জয়পুর: অনেকে বলেন, মুম্বই ইন্ডিয়ান্স (MI vs PBKS) যেন ফুটবলের ব্রাজিলের মতো। বিশ্বকাপে শুরুর দিকে হোঁচট খেতে হলেও যত টুর্নামেন্ট এগোয়, ধারাল হতে থাকে সাম্বার দেশের ফুটবল।

মুম্বই ইন্ডিয়ান্সও চলতি আইপিএলের শুরুটা করেছিল জঘন্যভাবে। কিন্তু সেখান থেকে টানা ম্যাচ জিতে প্লে অফের টিকিট পাকা করে ফেলেন হার্দিক পাণ্ড্য়রা। শেষ পাঁচ ম্যাচের মধ্যে ৪টি জয়। সোমবার পঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে জিতলে এমনকী, পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষেও পৌঁছে যেতে পারত পাঁচবারের আইপিএল চ্যাম্পিয়নরা। শুরুর চাপ কাটিয়ে যখন সূর্যকুমার যাদব, হার্দিক পাণ্ড্যরা মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে কঠিন দেখানো পিচে ১৮৪/৭ স্কোরে পৌঁছে দিল, ভিআইপি দর্শকাসনে বসা পঞ্জাব কিংসের মালকিন প্রীতি জিন্টার মুখও যেন ফ্যাকাসে।

তার ওপর রান তাড়া করতে নেমে দীপক চাহারের প্রথম ও ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারই মেডেন হজম করে বসলেন পঞ্জাব কিংসের দুই ওপেনার। একবার জীবন পেয়েও ১৬ বলে ১৩ রান করে ফেরেন প্রভসিমরন সিংহ। ভয়ঙ্কর দেখাতে শুরু করেছে ট্রেন্ট বোল্ট, চাহারদের। সেই সঙ্গে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বোলিং তূণে রয়েছে এমন এক অস্ত্র, যিনি প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের আতঙ্ক। যশপ্রীত বুমরা। তখনও পর্যন্ত মনে হচ্ছিল, শেষ হাসি হাসবেন হার্দিকরা।

কিন্তু অন্যরকম কিছু ভেবেছিলেন প্রিয়াংশ আর্য ও জস ইংলিস। দুজনই করলেন হাফসেঞ্চুরি। দ্বিতীয় উইকেটে ৫৯ বলে ১০৯ রানের পার্টনারশিপ গড়ে ম্যাচকে কার্যত একপেশে করে দিলেন দুই তারকা। দুজনের ব্যাটের চাবুকে জব্দ মুম্বইয়ের বোলিং। ৯ বল বাকি থাকতে ৭ উইকেটে মুম্বইকে হারিয়ে দিল পঞ্জাব। ১৯ পয়েন্ট পেয়ে তালিকার শীর্ষে উঠে গেল। নিশ্চিত হয়ে গেল, প্রথম দুইয়ে থাকবেনই শ্রেয়স আইয়াররা।

প্রিয়াংশ ৩৫ বলে ৬২ রান করলেন। ৪২ বলে ৭৩ ইংলিসের। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বোলিংকে সাধারণের স্তরে নামিয়ে আনলেন দুই তরুণ। শেষ দিকে ১৬ বলে ২৬ রানে অপরাজিত রইলেন শ্রেয়স আইয়ার। ম্যাচের সেরা হয়েছেন ইংলিস।

 

১৪ ম্যআচে ১৯ পয়েন্ট হল পঞ্জাবের। তারাই এখন গ্রুপ শীর্ষে। দুইয়ে রয়েছে গুজরাত টাইটান্স। ১৮ পয়েন্ট শুভমন গিলদের। তবে মঙ্গলবার লখনউ সুপার জায়ান্টসকে হারিয়ে দিতে পারলে প্রথম দুইয়ে উঠে আসবে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুও। সেক্ষেত্রে পঞ্জাবের সঙ্গে কোয়ালিফায়ার ওয়ান খেলবেন বিরাট কোহলিরা।