হায়দরাবাদ: বোলার দীপক চাহার আবেদন করেননি। উইকেটকিপার রায়ান রিকেলটন বল ধরে ফিল্ডারকে কার্যত ছুঁড়ে ফেলতে যাচ্ছিলেন। সকলকে স্তম্ভিত করে দিয়ে আম্পায়ার আঙুল তুলতে উদ্যত হন।
সেই ঘটনা দেখে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের (SRH vs MI) অধিনায়ক হার্দিক পাণ্ড্য (Hardik Pandya) উপলব্ধি করেন যে, ব্যাটার ঈশান কিষাণকে আউট দিতে চলেছেন আম্পায়ার। তিনি ও মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের কয়েকজন ক্রিকেটার মিলে হাল্কা স্বরে আবেদন করেন। বা বলা ভাল, জানতে চান, ব্যাটার আউট কি না। আম্পায়ার আঙুল তুলে জানিয়ে দেন, ব্যাটার আউট। ঈশান কিষাণও কথা না বাড়িয়ে ডাগ আউটের দিকে হাঁটতে শুরু করেন। স্কোরবোর্ডে তাঁর নামের পাশে মোটে ১ রান। ৪ বল খেলে আউট হয়ে যান ঝাড়খণ্ডের তরুণ।
বুধবার আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ বনাম মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ম্যাচে এরকমই বিরল ঘটনার সাক্ষী থাকলেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। হয়তো ক্রিকেটারেরাও। যেখানে বিপক্ষ দল কার্যত কোনও আবেদন না করতেই ব্যাটারকে আউট দিয়ে দিলেন আম্পায়ার। তার চেয়েও বড় কথা, টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, বল ঈশানের ব্যাটে লাগেনি। অর্থাৎ, ভুল সিদ্ধান্তের শিকার হন ঈশান।
যা দেখে হেসে ফেলেন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়ক হার্দিকও। তিনি ঈশানের (Ishan Kishan) হেলমেটে টোকা দিয়ে যেন সান্ত্বনা দেন। সূর্যকুমার যাদবকেও দেখা যায় কিষাণের কাছে গিয়ে হেসে কিছু বলছেন। ডিআরএস নিলে বেঁচে যেতেন ঈশান। কিন্তু তিনিও সেই পথে হাঁটেননি।
আম্পায়ারকে কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে। আইপিএলের মতো টুর্নামেন্টে এত সাধারণ মানের আম্পায়ারিং দেখে হতবাক সকলে। তুমুল বিতর্কের মুখে পড়েছেন ঈশানও। নেটিজেনদের কারও কারও বিস্ফোরক অভিযোগ, কেন ডিআরএস নিলেন না তিনি? তা হলে কি এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনও অভিসন্ধি? কেউ ঘুরিয়ে প্রশ্ন তুললেন। কেউ কেউ সরাসরি বলে দিলেন, এই ঘটনা তদন্ত করে দেখা উচিত ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের দুর্নীতি দমন শাখার। এর পিছনে স্পট ফিক্সিংয়ের মতো অভিশাপ লুকিয়ে নেই তো? সব মিলিয়ে তুলকালাম শুরু হয়েছে নিজামের শহর থেকে।