশি পেসারকে দলে নেওয়া হয়েছিল। দুটো ম্য়াচ খেলে ফেললেন। বেশ প্রভাবও ফেললেন। তার উদাহরণ প্রথম আঘাত হানলেন রোহিত শর্মাকে ফিরিয়ে। অভিষেক পোড়েলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে গেলেন হিটম্যান। রান পেলেন না এদিন। এরপর উইল জ্য়াকস এসে ১৩ বলে ২১ রানের ইনিংস খেলেন। তিনটি বাউন্ডারি ও ১টি ছক্কার সাহায্য়ে। রিয়ান রিকেলটন ফিরে যান কুলদীপের বলে ক্যাচ দিয়ে ১৮ বলে ২৫রান করে। ৭ ওভারের মধ্য়ে মাত্র ৫৮ রান বোর্ডে তুলতেই তিন উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল মুম্বই শিবির। সেখান থেকে খেলার হাল ধরেন সূর্যকুমার ও তিলক বর্মা। দ্বিতীয়জন এদিন স্ট্রাইক রোটেট করার দায়িত্ব তুলে নিয়েছিলেন। আর উল্টোদিকে দিল্লি বোলারদের ক্লাস নেওয়ার কাজ শুরু করেন সূর্যকুমার। একটা সময় মনে হচ্ছিল কোনওমত বোধহয় দেড়শোর গণ্ডি পেরতে পারবে মুম্বই। কিন্তু সূর্যকুমার যেন অন্য় কিছু ভাবছিলেন। ৩৬ বলে অর্ধশতরান পূরণ করার পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠলেন তিনি। তিলক ফিরলেও সূর্যকে একা চাপ নিতে হয়নি। নমন ধীর এসে তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন। ২ টো বাউন্ডারি ও ২টো ছক্কার সাহায্য়ে ৮ বলে ২৪ রান করে অপরাজিত থাকেন নমন। দুজনে মিলে শেষ ৫ ওভারে চালিয়ে খেলে দলকে ১৮০-তে পৌঁছে দেন।